× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তদবিরেও নজরদারি

আসাদুজ্জামান সম্রাট

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৩ এএম

 নজরদারির  প্রক্রিয়া থেকে বাদ যাচ্ছেন না সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও। প্রতীকী ছবি

নজরদারির প্রক্রিয়া থেকে বাদ যাচ্ছেন না সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও। প্রতীকী ছবি

একজন মন্ত্রীর কাছে একটি ফোন এলো। যিনি ফোন করেছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার একটা তদবির আছে। আওয়ামী আমলে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য পাননি। এবার সরকারি একটি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নতুন যুক্ত হতে চাইছেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠান যেন কাজটি পায় সেজন্য পরিচিত মন্ত্রীকে ফোন করেছেন।

ফোন রাখতেই ব্যবসায়ী ভদ্রলোকের ফোন বেজে উঠল। অপর প্রান্তে এক গোয়েন্দা কর্তা। রীতিমতো জেরার ‍মুখে পড়লেন। তদবিরের আদ্যোপান্ত জানতে চাইছেন তিনি। 

পরে সংশ্লিষ্ট এই প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ে ক্রয় প্রক্রিয়া থেকে। জানা গেছে, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্রয় ও সরবরাহের একটি বড় প্রক্রিয়া থেকে ওই প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়েছে সরকারের উচ্চমহলের নির্দেশে। সরকার এই ক্রয় প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই বিতর্কিত করতে দিতে চায়নি বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ কারণে সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির মিটিংয়ের সিডিউলেও পরিবর্তন আনা হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে নতুন ‍প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া না হলেও অপর দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়।

সরকারের ১৮০ দিনের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চমহলে আসা নানা আর্থিক লেনদেন, বিভিন্ন বিজনেসের তদবির, ঠিকাদারি ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণসহ আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। নজরদারির এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ যাচ্ছেন না সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। প্রথাগতভাবে ১০০ দিনের পরিকল্পনার পরিবর্তে এই সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত করতে ১৮০ দিনের সময়সীমা বেছে নিয়েছে। বিতর্কমুক্তভাবে বিশেষ এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার প্রতিটি সংস্থাকে সক্রিয় অবস্থায় রেখেছে। প্রতিটি প্রতিবেদনের কাউন্টার প্রতিবেদনও তৈরি করা হচ্ছে। শুধু রাজধানী ঢাকাতেই এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। তৃণমূল পর্যায়েও নজরদারি করা হচ্ছে।

সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। আরও রদবদল আসন্ন। পুলিশ প্রশাসনের মনোবল ফিরিয়ে আনতে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়নের ক্ষেত্রেও তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি ঘটনা সরকারকে বিব্রত করেছে। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চাইছে না সরকার।

জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনপ্রশাসনে গুপ্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে দেশপ্রেমিক ও যোগ্য কর্মকর্তা পদায়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। আর এ কারণে অনেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অনেক কর্মকর্তাকে পদায়নের জোর সুপারিশ করলেও তার অতীত রেকর্ড না জেনে পদায়ন করা হচ্ছে না। বেশ কয়েকটি ঘটনায় সরকারের অনেক মন্ত্রীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনে ভিন্নমতাবলম্বী অনেক কর্মকর্তা যাতে কোনো ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারেন সেজন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

রমজান মাস ও পরবর্তী সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি শিল্পগ্রুপ সিন্ডিকেট করে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে রান্নায় ব্যবহৃত এলপি গ্যাস সরবরাহ চেইনে ব্যাপক অনিয়ম ও জনভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হয়নি। সরকারিভাবে এসব কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে সক্রিয় নজরদারি থাকায় অনেক জায়গায় সফল অভিযান সম্ভব হয়েছে।

সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হওয়ায় শুধু ডিপিএম (সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া) ছাড়া অন্য কাজগুলো নির্দিষ্ট কাউকে দেওয়ার আর সুযোগ থাকল না। তারপরেও টেন্ডারবাজি বন্ধ করার বিষয়ে সরকারের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েও তা বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান ‍চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে নজরদারির অংশ হিসেবে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিমি খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের খাল নির্বাচন, বনায়নের জন্য স্থান নির্বাচন, ফ্যামিলি ও ফার্মার কার্ড বিতরণে যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনের পাশাপাশি ই-হেলথ কার্ড যাতে প্রকৃত ব্যক্তির জন্যই ইস্যু হয় সেদিকে নজরদারি রাখা হচ্ছে। জেলা ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলদের কাজের বিষয়টিও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন, এই ১৮০ দিনের কাজের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। আর এ কারণে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা অতি ‍উৎসাহী হয়ে কোনো কাজ করতে যাচ্ছেন না। অনেক মন্ত্রণালয়ের গতি অনেকটা মন্থর হয়ে পড়লেও কোনো কাজে যাতে ভুল না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক সবাই। শুরুতে অতিকথনে দুষ্ট মন্ত্রীরাও এখন নিজেদের সামলে নিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা