ঝিনুক পুড়িয়ে চুন
প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬ ১২:৪১ পিএম
ফুলবাড়ীর রাজারামপুর চুনিয়াপাড়ায় শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ঝিনুক চুন তৈরিতে ব্যস্ত গীতা রানী দেবনাথ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া গ্রামে এখনো টিকে আছে শত বছরের পুরোনো এক কুটিরশিল্প। আধুনিক জীবনের ভিড়ে অনেক পেশা হারিয়ে গেলেও এই গ্রামে মাত্র ৮টি পরিবার আজও বংশপরম্পরায় ধরে রেখেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি।
গ্রামের শতাধিক পরিবারের মধ্যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশই পেশা বদল করলেও এই ৮ পরিবার এখনও ঝিনুক সংগ্রহ, পোড়ানো ও চুন তৈরির প্রাচীন পদ্ধতিকেই জীবিকার প্রধান অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে আছেন।
নদী-নালা থেকে চুল্লি পর্যন্ত ঐতিহ্য
স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে কথা হলে তারা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ফুলবাড়ী ও আশপাশের নদী-নালা, খাল-বিল থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো রোদে শুকিয়ে মাটির বিশেষ চুল্লিতে উচ্চ তাপে পোড়ানো হয়। দীর্ঘ সময়ের এই প্রক্রিয়ায় ঝিনুক পরিণত হয় সাদা ছাইয়ের মতো পদার্থে, যা পরবর্তী ধাপে মিশ্রণ ও প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে চুনে রূপ নেয়।
এই চুন মূলত স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হয় এবং পানের সঙ্গে ব্যবহারের জন্য বাজারে চাহিদা রয়েছে। কারিগররা জানান, প্রতিদিন একজন শ্রমিক গড়ে ৭ থেকে ৮ কেজি চুন তৈরি করতে পারেন।

কারিগর বিমল চন্দ্র দেবনাথ ও তার স্ত্রী গীতা রানী দেবনাথ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “এটা আমাদের বাপ-দাদার পেশা। কষ্ট অনেক, কিন্তু এটাকেই ধরে রেখেছি। ঝিনুক পাওয়া এখন কঠিন, তবুও এ কাজই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।”
আরেক কারিগর নেপাল চন্দ্র দেবনাথ প্রতিবেদককে বলেন, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঝিনুকের সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে এই কুটিরশিল্প আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামেদুল ইসলাম জানান, বংশপরম্পরায় এই পরিবারগুলো ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি করে আসছে। তাদের প্রশিক্ষণ ও সহজশর্তে ঋণ সহায়তার বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা করা হবে।