× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজশাহীতে খাসজমিতে ৩২ আমলার ফ্ল্যাট বাণিজ্য

রাজশাহী অফিস

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৪ পিএম

রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়ায় রকারি খাসজমিতে নির্মাণ কর হচ্ছে বিলাসবহুল অট্টালিকা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়ায় রকারি খাসজমিতে নির্মাণ কর হচ্ছে বিলাসবহুল অট্টালিকা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া ভূমি অফিস থেকে ২০০ মিটার দক্ষিণে পদ্মা নদীর কাছে ০.৫৫৭৫ একর (প্রায় ৩৪ কাঠা) সরকারি খাসজমির ওপর একটি বিলাসবহুল অট্টালিকা নির্মাণ করে ফ্ল্যাটের শেয়ার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসক মূল্যবান এ জমি প্রত্যয় সমবায় সমিতি লি. নামের সংগঠনকে লিজ দেয় ২০১৮ সালে। সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ৩২ জন। যাদের সবাই প্রভাবশালী আমলা, যাদের কেউ কেউ অবসরে গেছেন, দুর্নীতির অভিযোগে কেউবা রয়েছেন জেলহাজতে। বিষয়টিকে বড় অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ প্রকাশের জন্য তথ্য সংগ্রহ করার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে তদবির শুরু করেন এক যুবক। তিনি প্রভাবশালীদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে এই প্রতিবেদককে ফোন করেন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের উত্তরে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা ৯৫-এর ৩ অনুযায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও সরকার কর্তৃক বৈধভাবে পুনর্বাসিত জনগণের মধ্যে খাসজমি দেওয়া হয়। 

তবে প্রত্যয় সমবায় সমিতির কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে সরকারের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগীরা পেয়েছেন খাসজমি, যা আবার বিক্রি করা হচ্ছে অন্যের কাছে। সম্প্রতি এই খাসজমি লিজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে কাকে ও কী পরিমাণ জমি লিজ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করা হলেও; জমিটি যাদেরকে লিজ দেওয়া হয়েছে তারা তা অন্য কারও কাছে বিক্রি করতে পারবেন কি? এবং লিজ গ্রহণকারীকে দেওয়া নির্দেশনা বা চুক্তিপত্র চাওয়া হলেও উত্তরে লিখে দেওয়া হয়, লিজ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র সম্পূর্ণ দাপ্তরিক হওয়ায় তা দেওয়া গেল না।

সূত্র মতে, শতকোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৩৪ কাঠা খাসজমি প্রত্যয় সমবায় সমিতি লি. ২০১৮ সালে লিজ নেওয়ার পর তা আমানা গ্রুপের আমানা হোমস লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ভবন নির্মাণের জন্য দেওয়া হয়। ১২ তলা ছাদ ঢালাই হয়েছে। নির্মাণকাজ চলমান। পাশের ফাঁকা জমিতে আরও একটি ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। আমানা হোমস লি. এই জমিতে নির্মাণাধীন ভবনের ফ্ল্যাটের শেয়ার বিক্রি করছে।

আমানা গ্রুপের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তারা যুক্তরাজ্যে খুলেছেন লিমিটেড কোম্পনি। প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাংকের চেয়ে অধিক মুনাফার আশায় অনেকে বিনিয়োগ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ফজলু করিম একটি ইসলামী সংগঠনের ব্যানারে রাজশাহীর একটি আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। সমালোচিত নানা বিষয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি বলে জানা যায়।

এদিকে ৩২ আমলার সংগঠনÑ প্রত্যয় সমবায় সমিতি লি.-এর নেতৃত্বে ছিলেন সমালোচিত নির্বাচন কমিশন সচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তবে সরকারি খাসজমি লিজ নিয়ে ভবন নির্মাণ ও তা বিক্রির বিষয়টি সামনে আসায় বর্তমানে এই সংগঠনের দায়িত্বে কে আছেন তা নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। তবে এই ৩২ জন আমলার মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের আস্থাভাজন ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম তুহিন আলম। তারাই বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন বলে আমানা গ্রুপের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ডেভেলপার আমানা গ্রুপের ফজলু সাহেব এটার কাজ করছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা আমাদেরকে এখনও অ্যাপার্টমেন্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে না। কাজে ঢিলেমি করছে। আমাদের ধারণা ছিল ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কাজ হয়ে যাবে। এখন ২০২৬ সাল। এখনও আমরা অ্যাপার্টমেন্ট বুঝে পাইনি। ফজলু সাহেব এই সম্পত্তির বিপরীতে ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তার সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্টের ব্যাপারে কথা বললে, একবার বলেন ঢাকায় আছি, আবার বলেন চট্টগ্রামে আছি। আমানার হোমস লি.-এর সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে যেটুকু জানি তাতে করে, একটা অংশ আমাদের থাকবে, দুইটা ফাঁকা জায়গায় বিল্ডিং করে সেল করবে তারা। এসব বিষয় দেখভাল করছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম তুহিন আলম। আমরা প্রত্যয় সমবায় সমিতিকে মাথাপিছু ১৫ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। শরীফ উদ্দিন দাবি করেন খাসজমি লিজ নিয়ে বিক্রির বিষয়ে তেমন কোনো কঠোর বিধিনিষেধ নেই। তবে প্রত্যয় সমবায় সমিতি লি.-এর সদস্যদের নাম ও পদবি জানতে চাইলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এসএম তুহিন আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমি ওই সংগঠনের সদস্য মাত্র। প্রত্যয় সমবায় সমিতি লি.-এর সদস্যদের নাম ও পদবি দিতে তিনিও অপারগতা প্রকাশ করেন।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রাজশাহী মহানগরীর একদম প্রাণকেন্দ্রের ১ নং খতিয়ানের খাসজমি। এই খাসজমির অধিকার রাখে একমাত্র যারা ভূমিহীন, অসহায় বা ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু সেটা না করে দেশের আমলা, যারা সরকারের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী; তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা ডেভেলপারদের কাছে এই জমি দিয়েছেন ফ্ল্যাট বানিয়ে বিক্রির জন্য। ডেভেলপার ইচ্ছামতো এই বিল্ডিংগুলো বিক্রি করছে ও ভাড়া দিচ্ছে। আমাদের দেশের ভূমি আইন অনুযায়ী এরা তো অপরাধী। যারা এর সঙ্গে জড়িত, বড় আমলা হোক বা যেকোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হোক না কেন, তাদের শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

আমানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলু করিমের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগে করা হলে তিনি বলেন, আমি রাজশাহীর বাইরে আছি, রাজশাহীতে ফিরে এ বিষয়ে কথা বলব। 

ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিনু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, একজন আমলা যিনি রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন, পরে নির্বাচন কমিশনের সচিব হন। ২০১৮-এর রাতের নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী। নির্বাচন কমিশনের ‘কুখ্যাত হেলাল’ হিসেবে পরিচিত। তিনিসহ কিছু আমলা মিলে রাজশাহীতে একটি খাসজমি নিয়ে যেটা করেছে তা অনিয়ম। পুনঃতদন্ত সাপেক্ষে লিজ বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা