স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৫ এএম
আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬ ০৯:২০ এএম
রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ার নাওড়া এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মোশারফ রাতারাতি বনে যান কোটি টাকার মালিক। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ার নাওড়া এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মোশারফ। নুন আনতে যার পান্তা ফুরাত। একসময় লুঙ্গি কেনার সামর্থ্যও ছিল না যার। কসাইয়ের দোকান থেকে যার কর্ম শুরু। এরপর দিনমজুরিতে মাটি কাটা শ্রমিক ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান শেষে খাড়া দলিলের কাজ করে বনে গেছেন কোটিপতি। চুরি-ছিনতাইয়ে হাত পাকানো মোশারফের এমন উত্থানে এলাকায় রয়েছে নানা অভিযোগও। তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদ, মন্দির, শ্মশান, কবরস্থান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতভিটাও।
খাড়া দলিল (জালিয়াতি) করে মোশারফ এসব প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রি করেছেন অন্যখানে। এ ছাড়া নাওড়া এলাকায় মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একসময় আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতি করলেও সম্প্রতি ভোল পাল্টে বিএনপি বনে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অষ্টম শ্রেণি পাস করা মোশারফ ২০০২ সালে সর্বপ্রথম নাওড়া থেকে কাজের খোঁজে ঢাকায় আসেন। প্রথমে চাকরি না পেয়ে এক কসাইয়ের দোকানে দিনমজুর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৫০ টাকা রোজে কসাইয়ের দোকানে ৬ মাস কাজ করেন। এরপর দোকানের মহাজনের ক্যাশ থেকে টাকা চুরি করে গ্রামে গিয়ে আত্মগোপন করেন। চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আর কেউ তাকে কাজ দেয়নি। অর্ধাহার-অনাহারে থাকতে হয় মোশারফ ও তার পরিবারকে। পরে পূর্বপরিচিত একজনের মাধ্যমে নাওড়া এলাকার হল্যান্ড সেন্টারে একটি মোবাইল সার্ভিসিং দোকানে দৈনিক ৩০০ টাকা রোজে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ পান মোশারফ। সেখানেও হাতটান স্বভাবের জন্য বেশিদিন টিকতে পারেননি। মারধর করে তাকে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই দোকানের চাকরি হারানোর পর খাড়া দলিলের কাজে যোগ দেন মোশারফ। তার খাড়া দলিল থেকে ঈদগাহ-কবরস্থানের জায়গাও রক্ষা পায়নি। নাওড়া এলাকার নেকুর ছেলে মোশারফ খাড়া দলিলের মাধ্যমে হঠাৎ কোটিপতি বনে যান। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর দখল করে নিজের নামে করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নিমেরটেক গ্রামের সামাজিক কবরস্থানের জমি খাড়া (জাল) করে অন্য একটি গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেন তিনি। এভাবেই মোশারফ রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে যান। দলিল জালিয়াতি করতে করতে একসময় মোশারফের নাম ‘খাড়া মোশারফ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
স্থানীয়রা জানান, একসময় স্থানীয় অসুমন্দি মিয়ার বাড়িতে পেটে-ভাতে গরু রাখার কাজ করতেন খাড়া মোশারফের বাবা নেকো। আইছিলা হাজীদের বাড়িতেও পেটে-ভাতে কাজ করতেন তিনি। সেই নেকোর ছেলে মোশারফ এখন ‘বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠী’ নামে একটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বিএনপি নেতাদের খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মোশারফের এসব কর্মকাণ্ড প্রশাসনকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।