× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টেলিটকের ফোর-জি সম্প্রসারণ

অপচয়ের ফাঁদ

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৮ এএম

৪জির ‘নেশা’ ছাড়তে পারছে না টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

৪জির ‘নেশা’ ছাড়তে পারছে না টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ইন্টারনেট সেবায় বিশ্বের অনেক দেশ ৬জি নিয়ে গবেষণা করছে। পুরোদমে চলছে ৫জি সেবা। বাংলাদেশেও চালু হয়েছে ৫জি সেবা। যেটি দেশের সর্বত্র পৌঁছে দিতে ২ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প চলমান। এমন অবস্থায়ও ৪জির ‘নেশা’ ছাড়তে পারছে না টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড।

পরিকল্পনা কমিশনে তিনটি ছোট প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই মোবাইল অপারেটর; যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পগুলোর লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছেÑ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক ও পর্যটন এলাকা পর্যন্ত ৪জি সেবা সম্প্রসারণ করা। তবে প্রকল্পগুলোর যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, ৫জি সম্প্রসারণ চলমান থাকা অবস্থায় নতুন করে ৪জি সম্প্রসারণের জন্য একসঙ্গে তিনটি প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা নেই। এতে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। যেখানে টেলিটক ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করতে পারত, সেটা না করে তারা আলাদা তিনটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যাতে অবশ্যই রয়েছে দুরভিসন্ধি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয় ৫০ কোটি টাকার নিচে রাখা হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে সব প্রকল্পে সম্ভাব্য সমীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই তিনটি প্রকল্পই ব্যয় সীমার নিচে হওয়ায় সমীক্ষার প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া ছোট প্রকল্প হওয়ায় এগুলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। পরিকল্পনামন্ত্রী নিজ ক্ষমতাবলে এগুলো অনুমোদন করবেন। ফলে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় পড়বে না এসব প্রকল্প। 

প্রকল্প তিনটিতে অর্থের অপচয় হবে বলে জানান এসব কর্মকর্তা। তারা আরও জানান, তিনটি প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব তৈরি থেকে শুরু করে ছাপানো, সিলমোহর তৈরি, প্রকল্প পরিচালকের অফিস ব্যবস্থাপনাসহ ২০-২২ ধরনের ব্যয় পৃথকভাবে করতে হবে। প্রকল্প তিনটির জন্য প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি), প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি (পিআইসি), দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিসহ বিভিন্ন সভার আয়োজন তিনবার করে হবে। ফলে কর্মকর্তারা সম্মানীও পাবেন তিনগুণ। কিন্তু একত্রে একটি প্রকল্প হলে এসব ব্যয় একবারই হতো। অর্থাৎ সবদিক বিবেচনায় এই প্রকল্প তিনটিকে অপচয়ের ফাঁদ বলা যেতে পারে।

একই উদ্দেশ্যে পৃথক তিনটি প্রকল্প নেওয়া আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা বিভাগের একনেক, এনইসি ও সমন্বয় শাখার একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা বলেন, ২০২২ সালের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে প্রকল্প বিভাজন কমাতে হবে ও একীভূত উদ্যোগ নিতে হবে। 

প্রস্তাবিত তিনটি প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) বিশ্লেষণে পর্যবেক্ষণ প্রস্তুত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। যেগুলো নিয়ে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় আপত্তি জানানো হবে। পিইসির নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রস্তাবগুলোতে অতীত সরকারের সহায়তা ও বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কিত কোনো বিস্তারিত মূল্যায়ন নেই। অর্থাৎ আর্থিক সক্ষমতা, লাভজনকতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে টেলিটকের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শাখার জেনারেল ম্যানেজার ডিএম নুরুল হুদা বলেন, ‘প্রকল্পগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ভয়েস ও ডেটা সেবা সম্প্রসারণ। প্রতিটি প্রকল্প দেশের মহাসড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটন এলাকায় সেবার বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে নেওয়া হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, প্রথমে ৪জি চালু হবে, কিন্তু অবকাঠামো ৫জি-র জন্য প্রস্তুত থাকবে, ফলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই আপগ্রেড করা সম্ভব।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কবির আহমেদ জানান, প্রকল্প তিনটির যেসব অসঙ্গতি রয়েছে সেগুলো পিইসি সভায় খতিয়ে দেখা হবে। অযৌক্তিক ব্যয় থাকলে সেগুলো বাদ দিতে হবে এবং প্রস্তাব বাস্তবসম্মত হলে তবেই অনুমোদন পেতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টেলিটকের সেবা সম্প্রসারণের জন্য উদ্যোগ প্রয়োজন, তবে একটি বড় প্রকল্প না নেওয়ার পেছনে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতাও একটি কারণ হতে পারে।

প্রকল্পগুলোর ডিপিপির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথমটি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় প্রধান করিডোর- ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-পটুয়াখালী এলাকায় ৭০টি বিটিএস সাইট স্থাপন করা হবে। সাইটগুলো ২জি ও ৪জি প্রযুক্তি ব্যবহার করবে এবং নেটওয়ার্ক উন্নয়ন করবে।

দ্বিতীয় প্রকল্পের ব্যয় ৪৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর আওতায় স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের সাতটি বিভাগের দূরবর্তী ও পর্যটননির্ভর এলাকায় ৪জি সম্প্রসারণ করা হবে। এখানে ১০০টি স্যাটেলাইট-ভিত্তিক বিটিএস সাইট স্থাপন করা হবে।

তৃতীয় প্রকল্পের ব্যয় ৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ৪জি সংযোগ উন্নত করবে। এতে ৯৫টি বিটিএস সাইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পিইসি সভার জন্য প্রস্তুত নথিপত্রে আরও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত ৪জি সম্প্রসারণ ও চলমান ৫জি আধুনিকীকরণ প্রকল্পের মধ্যে মিল নেই। কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই সময়ে ৪জি-কে অগ্রাধিকার দিলে ভবিষ্যতের উচ্চ গতির ব্যান্ডউইথ চাহিদা ও ন্যাশনাল আইসিটি পলিসি ২০১৮-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

এ ছাড়া প্রকল্পের খরচ অনুমান, সরঞ্জামের দাম, প্রকিউরমেন্ট সময়রেখা এবং আর্থিক ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার মধ্যে অসামঞ্জস্যও চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছু সরঞ্জামের দাম অনুরূপ প্রকল্পের তুলনায় অনেক বেশি, যা বাজেট ব্যবস্থাপনায় উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, যদি এই প্রকল্পগুলো একত্রে একটি সমন্বিত প্রকল্পে পরিণত করা হতো, তাহলে অপচয় কমানো যেত এবং ভবিষ্যতের ৫জি সম্প্রসারণের সঙ্গে আরও ভালো সামঞ্জস্য রাখা যেত।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা