জ্বালানি সংকট
আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৬ এএম
জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় হঠাৎ লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় হঠাৎ লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
শুধু হালিশহর নয় বরং বন্দর পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত পুরো চট্টগ্রামের অবস্থায় এখন এমন। এদিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িতে ওয়াসার পানি সংগ্রহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে অনেকেই পানি সংকটে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানায়ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
‘আজকে সারা দিনে কমপক্ষে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ গেছে। এমনিতে প্রচণ্ড গরম। এর মধ্যে কিছুক্ষণ পর পর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। একেকবার গেলে আধাঘণ্টা কমসে কম আসছে না। রান্নাবান্না করা মুশকিল হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি শেষ কবে দেখেছি ভুলে গেছি’, এভাবেই লোডশেডিং নিয়ে নিজের বিরক্তির কথা বলছিলেন হালিশহরের গৃহিণী বিলকিস আকতার।
বিলকিস আক্তারের এই দশা চট্টগ্রামের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎবিহীন থেকে নগরজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর রাত নামলেই ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ।
সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং ২৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম জোনের হিসাবে, ১৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৮৪ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যা ৭টায় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াটে। বিপরীতে সরবরাহ ছিল বেলা ১১টায় ১ হাজার ৯৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট। এ হিসাবে লোডশেডিং দাঁড়িয়েছে ২৮১ দশমিক ৮২ মেগাওয়াট।
জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামের (বিতরণ) দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি বন্ধ থাকায় এই ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধ থাকা ছয়টি ইউনিট হলোÑ কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট ২ (৪৬ মেগাওয়াট), ৩ (৫০ মেগাওয়াট) এবং ৫ (৫০ মেগাওয়াট), রাউজান-১ ও রাউজান-২ (২১০ মেগাওয়াট) ও জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট) কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং পরিস্থিতি এর চেয়ে অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে পিক আওয়ার সাধারণত বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, যখন চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। অন্যদিকে, অফ-পিক আওয়ার হলো রাত ১১টা থেকে পরের দিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত, তখন বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে।
চট্টগ্রাম পিডিবির সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কম এবং জ্বালানি তেলের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরবরাহের ওপর নির্ভর করে লোডশেডিংয়ের মাত্রা পরিবর্তিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকবর হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ হয় চট্টগ্রামসহ তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম। গত ৪-৫ দিন ধরে চট্টগ্রামে লোডশেডিং হচ্ছে। অফ পিক-আওয়ারে ১১১ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিং হলেও পিক-আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় লোডশেডিং কিছুটা বেশি হচ্ছে।