সৌরভ হোসেন
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২৮ এএম
ডিম একটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য, যা মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আচানক দাম চড়েছে ডিমের, আক্রা হয়ে উঠেছে গরীবের প্রোটিন আন্ডা। মাছ-গোশতের চড়া দামের কারণে এই ডিমই যাদের ভরসা, তারা এখন বাধ্য হয়ে কমিয়ে দিচ্ছেন ডিম খাওয়া।
ডিম একটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য, যা মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডিমের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে নানা প্রভাব ফেলছে। ঢাকার খুচরা বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি ডজন ডিমের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে; কিন্তু এখন বেড়ে ১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম ডজনে ২০ টাকা বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খামার পর্যায়ে উৎপাদন কমে যাওয়া, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহে টান পড়ায় ডিমের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ঢাকার শান্তিনগর, মৌচাক, রামপুরা কাঁচাবাজার ও বসুন্ধরা কাঁচাবাজারসহ আরও অনেক বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকা এবং সাদা ১২৫-১৩০ টাকায়। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ২২০ টাকায়।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত এবং শ’তে বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে প্রতি ডজন ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারেই দাম বাড়ছে, ফলে খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়ছে।
শান্তিনগর বাজারের ডিম বিক্রেতা সফিউল বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়লেই আমাদেরও বাড়াতে হয়। গত কয়েক দিনের মধ্যেই ডজনে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। সামনে আরও বাড়তে পারে। কোনো ঘাটতি আছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাজারে ডিমের কোনো ঘাটতি নেই; তবে এ সময় এলেই প্রত্যেক বছর দাম বাড়ে। এই বছরে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে তাই ডিমে প্রভাব পড়েছে।
আরেক বিক্রেতা জানান, খামার থেকে আগের মতো নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। গরম মৌসুমে খামারে উৎপাদন কিছুটা কমে যায়। এ সময় খাদ্যসহ উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ বাড়লে বাজারে তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।
খামারি ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে খামার পর্যায়ে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি খামারিদের একটি বড় অংশ লোকসানের কারণে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা খামার বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের মতে, খাবার, ওষুধের দাম এত বেশি কিন্তু সে তুলনায় ডিমের দাম না পাওয়ায় অনেকে লোকসানের মুখে খামার বন্ধ করে দিয়েছে। এরকম পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে ডিমের সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে এবং দামও বেড়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, বর্তমানে পোল্ট্রি খাত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রান্তিক খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পোল্ট্রি খাত এখন করপোরেট মাফিয়াদের হাতে চলে গেছে। প্রতিটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৩-৪ টাকা লোকসান হচ্ছে। উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ২৯ পয়সা। সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার খামারি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
তার মতে, ফিডসহ অন্যান্য উপকরণের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বাজার তদারকির অভাব এবং করপোরেট সিন্ডিকেটের চাপও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।