তোফাজ্জল হোসেন কামাল
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৪ এএম
আদালত থেকে মঙ্গলবার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নেওয়া হয়েছে কারাগারে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এতদিন কোথায় ছিলেনÑ এ প্রশ্নটি এখন জনমনে। ঢাকা মহানগর পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাসাটি তার চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যমসহ দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে শিরীন শারমিনের গ্রেপ্তারের
খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সবার মনেই প্রশ্নÑ চব্বিশের ৫ আগস্ট-পরবর্তী এই দীর্ঘ সময় তিনি কোথায়
ছিলেন? ধানমন্ডির যে বাসা থেকে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, তা কি গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর নজরের বাইরে ছিল? নাকি শিরীন শারমিন এতদিন অন্য কোথাও গোপনে আশ্রয় নিয়েছিলেন?
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ২২ মে এক বিবৃতিতে
জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ
ছেড়ে পালানোর পর প্রাণরক্ষায় সাবেক স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য
ও রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ ৬২৬ জনকে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরিস্থিতির
উন্নয়নসাপেক্ষে, আশ্রয় গ্রহণকারীদের বেশিরভাগই এক-দুই দিনের মধ্যে সেনানিবাস ত্যাগ
করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সেনানিবাস থেকে
বের হয়ে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। এই আত্মগোপনের স্থানটি কি ধানমন্ডির চাচাতো ভাইয়ের
বাসা? নাকি অন্য কোনো স্থান হয়ে সম্প্রতি তিনি ওই বাসায় উঠেছিলেন? এখন এই প্রশ্নের
উত্তর খুঁজছে জনগণ।
বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর লাখো মানুষ সংসদ
ভবনের দিকে অগ্রসর হতে দেখে জীবন বাঁচাতে সংসদ এলাকার নিজ বাসভবন থেকে আত্মগোপনে যান
শিরীন শারমিন। যাওয়ার সময় স্পিকারের জন্য বরাদ্দ গাড়ি ব্যবহার করেননি তিনি। সংসদ সচিবালয়ের
পরিবহন পুল থেকে গাড়ি পাঠানো হলেও তিনি ওই গাড়ি ব্যবহার করেননি। পালানোর সময় শিরীন
শারমিনের সঙ্গে ছিলেন স্বামী ও কনিষ্ঠ সন্তান। তবে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে তিনি কোথায়
গিয়েছিলেন, তা এখন রহস্যঘেরা। অজ্ঞাত স্থানে থাকা অবস্থায়ই আওয়ামী লীগ সরকার পতনের
২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে
জানিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছে, ঢাকা
সেনানিবাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর শিরীন শারমিন ঢাকার আশপাশেই নিরাপত্তা হেফাজতে ছিলেন।
সেখান থেকে তিনি ধানমন্ডিতে আসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা
রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই মামলার বিষয় ছাড়াও তার আত্মগোপনে থাকা, ধানমন্ডির ওই বাসায়
আসার সময় জানতে চাওয়া হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলেই জানা যাবে শিরীন শারমিন
এতদিন কোথায় ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এর আগে
আদালতে জানিয়েছিলেন, সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট সকাল থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত শিরীন শারমিনসহ
তারা ১২ জন সংসদ ভবনে লুকিয়ে ছিলেন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তাদের উদ্ধার করে
নিয়ে যান।