সৌরভ হোসেন
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৩ এএম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৯ এএম
সবজির দাম শুনে হিসাব মেলাতে পারছেন না ক্রেতা। শুক্রবার ঢাকার পলাশী কাঁচাবাজারে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তি ব্যয়ের আগুনে পুড়তে শুরু করেছে ক্রেতা-সাধারণ। পরিবহন থেকে খাদ্য, রান্না থেকে কৃষিÑ প্রায় সব খাতেই খরচ বাড়ছে দ্রুতগতিতে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। মাছ-মাংসের দাম যখন বেশি হয় তখন সবজির ওপর নির্ভরতা বাড়ে স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষের। কিন্তু আলু, পেঁপে, টমেটো ও গাজর ছাড়া বেশিরভাগ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। এমনকি গ্রীষ্মের সবজি বেগুন, পটোল, ঢেঁড়সের দামও ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাবাজারের ঊর্ধ্বগতিতে ভোগান্তিতে পড়েছে ক্রেতারা। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা।
বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি পর্যায় থেকেই বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনকারীর কাছ থেকে পণ্য ভোক্তা পর্যায়ে নিয়ে আসতে ব্যয় বেশি হয়। এ কারণেই মূলত দাম বেশি দাঁড়ায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজি, মাছ ও মাংসের বাজারে প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বেশিরভাগ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। বিশেষ করে বেগুন, টমেটো, শিম, করোলা, কাঁকরোল, ঢেঁড়সের দাম এখন আকাশছোঁয়া।
গতকাল মালিবাগের কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করোলা ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা। এ ছাড়া ঢেঁড়স ও কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা করে। সবজির মধ্যে সালাদসামগ্রী টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। কমের মধ্যে শুধু আলুর দাম মানভেদে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে চোখ রাঙাচ্ছে পেঁপে, বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া ছোট সাইজের মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি, বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ ও লাউ প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। লেবুর হালি পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকায়।
অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া সোনালি জাতের মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ৪৫০ টাকায় ঠেকেছিল। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে।
সবজির পাশাপাশি চালের বাজার কিছুটা বাড়তি। সরু চালের দাম কেজি প্রতি ৭০-৮৫ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫-৬৮ টাকা এবং মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকার মধ্যে । মিনিকেট চালের দাম মানভেদে প্রতি কেজি ৭৫-৯৫ টাকা। আমন ও বোরো চালের দর অনুযায়ী, মোটা চাল ৪৮-৫০ টাকা এবং সরু চাল ৬৬-৭৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার মালিবাগের কাঁচাবাজারে কথা হয় অপুর্ব রায় নামে ক্রেতার সঙ্গে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিজের অনুভূতির কাথা জানান তিনি। অপূর্ব বলেন, আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ, বাজারে পণ্যের দাম এত বেশি যে সব হাফ হাফ করে কিনেছি। সবজির যে দাম কোনটা কিনব কিছুই বুঝতাছি না। আধাঘণ্টা ধরে ঘুরে বাজারের এ-পাশ থেকে অন্য পাশ ঘুরছি, কিছুই কিনতে পারছি না। শেষে অল্প অল্প করে কিছু সবজি কিনছি। তার ভাষ্যমতে, বাজারে পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি যদি এভাবে চলতে থাকলে যে বেতন পাই, তা দিয়া আমাদের মতো মানুষের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
শুধু অপূর্ব নন, দেশের বেশিরভাগ মানুষই এখন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা বিপাকে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি। শুরুতেই চাপ পড়েছে তাদের খাবার টেবিলে।