সৌরভ হোসেন
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৪ এএম
এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা তেলের দাম লিটারে ১০-১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্থির হয়ে উঠেছে ভোজ্য তেলের বাজার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা তেলের দাম লিটারে ১০-১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে খোলা পাম অয়েলের।
ঈদুল ফিতরের পর থেকেই বাজারে একটু একটু করে বোতলজাত, খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বাড়ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে প্রায় ১০-১২ টাকা বেড়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগসহ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
গতকাল রাজধানীর এসব মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সেখানকার দোকানগুলোতে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল খুব কমই পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে শুধু দুই লিটার, পাঁচ লিটারের পাশাপাশি খোলা পাম তেল পাওয়া যায়।
রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯৬ টাকা এবং বোতলজাত ১ লিটার ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ টাকায়। ৫ লিটারের দাম ১,০২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৯৮০ টাকা। পাম তেলের দামও বেড়ে ১৬৪ টাকা থেকে ১৭৭ টাকা।
বাজারের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মিলগেট (পরিশোধন কারখানা) থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে। আবার জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবহন ভাড়া কিছুটা বেড়েছে। এসবের প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারের ভোজ্য তেলের ওপর।
রহমান অয়েল ট্রেডার্সের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে তেলের দাম হঠাৎই বেড়ে গেছে। আমরা আগের দামে কিনতে পারছি না, তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ভাই ভাই ভোজ্য তেল ভান্ডারের বিক্রয়কর্মী মো. সোহেল জানান, সরবরাহ ঠিকমতো না থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। কোম্পানি থেকে বেশি দামে তেল আসছে, তাই খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে গেছে।
মা ট্রেডার্স আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকার মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে সমন্বয় করা হয়নি। এর ওপর যুদ্ধের কারণে আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে ট্রাকপ্রতি ১ থেকে দেড় হাজার টাকার মতো। এর ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বৃদ্ধির জন্য মিল মালিকদের দায়ী করলেন অনেক বিক্রেতা। দোকান মালিকরা বলেন, আমরা যখন মিল থেকে তেল সংগ্রহ করি তখন তারাই দাম নির্ধারণ করে দেন। ফলে সে অনুযায়ী আমাদেরও বিক্রয় করতে হয়। এমনকি চাহিদামতো তেল পাই না।
এদিকে ক্রেতারা এই মূল্য বৃদ্ধিতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শান্তিনগর বাজারে ক্রেতা সুফিয়া বেগম বলেন, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম এত বেশি যে, খোলা পাম তেল কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
আরেক ক্রেতা আলী হোসেন বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম এতটা বাড়বে ভাবিনি। আমাদের আয় বাড়ছে না, কিন্তু খরচ বেড়েই চলেছে। এদিকে গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, আপাতত ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। গতকাল ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বলার মতো কোনো কিছু হয়নি। যদিও বাজারে কিছু কিছু ব্র্যান্ডের তেলের সরবরাহ কম। তবে জনগণের কথা ভেবে আপাতত ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। এমনকি কোনো পণ্যের দামই বাড়াতে চায় না সরকার।