× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্কে কিশোরগঞ্জবাসী

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৮ এএম

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, হাঁটার পথ ও জনসমাগমস্থলে বখাটে ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

শহরের খরমপট্টি এলাকার বাসিন্দা আবিদ হোসেন জানান, তার মেয়েকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য এইচএসসি ফলাফলের মার্কশিট সংগ্রহ করতে কলেজে যেতে হয়। কিন্তু মেয়েটি নরসুন্দা নদীর মুক্তমঞ্চ ও ওয়াচ টাওয়ার সংলগ্ন ঝুলন্ত সেতুর পথ দিয়ে যেতে ভয় পায়। কারণ ওই এলাকায় সকাল ১০টার পর থেকেই কিশোর গ্যাং সদস্যদের আড্ডা, অশ্লীল মন্তব্য ও উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটে। পরে বাধ্য হয়ে মেয়েটিকে বড় বোনের সঙ্গে অটোরিকশায় পাঠানো হয়।

জানা গেছে, শহরের ৮টি কলেজ ও অসংখ্য বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী ছাত্রীদের প্রায়ই এসব গ্যাংয়ের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছরে কিশোরগঞ্জ শহরে কিশোর গ্যাংয়ের শতাধিক সহিংস ঘটনায় প্রায় দেড়শ মানুষ আহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ৪০ জন গুরুতর। শহরের গাইটাল-শ্রীনগর, রাকুয়াইল-শিক্ষক পল্লী, হারুয়া-হয়বতনগর, নগুয়া-বত্রিশ, চরশোলাকিয়া-শোলাকিয়া, উকিলপাড়া, খরমপট্টি এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০টির বেশি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।

গত তিন মাসে নরসুন্দা নদীর পাগলা মসজিদ এলাকা থেকে গৌরাঙ্গ বাজার ওয়াকওয়ে পর্যন্ত অন্তত ৪০টি ছিনতাই ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই থানায় অভিযোগ করতে সাহস পান না। সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রীদের উত্যক্ত করা, পথচারীদের মারধর, চাঁদাবাজি ও চুরির ঘটনা বেড়েছে। 

এলাকাবাসী জানান, গত এক বছরে সারা শহরে এসব কিশোর গ্যাং শতাধিক সন্ত্রসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে গুরুতর জখম করেছে দেড়শ মানুষকে। গত ৮ এপ্রিল সন্ধ্যার পর শহরের খরমপট্টি সরকারি পুকুরপাড়ে সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী কোচিং হোম থেকে ফেরার সময় একদল কিশোর গ্যাং সদস্য তার পথরোধ করে নানা অশ্লীল কথা বলে। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা গালাগাল করে চলে যায়।

কোচিং সেন্টারের মালিক মো. রুহুল আমিন খসরু বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতায় কোচিংয়ে শিক্ষার্থীরা আসতে ভয় ও আতঙ্কে থাকেন। সম্প্রতি শহরের থানার পেছনে একদল কিশোর সন্ত্রাসী কিছু বুঝে উঠার আগেই স্কুলছাত্র ফারদিনকে পিটিয়ে আহত করে। 

এলাকাবাসী জানান, ১৫ বছরের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনেই শহরের কোচিং সেন্টারে সামনে বিশৃঙ্খা সৃষ্টি করে এবং মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে আসছে। গত ১২ এপ্রিল একরামপুরে ১০-১২ জনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সিলেট থেকে আসা রাইসুল ইসলামকে ‘বড় ভাই’ বলে ধাক্কা দিয়ে ১০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে তিনি একটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে কোনোভাবে রক্ষা পান। 

গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সম্মান শ্রেণির একাধিক ছাত্রী জানান, কিশোর-তরুণদের সিকি ভাগ বহিরাগত। তারা স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে মিলে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। খরমপট্টি এলাকার আসিফুর রহমান শাহীল জানান, গত দেড় মাসে এলাকার অন্তত ৩০টি বাড়ির বৈদ্যুতিক ও টেলিফোনের তার চুরি হয়েছে। এসব কাজে সরাসরি কিশোর গ্যাং সদস্যরা জড়িত। জোড়াপুকুর পাড়ের বাসিন্দা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা দেবরাজ রায় বলেন, সন্ধ্যার পর এসব দলের সদস্যরা চুরি ছিনতাইয়ে লিপ্ত হয়। গত এক মাসে জোড়া পুকুর ও সরকারি পুকুর এলাকায় অন্তত ২৫টি বাড়ির বৈদ্যুতিক তারসহ নানা জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাংগুলো শহরের বিভিন্ন সিএনজি স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য হামলা-পাল্টা হামলা চালাতেও দেখা যায়। এ সময়ও তারা রাস্তায় পথচারীদের চাপাতির আঘাতে আহত করে। অভিযোগ রয়েছে এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ে কতিপয় নেতার প্রভাবে কিশোর গ্যাংগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে।

গত শনিবার কয়েকজন কিশোর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে যশোদল নেওয়াপাড়ার কিশোর গ্যাং নেতা রাসেল জানায়, আগে ছোটখাটো মারামারি করলেও গত কিছুদিন হলো সব বাদ দিয়ে ভালো হয়ে চলছি। চর শোলকিয়ার এক কিশোর সন্ত্রাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বন্ধু-বান্ধব সমস্যায় পড়লে তাদের রক্ষা করাতে কোনো কোনো সময় চাকু-চাপাতি নিয়ে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়। নিজেদের বিপদ কাটাতে বড় ভাইদের দ্বারস্থ হতে হয়।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবদুল গণি জানান, পরিবারে নজরদারির অভাব, সামাজিক অবক্ষয় ও প্রযুক্তির অপব্যবহারÑ কিশোরদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিশোর গ্যাং সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। আইনজীবী নাসির উদ্দীন ফারুকী বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য শহর থেকে শুরু করে মফস্বল এলাকাতেও ক্রমেই বাড়ছেÑ যা সমাজে অস্থিরতা ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করছে। অধ্যাপক করিমউল্লাহ নাদিম জানান, সন্ধ্যার পর তারা দলবেঁধে মোবাইলফোনে নানা অসামাজিক বিষয় দেখছে। পরে এসব তাদের নিত্যদিনের কাজে ব্যবহার করতে চায়।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম জানান, কিশোর গ্যাং দমনে ইতোমধ্যে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং টহল ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা