প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২২ পিএম
ফুলবাড়ীর ছোট যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর ছোট যমুনা নদী এখন মারাত্মক দূষণের শিকার হয়ে অস্তিত্ব সংকটে। পানি শূন্য হয়ে অনেকাংশে এটি মরা খালে পরিণত হয়েছে।
পৌর বাজারের প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা নদীর বিভিন্ন স্থানে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর তলদেশ জুড়ে জমেছে আবর্জনার স্তূপ, যা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুলবাড়ী পৌরসভার স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় বাজারের অধিকাংশ বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে ফুটব্রিজের নিচে নিয়মিতভাবে আবর্জনা জমা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের জোড়া ব্রিজের নিচে এবং পৌর বাজার সংলগ্ন এলাকায় ময়লার স্তূপ জমে রয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কয়েক বছর আগেও সীমিত পরিমাণে বর্জ্য ফেলা হলেও বর্তমানে প্রায় সব ময়লাই এখানে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধে পথচারীদের চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
প্রবীণদের মতে, ৮০ দশকেও ছোট যমুনা নদী ছিল এ অঞ্চলের প্রাণ। বর্ষায় নদী ভরে উঠতো এবং শুষ্ক মৌসুমেও নৌকা চলাচল করতো।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে গেছে। পাশাপাশি অবৈধ দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, নদী শুধু পানির উৎস নয়, এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নদীটি একসময় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে।
ফুলবাড়ী সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি হামিদুল হক বলেন, দ্রুত খননের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই নদী হারাবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার জানান, দেশের প্রায় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৬৪টি প্রজাতি হুমকির মুখে রয়েছে। নদী দূষণ এর অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, জলাশয়ে বর্জ্য ফেলার ফলে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে এবং প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
ফুলবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফুল হুদা চৌধুরী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প থাকলেও জমি জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি দাবি করেন, পৌরসভা থেকে সরাসরি নদীতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে না।