× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রূপগঞ্জে ‘লোকসানের মুখে’ শতাধিক ডিম উৎপাদনকারী খামারি

সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:১৪ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গড়ে উঠেছে শতাধিক ডিম উৎপাদনকারী লেয়ার মুরগির খামার।  ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গড়ে উঠেছে শতাধিক ডিম উৎপাদনকারী লেয়ার মুরগির খামার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গড়ে উঠেছে শতাধিক ডিম উৎপাদনকারী লেয়ার মুরগির খামার। এসব খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জানা গেছে, নানা রোগে মুরগি মারা যাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তারপরও ডিমের চাহিদা মেটাতে তারা উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন।

খামারিদের অভিযোগ, সরকারি সহযোগিতা পর্যাপ্ত না পাওয়ায় তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে সরকারিভাবে নিবন্ধিত ৩৩টিসহ শতাধিক লেয়ার খামার রয়েছে।

এসব খামারে প্রায় চার লাখ মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে।

এ খাতের মাধ্যমে এলাকায় ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং ডিমের সরবরাহ বাড়ায় বাজারদরও তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো এলাকায় উদ্যোক্তা এম এ সবুর, কাউসার মিয়া, বকুল মিয়া ও মোখলেসুর রহমান প্রায় একশো বিঘা জমির ওপর একটি আধুনিক খামার গড়ে তুলেছেন।

এই খামারে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মুরগি রয়েছে এবং প্রতিদিন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ডিম উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় ও আশপাশের বাজারে সরবরাহ করা হয়।

আধুনিক শেড, স্বয়ংক্রিয় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কারণে উৎপাদন সন্তোষজনক হলেও ব্যয় অত্যন্ত বেশি বলে জানান তারা ।

তারা আরও জানান, খামার পরিচালনায় প্রতি মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি খরচ হচ্ছে, যার মধ্যে খাদ্য, শ্রমিকের বেতন, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরগি মারা যাওয়ায় খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তারা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ

খামারিরা জানান, নিয়মিত ভ্যাকসিন ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব হলেও অনেক সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় সমস্যা বাড়ছে।

তারা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসজনিত রোগে মুরগি মারা যাচ্ছে এবং চিকিৎসার জন্য তাদের নরসিংদীর চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।

খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে গেছে, ফলে কেউ কেউ লোকসানে পড়ছেন।

খামারি কাউসার মিয়া বলেন, খাদ্যের দাম কমানো, নিয়মিত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা, রোগ হলে দ্রুত সরকারি তদারকি, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে এ খাত আরও এগিয়ে যাবে।

অন্যদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাস জানান, সরকারিভাবে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত মূল্যে টিকা সরবরাহ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি খামারে নিয়মিত তদারকি চলছে। খামারিদের সহযোগিতায় কোনো ঘাটতি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা