× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গণপরিবহন চলাচল অর্ধেকে নেমেছে

মাসুদুল হাসান

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৫ এএম

তীব্র জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে বাস চলাচল এখন ৩০-৫০ শতাংশ কমে গেছে। ছবি: প্রতিদিনের বকাংলাদেশ

তীব্র জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে বাস চলাচল এখন ৩০-৫০ শতাংশ কমে গেছে। ছবি: প্রতিদিনের বকাংলাদেশ

একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে কাজ করেন জালাল উদ্দিন। পেশাগত কাজে প্রতিদিন বিশ্বরোড থেকে প্রেস ক্লাব রুটে যাতায়াত করেন তিনি। কিন্তু গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি এই রুটে চলাচলকারী একমাত্র পরিবহন ‘এয়ারপোর্ট পরিবহন’-এর একটি বাসেরও দেখা পাননি! ইডেন কলেজের ছাত্রী ফৌজিয়া নিয়মিত যাতায়াত করেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বাস স্টেশন থেকে আজিমপুর এলাকায়। তিনিও এই রুটের একমাত্র পরিবহন ‘বিকাশে’র জন্য ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করে হতাশ হয়েছেনÑ একটি গাড়িও চলাচল করেনি এই সময়। রাজধানীর কর্মজীবী মানুষের জীবনে এরকম অভিজ্ঞতা একেবারে নতুন নয়Ñ নতুন লক্ষণীয় দিক হলো এটি এখন নিত্যকার ঘটনা হয়ে উঠেছে।

এককথায় বলতে গেলে, তীব্র জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে বাস চলাচল এখন ৩০-৫০ শতাংশ কমে গেছে, পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতে হচ্ছে বাস-গাড়ির চালক-মালিকদের, সারা দেশেই বেড়েছে যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বাসের ট্রিপ কমেছে, ফলে কর্মঘণ্টার অপচয় হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে রেশনিং পদ্ধতি চালু করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হচ্ছে।

এর ফলে পকেটে টান পড়তে শুরু করেছে গণপরিবহন ব্যবহারে অভ্যস্ত স্বল্প আয়ের বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের। বিকল্প পরিবহন হিসেবে রিকশা, উবার, সিএনজির চড়া ভাড়া উদ্বিগ্ন করে তুলেছে তাদের। পরিবহন মালিকরা বলছে, পর্যাপ্ত তেলের সংকটে তারা বাধ্য হচ্ছেন রাজধানীসহ সারা দেশে গণপরিবহনের ট্রিপ কমাতে। ফলে যাত্রীসেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও নির্দিষ্ট গন্তব্যে গাড়ি মিলছে না।

রাজধানীতে চলাচলকারী আজমেরী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. টিপু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, তার কোম্পানির আওতায় চলা গাড়িগুলোর ট্রিপ পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে অর্ধেকে নেমেছে। আগে যেখানে একেকটি বাস ৩-৪ বার যাতায়াত করত, বর্তমানে তা করছে সর্বোচ্চ দুবার। ফলে একটি গাড়ি থেকে যে পরিমাণ জমা টাকা পাওয়ার কথা, তার অর্ধেকও পাচ্ছেন না তারা।

রাজধানীর সদরঘাট থেকে টঙ্গীর কামারপাড়া পর্যন্ত চলাচলকারী ভিক্টর পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মানিক জানান, তাদের কোম্পানির অধীনে প্রায় ২০০ বাস রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাস ডিজেল সংকটের কারণে নিয়মিত চলাচল করতে পারছে না। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় অবস্থা আরও জটিল হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হলে সেখানে বরং গণপরিবহনকেই প্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে স্বল্প খরচে বেশি মানুষকে আনা-নেওয়া করা যায়। তবে মনে হচ্ছে, দেশের এমন পরিস্থিতিতেও সরকার গণপরিবহনকে প্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবছে না।’

তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো রুটে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও আবার যাত্রীসহ রাস্তার মধ্যেই বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জ্বালানি সংকটের কারণে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের উচিত গণপরিবহনকে প্রাধিকার দেওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিবহনকে নিরুৎসাহিত করা।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘তেল সংকটের কারণ হিসেবে আমরা যুদ্ধের দোহাই দিচ্ছি। তবে জ্বালানি সংকটের ক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যের বিষয়ে কেবল সরকারই পারবে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে।’ 

তিনি জানান, ‘সরকারের গণপরিবহনকে প্রাধান্য দিতে হবে। গণপরিবহনের তেলপ্রাপ্তির বিষয় নিয়ে বিশেষ করে ভাবতে হবে। তাহলে চলমান সংকট মোকাবিলা করা অনেকটা সম্ভব হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে এই পরিস্থিতিতে গণপরিবহন ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ ব্যক্তিগত পরিবহনে যাতায়াত করতে নিরুৎসাহিত হয়।’

এদিকে সরেজমিন প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, মতিঝিল, গুলিস্তান, শাহবাগ, মহাখালী, মিরপুর, তেজগাঁও, খিলক্ষেত ও উত্তরার প্রায় প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের পাশের সড়কে প্রাইভেট কার ও মোটর সাইকেলের দীর্ঘ সারি তীব্র যানজট সৃষ্টি করছে। কখনও কখনও এই সারিতে বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান যুক্ত হওয়ায় এই লাইন মূল সড়ক ছাড়িয়ে পাশের লেনসমূহও দখল করে ফেলছে। ফলে ব্যস্ত সড়কে যান চলাচলের সক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। রাজধানীর প্রতিদিনের যানজট পরিস্থিতির মধ্যে এমন অবস্থা হয়ে উঠেছে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।

এ প্রসঙ্গে ভিক্টর পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানিক জানান, তাদের গাড়িগুলোকে টঙ্গী-গাজীপুরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সকাল-সন্ধ্যা এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভূঁইয়া পরিবহনের চালকের সহকারী বলেন, ‘তেল সংগ্রহে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হওয়ার কারণে আমাদের গাড়িগুলো সময়সূচি মেনে রাস্তায় চলতে পারছে না। উল্টো গাড়ির লাইনের জন্য যানজট বাড়ছে।’ 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর এক পরিবহন নেতা বলেন, ‘গণপরিবহনের দিকে সরকারি নীতিনির্ধারকদের তেমন নজর নেই। এমনকি তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গণপরিবহনের মালিকদের সঙ্গে কোনো পরামর্শও করছেন না। রাজনৈতিকভাবে অনুগত কিছু মালিক সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বটে; কিন্তু তাদের কাছ থেকে সরকার সঠিক পরামর্শ পাচ্ছে না।’

বাংলাদেশে পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক জোবায়ের মাসুদ বলেন, ‘জ্বালানি সংকটে আমাদের গাড়ি পরিচালনা করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তেল সংকটে শতকরা ৪০ শতাংশ গাড়ি নিয়মিত চলতে পারছে না। তেল সংগ্রহের জন্য চালকরা রাতভর অপেক্ষা করছে। এতে পরের দিনে সকালে গাড়ি চালানোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব কারণে চালক-মালিক দুপক্ষেরই আয় কমছে, সাধারণ যাত্রীরাও গণপরিবহন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘গণপরবিহনকে সচল রাখতে সরকারকে একটি সমন্বিত সঠিক নীতি নিতে হবে। বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সংকট সমাধান করা যাবে না। উল্টো সংকট বাড়বে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা