সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৬ ১৭:২১ পিএম
কিশোরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও ঈদুল ফিতরকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে তোরণ নির্মাণ, পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের জানান দিচ্ছেন। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে তার আগেই ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রচারের উত্তাপে জমে উঠেছে পুরো শহর। শহরের বিভিন্ন স্থানে তোরণ নির্মাণ, পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের জানান দিচ্ছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, ঈদের পরপরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তরুণ প্রার্থী মো. শফিকুল আলম শিপলু ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় তোরণ নির্মাণ করেছেন। শহরের বিভিন্ন দেয়াল ও যানবাহনেও তার পোস্টার দেখা যাচ্ছে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। একই সঙ্গে তার পিতা সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর হোসেনের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাও ব্যক্ত করেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারে সরগরম মাঠ
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়াও জোর প্রচার চালাচ্ছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে তোরণ ও পোস্টারের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তিনি।
গত নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও তার সমর্থকদের দাবি, প্রকৃতপক্ষে তিনিই বিজয়ী ছিলেন।এবার তিনি আরও শক্ত অবস্থানে মাঠে নেমেছেন।
আরেক বিএনপি নেতা মাসুদুল হাসানও পোস্টারের মাধ্যমে নিজের প্রার্থীতা জানান দিয়েছেন।তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম আশফাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভোটারদের আগ্রহ বাড়ছে তবে চূড়ান্ত চিত্র অস্পষ্ট
ভোটারদের মধ্যে এরই মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জাননা, এবার সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিতে চান তারা ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় এক ডজন হতে পারে। তবে তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় এখনও চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট নয়।
প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
শফিকুল আলম শিপলু বলেন, নিরপেক্ষ ও কর্মঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে পৌরসভার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চান তিনি।
হাজী ইসরাইল মিয়া দাবি করেন, অতীতে তিনি জয়ী হলেও ফলাফল ভিন্নভাবে এসেছে।
এবার ভোটাররা তার পক্ষে জবাব দেবে বলে তিনি আশা করেন।
মাসুদুল হাসান বলেন, সেই আশি দশকে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ে গুলি খেয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর রাজনীতির দুঃসময় কাটিয়ে আজও দলের সুস্থ ধারার রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছি। পদের জন্য দল করি না। তাই এবার জনমূল্যায়ন আমার পক্ষেই বলে মনে করি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ -১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক পদচারণায় ভোট কেন্দ্রের সকল অনিয়ম-দুনীতি ধ্বংসসহ ফ্যাসিস্টদের তৎপরতা সমূলে উৎপাদিত হবে।