× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পুলিশে আরও বাধ্যতামূলক অবসর, তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

তানভীর হাসান

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৪ পিএম

বাংলাদেশ পুলিশে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। তালিকায় রয়েছেন ১৫, ১৭ ও ১৮ ব্যাচের কর্মকর্তারা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাংলাদেশ পুলিশে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। তালিকায় রয়েছেন ১৫, ১৭ ও ১৮ ব্যাচের কর্মকর্তারা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাংলাদেশ পুলিশে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। তালিকায় রয়েছেন ১৫, ১৭ ও ১৮ ব্যাচের কর্মকর্তারা। তাদের বেশিরভাগ এখনও সংযুক্ত ও ওএসডি অবস্থায় রয়েছেন।

এর পাশাপাশি আগামী মে মাসে ২০ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তার বয়সও ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ওই ব্যাচ থেকেও অনেককে অবসরে পাঠানো হতে পারে।

এসব ক্ষেত্রে নিরীহ কেউ বলির পাঁঠা হচ্ছেন না বলে দায়িত্বশীল সূত্রটি দাবি করেছে।

সূত্রমতে, তালিকায় থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সরকারবিরোধী অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ও সংযুক্ত থাকা অবস্থায় তারা ‘সরকারবিরোধী গোপন বৈঠক’, ‘তথ্য ফাঁস’ ও ‘রাজনৈতিক তৎপরতা’ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে। এ ধরনের তথ্য হাতে পাওয়ার পর কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার।

চাকরিবিধিতে থাকা বিষয়কে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ কম

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “বাধ্যতামূলক অবসর চাকরিবিধিতেই আছে। যখন চাকরিবিধিতে থাকে, তখন সেটাকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ কম। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক কিংবা কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে নির্দিষ্ট সময় পর অনেককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপরাধের ধরন বা সময়কাল যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না।’ তিনি বলেন, ‘অভিযোগের ধরন ও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যদি স্পষ্ট থাকে, তাহলে গৃহীত সিদ্ধান্তে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়।”

তৌহিদুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে যাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে, তাদের অনেকেই আবার আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চাকরি ফিরে পেয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ওই প্রক্রিয়া ও অভিযোগের ধরনের মধ্যে আইনগত ব্যত্যয় ছিল। কেউ যাতে কোনো রোষানলে না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। 

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “রাজনৈতিক বিবেচনায় যদি এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তাই রাজনৈতিক বিবেচনা বা ব্যক্তিগত রোষানলের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে বিরোধী মতে সম্পৃক্ত থাকলে অনেকেই পদোন্নতি থেকে শুরু করে নানা ধরনের বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এই সংস্কৃতি কখনোই ইতিবাচক হতে পারে না।”

নানা অপকর্মে লিপ্ত অনেক কর্মকর্তা

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক পুলিশ কর্মকর্তা অতিউৎসাহী হয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। ২০২৪-এর সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় অনেকে বেপরোয়া হয়ে নিরীহ জনগণের ওপর হামলা ও গুলি চালান। অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম এবং খুনের সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগও রয়েছে। এসব অপকর্মের কারণে সরকার পতনের পর অনেকে পালিয়ে যান। আবার অনেককে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাসপেন্ড ও সংযুক্ত করে রাখা হলে ওই অবস্থায় থেকেও তারা বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকার পতনের পর এদের কারও কারও নামে খুনের মামলার তদন্তও চলছে। সেখানে কারও নামে চার্জশিট হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভালো কর্মকর্তাদের ফের পদায়ন

পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত অনেক কর্মকর্তা এখনও ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে রয়েছেন। অথচ তাদের ব্যাচের অনেকেই প্রমোশন পেয়ে গেছেন। পুলিশে কাজের গতি এবং ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে বাধ্যতামূলক অবসরের পথে হাঁটছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এখনও যেসব কর্মকর্তা সংযুক্ত ও ওএসডি অবস্থায় রয়েছেন তাদের মধ্যে থেকে ভালো কর্মকর্তাদের ফের পদায়নের চিন্তাও করা হচ্ছে।’ 

ওই কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমানে বিগত সরকারের আমলে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের আমলনামা পর্যালোচনা চলছে। তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের তালিকাও পাঠানো হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজির দায়িত্বে রয়েছেন কেউ কেউ। পুলিশের বড় একটি পক্ষ তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর জন্য সরকারের ওপর জোর চাপ সৃষ্টি করছে। আবার অন্য একটি পক্ষ চাইছে, পেশাদারত্ব বজায় রেখে যদি তারা প্রশাসনে কাজ করেন, তাহলে অবসরের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত থেকে সরকারের সরে আসা উচিত। কারণ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠপর্যায়ে দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তার প্রয়োজন রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরকার কোনোটাই না রাখলে তখন অবসরের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।”

বাধ্যতামূলক অবসরে ১৩ কর্মকর্তা

গত বুধবার উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ও অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শকসহ (ডিআইজি) পুলিশের ১৩ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭নং আইন)-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের এই অবসর দেওয়া হয়। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেনÑ পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি ড. এএফএম মাসুম রব্বানী, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাখাওয়াত হোসেন, রংপুর পিটিসির কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) (পলাতক) মো. আশরাফুজ্জামান, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি এজেডএম নাফিউল ইসলাম, নৌপুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মো. মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মাহফুজুর রহমান, এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি মো. মুনিবুর রহমান, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন, পুলিশ সদর দপ্তরের (টিআর) ডিআইজি শামীমা বেগম, শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি মো. আবু কালাম সিদ্দিক, পুলিশ টেলিকমের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম এবং এপিবিএনের (পার্বত্য জেলা) ডিআইজি সালমা বেগম। 

এদের মধ্যে ডিআইজি নাফিউল ইসলামের বিরুদ্ধে এসবির ডিআইজি (পলিটিক্যাল) থাকা অবস্থায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের তালিকা করে বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশের অনেক কর্মকর্তার নামেও ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারকে পাঠাতেন নাফিউল। এ কারণে অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে যাওয়ায় পুলিশের ভেতরেই তাকে নিয়ে অস্বস্তি দেখা দেয়। এমনকি তাকে গ্রেপ্তারের দাবিও তুলেছেন অনেকে। পুলিশের ভেতর থাকা এমন কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে বাধ্যতামূলক অবসরের চিন্তাও করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সচিব একেএম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, “পুলিশের বর্তমান পরিস্থিতি আসলে দীর্ঘদিনের দলীয়করণের ফল। স্বাধীনতার পরও এ প্রবণতা ছিল। তবে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকালে তা সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছে। ফলে এখন নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে অনেক কর্মকর্তা চাকরি হারাচ্ছেন। কারও ক্ষেত্রে তা ন্যায্য, আবার কারও ক্ষেত্রে অন্যায়ও হতে পারে। তাই সরকারকে সতর্ক হতে হবে, যাতে ‘অতিউৎসাহী’ পদক্ষেপে দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা