আসাদুজ্জামান সম্রাট
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৮ এএম
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সের মধ্যে সবার আগে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি তার নির্ধারিত বাসায় উঠতে যাচ্ছেন। তবে সিভিল কাজ এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেখানে বসবাস শুরু করতে আরও ৮–৯ দিন সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসা বসবাস উপযোগী করে তুলতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সের পশ্চিমাংশে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও হুইপদের জন্য নির্ধারিত বাংলো রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কয়েকটি বাংলোতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিয়ে যায় সুযোগসন্ধানী ছাত্র-জনতা।
চিফ হুইপের জন্য নির্ধারিত বাসায় সে সময় থাকতেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান (মন্ত্রীর পদমর্যাদায়) আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ। ওই বাসাটিও ভাঙচুরের শিকার হয়। পরবর্তীতে বাসাটির মেঝের মোজাইকসহ বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করার চেষ্টা করছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ।
বাসার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজের ওপর সন্তুষ্ট হতে পারেননি চিফ হুইপ। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে শ্রমিক নিয়োগ করে টাইলস স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। একটি ভিআইপি বাসভবনে এখনও টাইলস স্থাপন সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নূরুল ইসলাম মনি।
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত বাসভবনে সিভিল ও স্যানিটারি কাজেও বিলম্ব হয়েছে। ফলে চিফ হুইপ ও হাউস কমিটির নির্ধারিত সময়ে সংসদ সদস্যরা তাদের বাসা ও অফিস বুঝে পাননি।
এদিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও তাদের জন্য নির্ধারিত বাসা দুটি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তারা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত প্রদান করেন। এ ছাড়া তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী কেনা হচ্ছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলেই তারা বাসা দুটিতে বসবাস শুরু করতে পারবেন।
গতকাল সোমবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদ কমপ্লেক্সের ‘স্পিকারস হাউস’ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করেন। বাসার জন্য প্রয়োজনীয় সোফা, ডাইনিং টেবিল, খাটসহ অন্যান্য আসবাবপত্র তিনি নির্বাচন করে দিয়েছেন। এগুলোর কেনাকাটা ও হাইজেনিক ওয়াশ সম্পন্ন হলেই বাসায় উঠতে চান স্পিকার।
স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও হুইপদের বাসার প্রস্তুতির কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনায় বাসাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ সময় ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক সংযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বাসাগুলো বসবাসের উপযোগী করে তুলতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি বাজেট-স্বল্পতার কারণে কাজের গতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে ছিল না।
তিনি জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দ্রুত সময়ের মধ্যে বাসায় উঠতে আগ্রহী। অন্যদিকে চিফ হুইপ বর্তমান সংসদ অধিবেশনের মধ্যেই বাসায় উঠতে চান। সে ক্ষেত্রে বাসা প্রস্তুত হতে আরও ১০–১২ দিন সময় লাগতে পারে।
বাসা নেবেন না হুইপ নিজান : জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সের ভেতরে ডুপ্লেক্স বাংলো বরাদ্দ থাকলেও সরকারি এই বাসায় উঠবেন না হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি জানিয়েছেন, তার জন্য সংসদ সদস্য ভবনের বাসাই যথেষ্ট। তিনি সরকারের এত বড় বাংলো ব্যবহার করতে চান না। তবে অন্য হুইপরা সংসদ কমপ্লেক্সের বাংলো বাড়ি বরাদ্দ নিচ্ছেন। সেই বাড়িগুলো বসবাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে কাজ চলমান রয়েছে।