আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম ও মাহরিব বিন মুহসিন, ঢাবি
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৪ এএম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৬ এএম
জাতীয় রাজনীতির ইতিবাচক অবস্থানের বিপরীতে উল্টো চিত্র বিরাজ করছে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের মধ্যে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে ব্যাপকভাবে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল একজোট। জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। এতে বিরোধী দল সম্মত হয়, কমিটিও গঠিত হয়েছে। যেকোনো সংকট উত্তরণে এমনটাই হওয়া উচিত। জাতীয় রাজনীতির এই ইতিবাচক অবস্থানের বিপরীতে উল্টো চিত্র বিরাজ করছে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের মধ্যে। ইতোমধ্যে এ দুটি ছাত্র সংগঠন জড়িয়েছে সংঘর্ষে। এখনও রয়েছে মারমুখী অবস্থানে। অশান্ত হয়ে উঠছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের ক্যাম্পাস। এমন পরিস্থিতি তৈরির পেছনে সরাসরি ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ’ ও আরো গভীরে অন্য একটি কুচক্রী মহল বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘাত থেকে। এ সংঘাত পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে যে ঘটনা, তার নেপথ্যে রয়েছে ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের’ ইন্ধন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে যে কুৎসিত ক্যাম্পেইনÑ তা ছাত্রলীগ থেকে উৎসারিত, যা শেয়ার করেছে ছাত্রশিবির। এতে বোঝা যাচ্ছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।
গ্রেপ্তার-বহিষ্কারের দাবি, পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন ঢাবি ও ছাত্রদলের
শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদপত্র বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্য অফিস সংলগ্ন আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অভিযোগপত্র জমা দেন তারা।
অভিযোগপত্রে মোট ১২ জন হামলাকারীর নাম, বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ, আবাসিক হল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা হয়। সাংবাদিক সমিতির দাবিÑ হামলায় জড়িত সব শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে; যেসব হামলাকারীর ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে (স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন) তদন্তসাপেক্ষে তাদের সনদপত্র বাতিল করতে হবে। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন জড়িত ছিল। তাদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদেরও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমি এ ঘটনার জন্য আপনাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তাৎক্ষণিকভাবে দুটি কমিটি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ১০ সাংবাদিক ও দুই ডাকসু নেতা হামলার শিকার হন। ভুক্তভোগীরা এ সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন।
ছাত্রলীগের পেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির কর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ফেসবুক পেজের ‘ফেক স্ক্রিনশট’ ছড়ানো হয়Ñ যেখানে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য ছিল। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (২০১৯-২০ সেশন)। যিনি সর্বশেষ ডাকসুতে কার্যকরী সদস্য পদে প্রার্থী ছিল ছাত্রশিবিরের প্যানেলে। মাহমুদ পরাজিত হয় নির্বাচনে। ফেসবুকে স্ক্রিনশটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় ছাত্রদল। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মামলা করতে শাহবাগ থানায় গেলে ছাত্রদলের ক্ষোভের মুখে পড়ে। তাকে উদ্ধার করতে যায় ডাকসুর নেতা জুবায়ের ও মোসাদ্দেক। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা নিউজ কাভার করতে যায়। এ সময় শাহবাগ থানার ভেতরে ছাত্রদলের হামলায় জুবায়ের, মোসাদ্দেকসহ সাংবাদিকরা আহত হন।
ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরদিন গতকাল শুক্রবার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ফেসবুক পোস্টে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।’ তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সংগঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অন্যান্য সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ডাকসু। জাতীয় ছাত্রশক্তি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক সমিতির তিন দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি হামলাকে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত বিচার দাবি করেছে। এ ছাড়া নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ
ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পৃথকভাবে একাধিক কমিটি গঠন করেছে। ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি তদন্তে একটি কমিটি ও শাহবাগ থানায় হামলার ঘটনায় সহকারী প্রক্টরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে এবং কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বাঁধা দিচ্ছে ছাত্রশিবির, অভিযোগ ছাত্রদল নেতাদের
চট্টগ্রাম সিটি কলেজের দেয়ালের গ্রাফিতিতে লেখা ছিল, ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। সেখানে ছাত্র কেটে ‘গুপ্ত’ লিখে দেয় ছাত্রদলের নেতারা। সেই কাটাকাটিকে কেন্দ্র ‘রাজনীতি মুক্ত’ সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘাতে জড়ায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল। পরে ওই সংঘাত ছড়িয়ে পরে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে এমন মুখোমুখি অবস্থানে ঠেলে দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো পক্ষ ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘাতের জেরে পাবনা থেকে ঢাকা সব এলাকার ক্যাম্পাসেই ছড়িয়েছে উত্তেজনা। সর্বশেষ শাহবাগ থানার ভেতর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার হন ডাকসুর দুই নেতা জুবায়ের ও মোসাদ্দেক।
এই সংঘাত উত্তেজনার নেপথ্যে শুধুই একটি শব্দÑ এমন ধারণা তৈরি হলেও প্রকৃত বাস্তবতা এমন নয় বলে মনে করছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজের ছাত্র নেতা ও শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, পরিচয় গোপন করে নানা নামে ক্যাম্পাস দখল করে সেসব ক্যাম্পাসে অন্য ছাত্রসংগঠনের রাজনীতি করার অধিকার হরণ করছে ছাত্রশিবির। হঠকারিতায় ভরা এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সব ক্যাম্পাসেই দীর্ঘদিন ধরে গুমোট ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। যার বিস্ফোরণ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হয়েছে। এটি শুধু একটি ক্যাম্পাসের, একটি শব্দের দ্বন্দ্ব নয় বরং চট্টগ্রামের সব কলেজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ। পরে যা সারা দেশে ছড়িয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘৫ আগস্ট ২০২৪-এর বিকালেই আশপাশের এলাকার জামায়াত নেতাদের নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসীন কলেজের হলগুলো দখলে নেয় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা নিজেদের সমন্বয়ক ঘোষণা করে ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ছাত্রশিবিরের বাইরে যারা সমন্বয়ক ছিল তাদের মারধর করে বের করে দেয়। ক্যাম্পাসে কাগজে-কলমে এখনও হোস্টেল চালু না। কিন্তু তারা হোস্টেলগুলোতে তাদের নেতাকর্মীদের তুলেছে। বাকিরা যাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারে সেজন্য কয়েকদিন পর পর ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ধোঁয়া তুলছে। যারা এটা বলে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রশিবিরের সব কর্মসূচিতে যায়। ক্যাম্পাসেও তারা ছাত্রশিবিরের রাজনীতিই করে। কিন্তু তাদের কমিটি প্রকাশ করে না।
চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রদল যখনই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গেছে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ দফায় ছাত্রদলের ওপর সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেÑ এমন দাবি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের নেতাদের।
এই একই অবস্থা চট্টগ্রাম মহসীন কলেজ ও সিটি কলেজেরও। চট্টগ্রাম পলেটেকনিক্যাল কলেজ ও কমার্স কলেজেও একই চেষ্টা হলেও ওইসব ক্যম্পাসের আশপাশে জামায়াতের শক্ত অবস্থান না থাকায় সেগুলোতে এমনটা সম্ভব হয়নি জানিয়ে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেনÑ এসব কারণে ওইসব ক্যাম্পাসে সহঅবস্থানের রাজনীতি চালু আছে। কিন্তু যেসব ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির অবস্থান নিতে পেরেছে, তারা নানাভাবে সহাবস্থানের রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করে চলছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর কলেজ সমন্বয়ক পরিচয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইবনে হোসাইন জিয়াদ ও মতিউর রহমান ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। পরে বিভিন্ন সময়ে এই দুজনকেই মহানগর ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা গেছে। যদিও তারা কখনোই স্বীকার করেনি, তবে ক্যাম্পাসের সব শিক্ষার্থীর কাছেই তারা দুজনে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, “তারা পরিচয় গোপন রেখে শিবিরের সব প্রোগ্রাম করে। সাদিক কায়েম এখানে অনুষ্ঠান করে। জিজ্ঞেস করলে বলে ডাকসুর প্রতিনিধি তিনি। সেই সাদিক কায়েম ছাত্রশিবিরের প্রোগ্রামেও এলো দুদিন আগে। এই যে হীনমন্যতা এটার বিষয়ে আমরা কলেজ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন কারও কাছে সহযোগিতা পাইনি। এসব বিষয়ে কথা বলতে মতিউর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।”
যে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্বের শুরু সেই গুপ্ত লেখার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল নেতা আক্কাস বিন আবেদিন। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, “ছাত্রদল ছাত্রশিবির দুই সংগঠনই এখন প্রকাশ্য রাজনীতি করে। কিন্তু ক্যাম্পাসের দেয়ালে লেখা ছাত্র রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস। এখানে আমরা ছাত্র কেটে গুপ্ত লিখলাম। সেটা নিয়ে শিবিরের নেতারা ফেসবুকে ট্রল-গালাগালÑ যা তা করল। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস শব্দটা আমার যেমন খারাপ লেগেছে, রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী হিসেবে তাদেরও খারাপ লাগার কথা। প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেদের অস্তিত্বের বাইরে অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসের দাবি করে বাকিদের রাজনীতি করার অধিকার হরণ করতে চায়। চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজে তারা সেটাই করেছে। বাকি ক্যাম্পাসগুলোতেও একই জিনিস চায়। তাদের এই হীনমন্যতার বিরুদ্ধেই সব ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে প্রতিরোধ করেছে।”
ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতির পথ রুদ্ধ করছে ছাত্রশিবির-ছাত্রদল নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রশিবিরের উত্তর শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক রাকিব হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সভাপতির সঙ্গে কথা বলে পরে এই বিষয়ে জানাবেন বলে জানান। পরে আর কিছু জানাননি।
সিটি কলেজে দুপক্ষের সংঘর্ষ শুধু ওই কলেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে কমার্স কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে। তার ঠিক পাশেই একজনকে রামদা বের করতে দেখা গেছে। রামদা হাতে দেখা গেছে এমইএস কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মির্জা ফারুককে। ছাত্রদের বাইরে রিয়াজুদ্দিন বাজার টেরিবাজারের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদেরও সংঘর্ষের সময় লাঠি হাতে দেখা গেছে তামাকুন্ডী লেইন বণিক সমিতির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ছাদেক হোসাইনকে। সাতকানিয়ার এই বাসিন্দা সেখানকার সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এসব ঘটনায় প্রমাণ হয় কোনো একটি পক্ষ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর চট্টগ্রামে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি অংশের গোপণ সম্পর্কের কথা সুবিদিত। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের এই সংঘাতের পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ভূমিকা থাকতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণের সুযোগ নেইÑ অর্থমন্ত্রী
বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণের কোনো সুযোগ নাই বলে মন্তব্য করে করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “আইনের বাইরে যাওয়ার কারোর কোনো সুযোগ নাই।” তিনি গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত যেন ঢুকতে না পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করবে, এখানে দলীয়করণের কোনো সুযোগ নাই।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের অন্যতম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে উদ্যোগ নিতে হবেÑ এক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা করব।”