× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বিনা বেতনে চার শিক্ষকের পাঠদান

সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৪ এএম

জরাজীর্ণ টিনের ঘর, নেই বিদ্যুৎ-ফ্যান, নেই ন্যূনতম অবকাঠামো—তবু চার শিক্ষক বিনা বেতনে চালিয়ে যাচ্ছেন চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

জরাজীর্ণ টিনের ঘর, নেই বিদ্যুৎ-ফ্যান, নেই ন্যূনতম অবকাঠামো—তবু চার শিক্ষক বিনা বেতনে চালিয়ে যাচ্ছেন চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ভায়েলা-মিয়াবাড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সরকারীকরণের আলো দেখেনি।

জরাজীর্ণ টিনের ঘর, নেই বিদ্যুৎ-ফ্যান, নেই ন্যূনতম অবকাঠামো—তবু চারজন শিক্ষক বিনা বেতনে চালিয়ে যাচ্ছেন চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান।

অবহেলা আর বঞ্চনার এই বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভায়েলা, মিয়াবাড়ি, মুরাবো, গোপালিয়াবাড়ী ও আজিজ নগর এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্যই ১৯৯২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। 

প্রয়াত শিক্ষক সুফিয়া বেগম ও তার স্বামী হাজী আইয়ুব আলী ভূঁইয়া ৩৩ শতাংশ জমি দান করে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন বলেও জানা যায়।

আরও জানা যায়, তাদের নির্মিত সেই ঘরেই এখনও চলছে শিক্ষাক্রম। আশপাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দূরত্ব ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার হওয়ায় এই বিদ্যালয়টিই এলাকার শিশুদের একমাত্র ভরসা।

মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বিনা বেতনে পাঠদান

বর্তমানে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন চারজন শিক্ষক—আবু সুফিয়ান, শাহিনুর বেগম, রুবিঢয়া আক্তার ও সোনিয়া আক্তার। তারা সবাই এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বছরের পর বছর বিনা বেতনে পাঠদান করে যাচ্ছেন। কিন্তু নেই কোনো সরকারি সহায়তা বা সুযোগ-সুবিধা।

দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। টিনের ছাউনি ভাঙাচোরা, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আবার বৃষ্টি এলে টিন  চুঁইয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায় বলেও জানা যায়।

আরও দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে কোনো টয়লেট নেই। এর পাশাপাশি বাউন্ডারি না থাকায় পাশের পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে শিশুদের।

মাদকসেবীদের আনাগোনায় নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

স্থায়ী কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রায়ই মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, মাদকসেবীরা দিনের আলোতেও স্কুলে এসে মাদক গ্রহণ করে এবং প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়। অনেক সময় বিদ্যালয়ের সামগ্রীও চুরি হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে উঠছে বলেও জানান শিক্ষকরা।

অভিভাবকেরা জানান, তাদের সন্তানদের পড়াশোনার একমাত্র ভরসা এই বিদ্যালয়। কিন্তু অবকাঠামোগত দুরবস্থা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে শিশুদের শিক্ষা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা দ্রুত সরকারীকরণ ও উন্নয়নের দাবি জানান।

জমিদাতার মেয়ে শামীমা সুলতানা ওমা ও ছেলে শফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, তাদের বাবা-মা দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার কথা ভেবেই জমি দান করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তারা চান, বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পান।

প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বলেন, এলাকার দরিদ্র শিশুদের কথা ভেবেই তারা বিনা বেতনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার নিজের সন্তানরাও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। 

সরকারি সহায়তা পেলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফল করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংস্কারের আশ্বাস এমপি দিপু ভূঁইয়ার

ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে আলমারিসহ কিছু মালামাল দিয়েছিলাম।

তবে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও সরকারি বরাদ্দ ছাড়া স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয় জানান, বরাদ্দ এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্যর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা আশা করছি অচিরেই স্কুলটিকে সরকারীকরণ করতে পারব।

বিদ্যালয় এলাকায় মাদকবিরোধী নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানতো দূরের কথা যেখানেই মাদকের বিষয়ে আসবে সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ না হওয়া দুঃখজনক। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পায় এবং শিক্ষকরাও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

এরই মধ্যে আমি শিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। রূপগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমাদের সরকার অনেকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর পাশাপাশি জরাজীর্ণ ও বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে এমন বিদ্যালয়গুলোকে সংস্কার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা