প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩১ পিএম
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর আচেহর উলি মাদোনে ২০২৩ সালের নভেম্বরে একটি নৌযান থেকে নামছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ছবি: ইউএনএইচসিআর/আমান্ডা জুফ্রিয়ান
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০২৫ সালটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) শুক্রবার জানিয়েছে, গত এক বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা মৃত্যুবরণ করেছেন।
এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালে সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই পথে প্রতি ৭ জনের মধ্যে ১ জন নিখোঁজ অথবা প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বে শরণার্থীদের ব্যবহৃত প্রধান সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এই পথেই মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ।
ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক বছরে এই বিপজ্জনক পথ বেছে নেওয়াদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। ২০২৬ সালেও এই আশঙ্কাজনক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ইতিমধ্যে ২ হাজার ৮০০-র বেশি রোহিঙ্গা সাগরপথে পাড়ি জমিয়েছেন।
সম্প্রতি আন্দামান সাগরে একটি বড় ধরনের নৌকাডুবির ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এসেছে। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে রওনা হওয়া একটি নৌকা উত্তাল সমুদ্রে ডুবে যায়। এতে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছ থেকে মাত্র ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে ইউএনএইচসিআর।
চরম ঝুঁকি ও মানবপাচারের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও রোহিঙ্গারা কেন এই পথ বেছে নিচ্ছে, তার কারণ বিশ্লেষণ করেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ রোহিঙ্গা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে চাইলেও সেখানে চলমান সংঘাত, নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা ও পদ্ধতিগত নিপীড়ন তাদের হতাশ করে তুলছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, শিক্ষা ও উপার্জনের সুযোগের অভাব এবং ত্রাণের তীব্র সংকটে তারা সমুদ্র পথে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে।
২০২৫ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’-এর চাহিদার মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়া গিয়েছিল, যা মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধান করার জরুরি আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। একই সঙ্গে মানবপাচার রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সমুদ্রে জীবন রক্ষা এবং শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আইনি পথ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলে প্রায় ১৩ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।