ফসিহ উদ্দীন মাহতাব ও দীপক দেব
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:০২ এএম
প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিকল্প হিসেবে ‘প্রশাসক মডেল’ আরও বিস্তৃত করতে বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চলছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের পর এবার উপজেলা পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিকল্প হিসেবে ‘প্রশাসক মডেল’ আরও বিস্তৃত করতে বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চলছে। সরকারি ও রাজনৈতিক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলটি উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতে চাইছে। ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কাঠামোতে ‘সাময়িকভাবে’ নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে, যা বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ক্ষমতা নেওয়ার এক মাসের কম সময়ের মধ্যে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ১১টিতে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ করেছে বিএনপি সরকার। অন্য একটিতে বা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বিএনপির নেতা শাহাদাত হোসেন আদালতের রায় অনুযায়ী মেয়রের শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন দলটি সরকার গঠনের আগে থেকেই। শুধু সিটি করপোরেশন নয়, ৬৪ জেলার মধ্যে ৪২ জেলাতেও নিয়োগ করা হয়েছে দলীয় প্রশাসক। বাকিগুলোতেও ঈদের পর প্রশাসক দেওয়া হতে পারে। পৌরসভাতেও সরকারের নীতিনির্ধারকরা একই পন্থা অবলম্বন করার কথা ভাবছেন। দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসেরও কম সময়ে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয় প্রশাসক নিয়োগ করার কারণে এসব স্থানে নির্বাচন আপাতত আর হচ্ছে নাÑ এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মহলে। তবে এসব নিয়োগে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন সেই ধারাবাহিকতায় উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের আলোচনা শুরু হওয়ার পর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সুসংগঠিত নীতিগত প্রবণতার অংশ।
অবশ্য সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের একাংশ থেকে বলা হচ্ছে, দ্রুতই নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার পর সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ভাবছে ক্ষমতাসীনরা। নাগরিক সেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার দ্রুত নির্বাচনের কথা ভাবছে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নির্বাচন শুরু করার। একই সঙ্গে সরকার একসঙ্গে না করে এ নির্বাচন ধাপে ধাপে করার চিন্তাও করছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাইছে সংসদ অধিবেশনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের ভোটে দলীয় প্রতীক ব্যবহৃত হবে কি না, সে ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসুক। তা হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে। আগামী এপ্রিল-মে মাস থেকে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন শুরু করার চিন্তাভাবনা রয়েছে ইসির।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, গত ১৭ মার্চ সরকার গঠনের পর বিএনপি বর্তমানে এমপি পদে মনোনয়ন বঞ্চিত মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করার দিকে এগোচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১১ সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের পর বিএনপিকে বর্তমানে বিভিন্ন নির্বাচনী ও উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত স্থানীয় সরকার কাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা দরকার। সে কারণে সরকার চাইছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাঠপ্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলতে। পাশাপাশি চলছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনাও করবে বিএনপি।
মেয়াদ শেষে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর এবং পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রায় সবাই আত্মগোপনে চলে যান। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হন। পরে জনপ্রতিনিধিরা আত্মগোপনে থাকায় কিংবা পরিষদে না যাওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছেÑ এমন কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে।
ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোট হয়েছিল ২০২১ সালের ২১ জুন। পঞ্চম ধাপে নির্বাচন হয় ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি। সে হিসেবে প্রথম ধাপে নির্বাচিত ইউপি প্রতিনিধিদের বিদায়ের ক্ষণগণনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে নির্বাচন হয় ২৫টি পৌরসভায়। পরে কয়েক ধাপে নির্বাচন হয় অন্যগুলোতে। সে হিসাবে পৌরসভার পাঁচ বছর মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। আর ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর দেশের ৬১টি জেলা পরিষদের মধ্যে ৫৭টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেরই মেয়াদ শেষ হয়েছে বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্বে নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসকদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের।
যা বলছে সরকার : স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সম্প্রতি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে তার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কি না, সে বিষয়টি সংসদ থেকে চূড়ান্ত হতে হবে।
গত ৩ মার্চ একই ধরনের কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘সংসদে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীকের বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচন হবে না। আইন আকারে পাস হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে আইন সংশোধন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে দলীয় প্রতীকের বিধান বাতিল করে। কোন কোন অধ্যাদেশ গৃহীত হবে, তা সংসদই নির্ধারণ করবে।’
সংসদের দিকে তাকিয়ে ইসি : স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় প্রতীকে হবে, এর জন্য আমরা সংসদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। সংসদ সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা সংশোধনের প্রয়োজন হলে সেগুলো করতে হবে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সারা বছর নির্বাচন কমিশন ব্যস্ত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে মন্ত্রণালয় : সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পথে হাঁটতে চাইছে বিএনপি সরকার। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তাতে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে কারা দায়িত্ব পালন করছেন, তার তালিকা তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে। কতটি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন, কতটি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন, কতটি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন সেসব তথ্যও পাঠাতে বলা হয়েছে ওই চিঠিতে। এই তথ্য আসার পরেই পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে সরকার।
সরকারের অবস্থান হচ্ছে ‘চলমান রাখতে হবে উন্নয়ন’ : সরকার সংশ্লিষ্ট শীর্ষ আমলারা বলছেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সামাজিক সেবা প্রদান এবং প্রশাসনিক সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, তাদের সামনে দুটি পথ ছিলÑ একটি হলো কার্যক্রম স্থগিত রাখা, আরেকটি বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া। তারা দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছেন, যাতে উন্নয়ন থেমে না থাকে। প্রশাসক নিয়োগ সম্পূর্ণ অস্থায়ী একটি ব্যবস্থা। তবে সমালোচকরা বলছেন, ‘অস্থায়ী’ শব্দটি কত দিনের জন্য প্রযোজ্য তা স্পষ্ট নয়। অতীতে এমন উদাহরণ রয়েছে যেখানে সাময়িক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক পুনর্বাসন বাস্তবতা না বিরোধীদের প্রচার : প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসন’ শব্দটিও আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার একটি কৌশল। এটি এক ধরনের ‘পাওয়ার শেয়ারিং মডেল’, যেখানে নির্বাচনের বাইরে থেকেও নেতাদের প্রভাব ধরে রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকার-সমর্থক বিশ্লেষকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই স্থানীয় বাস্তবতা ভালো বোঝেন। তাই প্রশাসক হিসেবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হলে কাজের গতি বাড়ে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হয়।
গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ বনাম নিয়ন্ত্রণ : ‘প্রশাসক মডেল’ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠছে গণতন্ত্রের জায়গা থেকে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক থাকলে সেই অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রশাসকদের জবাবদিহিতার কাঠামোও তুলনামূলকভাবে দুর্বল হতে পারে।
ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও বিশ্লেষক ড. শহীদুজ্জামান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক কাঠামোতে স্থানীয় সরকার একটি প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রের মতো কাজ করে। এখান থেকেই জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি হয়। যদি এই স্তরের নির্বাচন বন্ধ থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও প্রভাব পড়বে। তাই সরকারকে দ্রুত নির্বাচন ব্যবস্থা করতে হবে।’
তৃণমূল প্রশাসনের প্রভাবে কী বদলাতে পারে উপজেলা পরিষদ স্তরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামোসহ নানা খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। এই স্তরে প্রশাসক নিয়োগ করা হলে কয়েকটি বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যেমনÑ সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি বৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি, স্থানীয় নেতৃত্বের সংকোচন ও জবাবদিহিতা হ্রাস। তা ছাড়া জনগণের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধতা কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসক দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে আইনি বৈধতা ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সিনিয়র আইনজীবী ড. গাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আইন প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ দিলেও সেটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির জন্য। যদি এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়, তাহলে আইনি সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নজির রয়েছে বিভিন্ন দেশে স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের নজির রয়েছে। সাধারণত রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ বা বড় ধরনের সংকটের সময় সাময়িকভাবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্রুত নির্বাচন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী : বর্তমান পরিস্থিতিতে উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা দেশের তৃণমূল রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে, উপজেলা পর্যায়ই স্থানীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এখানের এই পরিবর্তন পুরো রাজনৈতিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মডেল দীর্ঘমেয়াদে চালু থাকলে নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্ব কমে গিয়ে দলীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে। অন্যদিকে সরকার বলছে, এটি কেবল একটি বাস্তবমুখী সমাধান, যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তা ছাড়া উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ভাবনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
একদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং উন্নয়ন অব্যাহত রাখার যুক্তি, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার প্রশ্নÑ এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রশাসক মডেলের এই সম্ভাব্য বিস্তার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে একটি নতুন বাস্তবতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। ফলে এখন সবার নজর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নির্বাচন আয়োজনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপের দিকে।