× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঈদে রাজনীতিও রাজধানী ছেড়ে মফস্বলে

আসাদুজ্জামান সম্রাট ও মজুমদার ইমরান

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪৭ পিএম

এবারের ঈদকালীন সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আচরণগত পরিবর্তন। এবার নবনির্বাচিত মন্ত্রী ও এমপিরা ছুটছেন নিজের নির্বাচনি এলাকায়। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

এবারের ঈদকালীন সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আচরণগত পরিবর্তন। এবার নবনির্বাচিত মন্ত্রী ও এমপিরা ছুটছেন নিজের নির্বাচনি এলাকায়। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

প্রায় দেড় যুগের রাজনৈতিক টানাপড়েন, ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দেশ এবার এক উৎসবমুখর ঈদ উদযাপন করতে চলেছে। নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর প্রিয়জনদের সঙ্গে উদযাপনের জন্য রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ এখন মাটির টানে গ্রামগঞ্জমুখী। জেলা ও উপজেলা শহর ছাড়িয়ে প্রতিটি গ্রামে এখন আনন্দ-উৎসবের আমেজ।

কিন্তু ভিন্ন চিত্র এখন রাজধানী ঢাকায়। ঢাকার আদিবাসী মানুষজন আর জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে এসে থিতু হওয়া মানুষজন ছাড়া এখানে আর কেউ নেই এই সময়ে। ফলে গত দুদিন ধরেই ঢাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটও বেশ ফাঁকা, কোনোখানে নেই চিরাচরিত সেই যানজট। মার্কেট ও বাসস্ট্যান্ড এলাকাগুলো ছাড়া অন্য কোথাও তেমন কোনো ব্যস্ততাও নেই।

এদিকে গত দেড় দশকে নির্বাচনি ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার পর এবার গ্রামগঞ্জের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিভিন্ন চায়ের দোকান আর হাট-বাজারে এখন রাজনীতির চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন নিয়ে। মানুষ বুঝতে পারছে, তাদের মতামত বা ভোটের গুরুত্ব রয়েছেÑ যা ঈদের আনন্দের সঙ্গে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফেরায় বাজারে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষরাও দীর্ঘ সময় পর আশাবাদী হয়ে উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিভাজন হ্রাস পেয়ে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ এখন একই উৎসবে শামিল হচ্ছে, যা দেশের সামাজিক বুননকে আরও শক্তিশালী করছে।

এবারের ঈদকালীন সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আচরণগত পরিবর্তন। আগে অনেক সংসদ সদস্য বা প্রভাবশালী নেতা নির্বাচনের পর এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তেন। সেখানে এবার নবনির্বাচিত মন্ত্রী ও এমপিরা ছুটছেন নিজের নির্বাচনী এলাকায়। তারা কেবল ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন না, বরং সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে তাদের অভাব-অভিযোগ শুনছেন। জনপ্রতিনিধিরা জানেন যে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই একমাত্র পথ। এই ‘ভোটের ভয়’ বা ‘জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা’ থেকেই তারা এখন ব্যস্ত গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে। অনেক মন্ত্রীকেই দেখা যাচ্ছে ঈদের ছুটিতেও এলাকার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও পানি সমস্যার সমাধানে সরাসরি মাঠে কাজ করতে। সাময়িক হলেও বিশাল এই স্থানান্তরগত কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবারের ঈদে তাদের বেচাকেনা গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়তা থাকায় তারা অর্থ ব্যয়ে দ্বিধা করছেন না।

সরেজমিন কথা বলার সময় দেখা গেল, বগুড়ার এক কৃষক রহমত আলীর কণ্ঠ থেকে উপচে পড়ছে পরিতৃপ্তির ছাপ। জানালেন, তাদের এলাকার সংসদ সদস্য মীর শাহ আলম তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। বলেছেন, সে তাদের এলাকার সন্তান। তাদের কাছে সে মন্ত্রী না। রহমত আলী বলেন, “আগে তো ভোট দিলেও যা, না দিলেও তা ছিল। এখন মনে হচ্ছে আমার আঙুলের ছাপের দাম আছে। মন্ত্রী সাহেব নিজে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, এটা দেখতেই ভালো লাগছে।”

কেবল উৎসবের সময় নয়, সারা বছরই যেন জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন, সেটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি। এবারের ঈদ কেবল সেমাই আর নতুন জামার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি হয়ে উঠেছে ‘গণতন্ত্রের ঈদ’। মন্ত্রী-এমপিদের গ্রামে ফেরা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে একীভূত হওয়া প্রমাণ করে যে, প্রকৃত ক্ষমতা যখন জনগণের হাতে থাকে, তখন রাজনীতি জনসেবায় রূপ নেয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ সামনের দিনে এক সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

ঢাকার তিনশ কিলোমিটার দূরের কাউখালীতে নিজের নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ করেছেন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি ওই এলাকার স্থানীয় এমপি। কোনো প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে ঈদের আগে কুশল বিনিময় করেছেন। কেবল রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে নয়, বরং সাধারণ রিকশাচালক, কৃষক এবং দিনমজুরদের সঙ্গে বসে চা খেয়েছেন। এমন আরও অনেক মন্ত্রী তাদের এলাকায় গিয়ে ছোট ছোট বৈঠক করছেন। ইফতার পার্টিতে অংশ নিচ্ছেন। এলাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন। কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের পরামর্শ নিচ্ছেন।

অনেক এমপি এবার ঈদ উপহার হিসেবে কেবল শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণে সীমাবদ্ধ না থেকে, সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করছেন যে তাদের সন্তান হয়েই এলাকার দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বলছেন, “আপনারা আমাদের ভোট দিয়ে পাঠিয়েছেন বলেই আমরা আপনাদের কাছে আসতে বাধ্য।” এই স্বীকারোক্তি সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের আত্মমর্যাদা তৈরি করেছে।

ভিন্ন আবহে বিএনপির ঈদ, নেই আজ খালেদা জিয়া

এবার ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঈদ উদযাপন করছেন। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ২০ বছর পর দলটি এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। তাই এবারের ঈদ বাড়তি আনন্দ নিয়ে ভিন্ন আবহে উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সাড়ে পনেরো বছরে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে হামলা-মামলার শিকার হয়ে কেউ কারাগারে, কেউ আত্মগোপনে থেকে দিন কাটাতে হয়েছে। কিন্তু এবার সারা দেশে মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছেন তারা। 

জানা গেছে, ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য-মন্ত্রীবর্গ, বিশিষ্ট নাগরিক, আলেম ওলামা মাশায়েখ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সকাল ১০টায় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ঈদের দিন বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ সংসদ সদস্যÑমন্ত্রীরা সকালে ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও নিজ নিজ বাসা সংলগ্ন মসজিদ বা ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর বিএনপির সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল জিয়ারত করবেন। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা তাদের নিজ নিজ সুবিধামতো সময়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে ঈদ উদযাপন করবেন।

এবারের ঈদে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে নিজেদের বাড়িতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সময় কাটাবেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে তার নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুরের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা আর অভিনন্দনে সিক্ত হতে ঈদের নামাজ পড়বেন এলাকার মানুষের সঙ্গে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও নিজ নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে ঈদ উদযাপন করবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অসুস্থ। তিনি চিকিৎসার জন্য সপরিবারে সিঙ্গাপুর রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আরেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও চিকিৎসার জন্য চীনে রয়েছেন। এ ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আব্দুল মঈন খান তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা ও নরসিংদীতে ঈদ উদযাপন করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত ১৭টি বছর আমাদের প্রতিটি নেতাকর্মীর কাছে ঈদ এসেছে আতঙ্কের বার্তা নিয়ে। আমরা ভুলে গিয়েছিলাম নিজের ঘরে ঘুমানোর স্বাদ কেমন, আমরা ভুলে গিয়েছিলাম পরিবারের সঙ্গে ডাইনিং টেবিলে বসে সেমাই খাওয়ার আনন্দ। প্রতিবার যখন ঈদের চাঁদ দেখা দিত, আমাদের মনে হতোÑ এই বুঝি দরজায় পুলিশের করাঘাত পড়বে, এই বুঝি কোনো ডিবি অফিসারের নির্দেশে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের অগণিত নেতাকর্মী বছরের পর বছর ঈদ কাটিয়েছেন অন্ধকার সেলে, কাশিমপুর কিংবা কেরানীগঞ্জের জেলখানায়। যারা বাইরে ছিলেন, তারা ছিলেন পলাতক। আমাদের কর্মীরা নিজ গ্রামে যেতে পারতেন না আওয়ামী লীগের স্থানীয় ক্যাডারদের ভয়ে। কিন্তু এবারের ঈদ আমাদের কাছে নতুন এক পৃথিবীর মতো। তিনি বলেন, বিএনপির এই দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে এবারের ঈদ উদযাপনকে তারা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দেখছেন না, বরং তা বাংলাদেশের সমাজ-মানসের একটি ‘সাইকোলজিক্যাল ডিকারসারেশন’ বা মানসিক কারামুক্তি হিসেবে দেখছেন।

মুক্ত এক পরিবেশে এবারের ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে বিরাট শূন্যতা রয়েছে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির কারণে। এবারের ঈদে নেতাকর্মীরা কাছে পাবেন না বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। প্রতিবছরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঈদের দিন দলটির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। এবার তিনি প্রয়াত। এবার তাকে ছাড়াই ঈদ উদযাপন করতে হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। 

গত দেড় দশকে বিএনপির কাছে ঈদ মানেই ছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, হুলিয়া এবং পুলিশি তল্লাশির আতঙ্ক। ঈদগাহে যাওয়ার চেয়ে আদালতপাড়ায় হাজিরা দেওয়া ছিল তাদের নিয়মিত রুটিন। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বারবার অবরুদ্ধ হয়েছে, কলাপসিবল গেটে ঝুলেছে বড় তালা। ঈদ উপলক্ষে দলটির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে যে শুভেচ্ছা বা সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন থাকত, তাও পণ্ড হতো গোয়েন্দা নজরদারি আর ধরপাকড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলকে এত দীর্ঘ সময় ধরে সুপরিকল্পিত দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়নি। তারা বলছেন, গত ১৬ বছরে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি ঈদ বা একটি বিজয় দিয়ে ভুলে থাকা সম্ভব নয়। তবে ২০২৬ সালের এই ঈদটি তাদের সেই মানসিক ট্রমা থেকে মুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করবে।

এর আগে প্রতিবছর বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে ঈদ আসত ঈদের পরেই আন্দোলনের প্রত্যাশা নিয়ে। এবার আন্দোলনের পরিবর্তে ঈদের আনন্দই মুখ্য তাদের কাছে। বগুড়া থেকে বরিশাল, সিলেট থেকে খুলনাÑ সব স্থানেই বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। এবারের ঈদ বিএনপিকে সুযোগ করে দিয়েছে দীর্ঘ ১৬ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে ওঠার এবং সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার। গুম-খুন আর নির্যাতনের সেই বিভীষিকা পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের এ ঈদ উদযাপন বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক। আন্দোলন শেষ হয়েছেÑ এবার সময় উন্নয়নের এবং মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর। 

জামায়াত নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই এবার নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। নামাজের পর সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।

একই দিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় কূটনৈতিক মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে এবং বেলা ৩টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে জামায়াত আমির পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। জামায়াত সূত্রে জানা যায়, এই শুভেচ্ছা বিনিময় বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জামায়াতের প্রচার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি ঢাকায়, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার নিজ গ্রামে, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি ঢাকায়, সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নিজ গ্রামে, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার খানজাহান আলী থানার নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার নিজ এলাকার ঈদগাহ মাঠে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নওকৈড় নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ ঢাকায়, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুষ্কুরুণী নিজ গ্রামে ঈদ করবেন। 

এ ছাড়াও অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বরিশালে নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেটের নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগরীতে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ঢাকায় ঈদের সময় অবস্থান করবেন বলে জানানো হয়েছে। 

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন বগুড়ায়, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি সাতক্ষীরার নিজ গ্রামে, মোবারক হোসাইন ঢাকায়, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নিজ গ্রামে, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন ঢাকায়, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নিজ গ্রামে এবং ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুর জেলার নিজ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন বলে জানানো হয়েছে দলটির মিডিয়া থেকে।




শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা