তোফাজ্জল হোসেন কামাল
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪২ এএম
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে এনভায়রনমেন্টাল, সাইবার, এভিয়েশনসহ নতুন ১১ ইউনিট। ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান বিএনপি সরকারের ইশতেহার ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনের অগ্রাধিকার হিসেবে ময়মনসিংহবাসী পাচ্ছেন স্বতন্ত্র মেট্রোপলিটন পুলিশ। ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন পুলিশ (এমএমপি) গঠন হলে বাংলাদেশে মেট্রোপলিটন পুলিশের সংখ্যা হবে ৯টি। এ ছাড়া পুলিশকে যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে এনভায়রনমেন্টাল, সাইবার, এভিয়েশনসহ নতুন ১১ ইউনিট। এই ইউনিটগুলো গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এসব পরিচালনা করাসহ বিদ্যমান শূন্য পদগুলো পূরণে জনবল লাগবে ৩২ হাজার ৯৫৪ জন। নতুন এই ১১টি ইউনিট গঠিত হলে গোটা পুলিশ বাহিনীতে ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৯৯৫টি। বর্তমানে এই বাহিনীর ইউনিট সংখ্যা ১৯৮৪টি। গোটা বাহিনীতে জনবল বেড়ে হবে ২ লাখ ৫১ হাজার ৫০৮ জন। বর্তমানে পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত জনবল রয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪ জন।
পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচিসহ আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনার মধ্যেই সেবাবান্ধব পুলিশ গঠনে পুলিশের পদ সৃজন ও ১১টি নতুন ইউনট গঠনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই ১১টি নতুন ইউনিট গঠনসহ ৩২ হাজার ৯৫৪টি পদ সৃজনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন যে ১১টি ইউনিট গঠন করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন পুলিশ (এমএমপি), সাইবার পুলিশ, পুলিশ এভিয়েশন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ১৯,২৯ ও ২১ ব্যাটালিয়ন গঠন, এনভায়রনমেন্টাল পুলিশ ও ৪টি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি)।
এর আগে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে স্বতন্ত্র এমআরটি, সাইবার, এভিয়েশন ও মাউন্টেন পুলিশ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুধু এমআরটি ছাড়া ইউনিটগুলো আলোর মুখ দেখেনি।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে টুরিস্ট পুলিশ, শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই, নৌ-পুলিশ, ব্যাটালিয়ন পুলিশ, এটিইউ, রেল পুলিশ ও এমআরটি পুলিশ ইউনিট রয়েছে। এ ছাড়া মহানগর পুলিশ, এসবি, পিটিআই ও রেঞ্জ পুলিশ রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা নতুন ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘পুলিশের ত্রি-বার্ষিক যে পরিকল্পনা আছে, সেখানে এই নতুন ইউনিটগুলো গঠনের জন্য প্রস্তাবনা করেছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে। তিনি জানান, পুলিশে ১ লাখ ৩০ হাজার কনস্টেবল আছেন। তাদের ট্রেনিংয়ের জন্য পিটিসি আছে মাত্র ৪টি। তাই আরও ৪টি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা দরকার বলে আমরা প্রস্তাবনায় উপস্থাপন করেছি। তিনি জানান, এনভায়রনমেন্টাল পুলিশ ইউনিট একটিই হবে সারা দেশের জন্য।’ তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে জনসংখ্যার বিপরীতে পুলিশের আনুপাতিক হার কম হলেও এ দেশে বেশি। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের দিকে তাকালে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। সে হিসেবে পুলিশে আরও ৭৬ হাজার জনবল বাড়ানো দরকার।
সূত্র জানায়, বিগত সরকারের আমলে এনভায়রনমেন্টাল পুলিশ গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেটি গঠনই হয়নি। মাউন্টেন পুলিশ গঠন প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, এই ইউনিট মূলত তিনটি পার্বত্য জেলায় এপিবিএনের সাথে কাজ করে অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করার কথা। কিন্তু সেটিও বাস্তবে গঠিত হয়নি। বর্তমানে এই ইউনিট গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
গত দেড় দশকে এ বাহিনীতে বিপুলসংখ্যক নতুন পদ সৃজন ও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে বাংলাদেশ পুলিশে মোট ৮৩ হাজার ৭০টি নতুন পদ সৃজন করা হয়। কিন্তু এ দেড় দশকে শুধু কনস্টেবল, এসআই ও পুলিশ সার্জেন্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯ জনকে, যা মোট পুলিশ সদস্যের প্রায় অর্ধেক।
জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে গত দেড় দশকে পুলিশ বাহিনীর পরিবর্তন নিয়ে গত ২০২৪-এর নভেম্বরে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে পুলিশের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার ৯২৫ জন কনস্টেবল, ১১ হাজার ৫১০ জন এসআই ও ২ হাজার ৪৮৪ জন পুলিশ সার্জেন্টকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর। তাদের মধ্যে এসআই ও সার্জেন্ট পদে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদে। এ মেয়াদে এসআই পদে ৪ হাজার ৯০৮ জন এবং সার্জেন্ট পদে ৭২৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০০৯-২০১৩ সময়কালে এসআই পদে ৩ হাজার ৭৫১ ও সার্জেন্ট পদে ৪২৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৪-২০১৮ সময়কালে এসআই পদে ২ হাজার ৮৪৫ ও সার্জেন্ট পদে ৪২৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।