ঈদের কেনাকাটা
কাউসার আহমেদ
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৩:২৮ পিএম
ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর জুতা ও চুড়ির বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে পান্থপথ, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন ফুটপাতের বাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়ায় ক্রেতারা ভিড় করছেন। বিক্রেতারা জানান, রমজানের মাঝামাঝি সময়ে বিক্রি ভালো হলেও ছুটি শুরু হওয়ার পর কিছুটা কমে যায়।
তবে ঈদের ঠিক আগে আবারও ক্রেতাদের আগমন বেড়েছে। শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে অনেক ক্রেতা বাজারে আসছেন। ক্রেতারা জানান, বড় শপিং মলে দাম বেশি হওয়ায় তারা ফুটপাতের বাজারকেই বেছে নিচ্ছেন। এখানে দরদাম করে তুলনামূলক কম দামে জুতা ও চুড়ি কেনা যাচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, ভিড় বাড়লেও আগের মতো চাপ নেই, কারণ ছুটির কারণে অনেকেই ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সরকারি
ছুটিতে রাজধানীর নগরজীবনে নেমেছে অস্বাভাবিক নীরবতা। যে শহর প্রতিদিন যানজট, মানুষের
ভিড় ও কোলাহলে মুখর থাকে, তা এখন অনেকটাই ফাঁকা। ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান,
ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে এয়ারপোর্ট
রুটে বাসে ওঠার সময়েই তা দেখা গেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে বাসে ওঠা প্রায় অসম্ভব ছিল,
সেখানে এবার কোনো ধাক্কাধাক্কি ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে ওঠা গেছে। গত সোমবার পর্যন্ত যে
রুটে অতিরিক্ত চাপের কারণে জায়গা পাওয়া কষ্টসাধ্য ছিল, সেখানে এক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি
পুরোপুরি বদলে গেছে।
পান্থপথের জুতার মার্কেটে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই ক্রেতা
নেই বললেই চলে। যে কয়েকটি দোকানে ক্রেতা দেখা গেছে, সেখানেও ভিড় খুবই কম। অথচ দুই-তিন
দিন আগেও এই এলাকাগুলোতে হাঁটাচলা করা ছিল কঠিন, মানুষের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা পাওয়া
যেত না।
পান্থপথে প্রায় ১৫ বছর ধরে এক্সপোর্টের জুতা বিক্রি করছেন রবিউল আওয়াল
(৬০)। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, প্রতিবছরই এমন হয়। সরকারি ছুটি শুরু হলে মানুষ
ঢাকায় কম থাকে, তখন বাজার একদম ফাঁকা হয়ে যায়। আমাদের মূল বিক্রি রমজানের ১৫ থেকে ২৫
তারিখের মধ্যে হয়, এরপর কমতে থাকে।
শাহিন হাসান নিজের জন্য জুতা কিনতে পান্থপথে এসেছেন। তিনি বলেন, গত
এক সপ্তাহ ধরে বাজেটের মধ্যে জুতা কিনতে চেয়েছি, পাচ্ছি না। কম দামে আশা করে হাজারিবাগ
লেদার জুতার মার্কেটেও গিয়েছিলাম, সেখানে অনেক দাম। দুই জুতা পছন্দ করেছিলামÑ একটা
৪ হাজার, আরেকটা ২ হাজার ৯০০ টাকা। শেষ পর্যন্ত পান্থপথে এসে ১ হাজার ২৫০ টাকায় এক
জোড়া এক্সপোর্টের জুতা কিনতে পারলাম।
ফার্মগেটের ফুটপাত ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামও একই অভিজ্ঞতা জানান। তার
দোকানে সাদা পাঞ্জাবি ও পায়জামা মাত্র কয়েকটি ঝুলানো। তিনি বলেন, এবার বেশি মাল তুলি
নাই। কাস্টমার নেই। বেশি কাপড় ঝুলিয়ে রাখলে ময়লা পড়বে। কেউ পছন্দ করলে তখন বের করি।
কয়েক দিন আগেও যেখানে একসঙ্গে অনেক ক্রেতা সামলাতে হতো, এখন সেখানে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে
হচ্ছে কোনো বিক্রি ছাড়াই।
দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে চুড়ির দোকানে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করছেন
লাইলি বেগম। তিনি বলেন, বড় মার্কেটে দাম বেশি হওয়ায় এখানে এসেছি। ফ্লাইওভার থেকে পাওয়া
সেই দামে দুই মেয়ে ও নিজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনছি।
ফুটপাতের দোকানগুলোতে দরদাম করে তুলনামূলক কম দামে জুতা, চুড়ি ও পোশাক
পাওয়া যায়, যা তাদের পরিবারের বাজেটের জন্য সহায়ক। লাইলি বেগম জানান, শেষ মুহূর্তের
এই বাজার তাদের জন্য খুবই সুবিধাজনক, কারণ বড় মার্কেটে দাম বেশি হওয়ায় প্রয়োজনমতো জিনিস
কেনা সম্ভব হতো না। তাই তারা ছোট মার্কেটকেই বেছে নিয়েছেন।
পরিবহনের পরিস্থিতি :
পরিবহন খাতেও সরকারি ছুটির প্রভাব স্পষ্ট। গুলিস্তান থেকে আশুলিয়া রুটে চলাচলকারী এয়ারপোর্ট
পরিবহনের কন্ডাক্টর হেলাল উদ্দিন জানান, গত সোমবার রাতেও বাসভর্তি যাত্রী নিয়ে চলছিলাম,
জ্যামও ছিল অনেক। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে বের হয়ে দেখি মানুষই নেই। অন্য দিনের তুলনায়
যাত্রী অনেক কম।
প্রতিদিন কারওয়ান বাজার থেকে ঠেলাঠেলি করে বাসে ওঠা আবু রায়হানও সরকারি
ছুটি শুরু হওয়ার পর অভিজ্ঞতা ভিন্ন পেয়েছেন। তিনি বলেন, আজ (মঙ্গলবার) কোনো ঠেলাঠেলি
ছাড়াই বাসে উঠতে পারলাম। সিটগুলোও বেশ ফাঁকা। কোথাও যাত্রীর জন্য বাস থামতে হয়নি, শুধু
সিগনালে সামান্য সময় লেগেছে। যদি প্রতিদিন এমন হতো, তাহলে রাজধানীতে থাকা অনেক স্বস্তির
হতো।