× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রেল ঘিরে সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ার উদ্যোগ

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৩ এএম

পরিবহন খাতে ভারসাম্য আনতে রেলপথকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত বহুমুখী পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পরিবহন খাতে ভারসাম্য আনতে রেলপথকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত বহুমুখী পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা গড়ে উঠেছে। বর্তমানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের প্রায় ৮০ শতাংশই এই পথে সম্পন্ন হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ক্রমাগত চাপ বাড়ছে, অবকাঠামো দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত চাপের মতো সমস্যাও দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতে ভারসাম্য আনতে রেলপথকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত বহুমুখী পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ কয়েক মাস ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিকল্পনায় রেলপথের আধুনিকায়নের পাশাপাশি নৌপথের নাব্যতা বৃদ্ধি, নদীবন্দর আধুনিকীকরণ এবং সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ছয় মাসের পর্যালোচনা শেষে এই রোডম্যাপের সারসংক্ষেপ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিগগির এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো পণ্য পরিবহনে রেলপথের অংশীদারত্ব বৃদ্ধি করা। বর্তমানে দেশে মোট পণ্য পরিবহনের পাঁচ শতাংশেরও কম রেলপথে সম্পন্ন হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ অংশ বাড়িয়ে অন্তত ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং তুলনামূলক কম ব্যয়ে যোগাযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে রেলকে কেন্দ্র করে এ ধরনের বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে দেশের রেল অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে দেশে রেলপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার ৯৩ কিলোমিটার এবং ৬৪ জেলার মধ্যে মাত্র ৪৯টি জেলা রেল নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-মাতারবাড়ী, চিলাহাটি-ঈশ্বরদী-খুলনা-মোংলা এবং ঢাকা-সিলেট-শাহবাজপুরসহ কয়েকটি প্রধান করিডোরে ট্রেন চলাচল করছে। তবে অবকাঠামোর বড় অংশই পুরনো হওয়ায় ট্রেন পরিচালনায় প্রায়ই নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকোমোটিভ ও কোচের উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে তাদের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করেছে। রেলওয়ের মোট ২৯৪টি লোকোমোটিভের মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশ মিটার গেজ এবং ২৭ শতাংশ ব্রড গেজ লোকোমোটিভ পুরনো হয়ে গেছে। এর ফলে ট্রেন পরিচালনায় বিলম্ব এবং সময়ানুবর্তিতার ঘাটতি দেখা দেয়। যাত্রীবাহী কোচ রয়েছে ১ হাজার ৮৩৮টি, যার উল্লেখযোগ্য অংশও পুরনো।

অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি রেলওয়েতে বড় ধরনের জনবল সংকটও রয়েছে। অনুমোদিত ৪৭ হাজার ৭০৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২২ হাজার ৭৯০ জন। অর্থাৎ প্রায় ৫২ শতাংশ পদই শূন্য। এই সংকটের কারণে দেশের ১৩০টি রেলস্টেশন বন্ধ রয়েছে এবং রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রেন পরিচালনায় নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

এই বাস্তবতা মোকাবিলায় নতুন লোকোমোটিভ, কোচ ও ওয়াগন সংগ্রহের পাশাপাশি রেললাইন আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধান করিডোরগুলোতে ডুয়েল গেজের ডাবল লাইন নির্মাণ, পুরনো রেললাইন ও সেতু সংস্কার এবং আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বিদ্যুৎ চালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা এবং ঢাকা-জয়দেবপুর রুটেও বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর প্রস্তাব রয়েছে, যাতে কমিউটার ও আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল আরও দ্রুত ও কার্যকর করা যায়।

সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নৌপরিবহন খাতেও বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বর্ষাকালে দেশের নৌপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কিলোমিটার হলেও শুষ্ক মৌসুমে তা কমে প্রায় ৬ হাজার ১০০ কিলোমিটারে নেমে আসে। নাব্যতা সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত ড্রেজিং ও নদী শাসনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নৌপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পণ্য পরিবহন বাড়াতে আশুগঞ্জ, পানগাঁও ও যশোরের নওয়াপাড়া নদীবন্দর ঘিরে তিনটি বড় অভ্যন্তরীণ নৌ-লজিস্টিক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোতে কাস্টমসসহ প্রয়োজনীয় সেবা চালু এবং সেগুলোর সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ আরও জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

সমুদ্রবন্দর উন্নয়নও এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে টার্মিনাল দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোংলা ও পায়রা বন্দরকে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সড়ক খাতেও কিছু সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৩ হাজার ৯৯০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৪ হাজার ৮৯৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১৩ হাজার ৫৮৮ কিলোমিটার জেলা সড়ক রয়েছে। পরিকল্পনায় মহাসড়কের মানোন্নয়ন, নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, রেলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সমন্বিত পরিবহন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এতে পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমবে, সড়কের ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং শিল্প-বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতের জন্য আরও কার্যকর লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা