× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাংলাদেশে ফার্স্ট লেডি কে

আসাদুজ্জামান সম্রাট

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৪ এএম

রেবেকা সুলতানা ও ডা. জুবাইদা রহমান

রেবেকা সুলতানা ও ডা. জুবাইদা রহমান

বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডি কে? এ প্রশ্নের কোনো আইনসিদ্ধ উত্তর নেই। কারণ পশ্চিমা বিশ্বে আইনসিদ্ধ ও সক্রিয় একটি পদ হলেও বাংলাদেশে ফার্স্ট লেডির ধারণা কোনো আনুষ্ঠানিক ও কার্যকর অর্থ বহন করে না। যেমনÑ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ পদের নির্দিষ্ট কিছু কাজ ও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। সেখানে শুধু প্রেসিডেন্টের স্ত্রীই ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি, কোনো কোনো সময় প্রেসিডেন্টের বোন, কন্যা, ভাগ্নি কিংবা ভাতিজিও ফার্স্ট লেডির পদ অলঙ্কৃত করেছেন।

বাংলাদেশে ফার্স্ট লেডির বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়। তখন আনুষ্ঠানিকভাবে রওশন এরশাদকে ফার্স্ট লেডি ঘোষণা করা হয়। তাকে অফিস, সাপোর্টিং স্টাফসহ বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্বও দেওয়া হয়। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ফার্স্ট লেডি হিসেবে রওশন এরশাদ সামাজিক কল্যাণ, নারী ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং মাদকের অপব্যবহার-সংক্রান্ত জাতিসংঘের বিশেষ কনভেনশনেও অংশ নেন। সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজের একক ক্ষমতাবলে তার স্ত্রীকে ফার্স্ট লেডি ঘোষণা করলেও এর আইনগত কোনো ভিত্তি তৈরি ও অনুমোদন করে যাননি। ফলে তার ক্ষমতা ত্যাগের পরপরই ফার্স্ট লেডি পদটি এক অর্থে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

পরে ১৯৯০-এর গণআন্দোলনে সামরিক জান্তা এরশাদের পতনের পর বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় চলে আসে। এ কারণে সকল ক্ষমতা তখন প্রেসিডেন্টের বদলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কেন্দ্রীভূত হয়। এর ফলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা যেমন কমে আসে, তেমনি এ পদটি সম্পর্কেও মানুষের আগ্রহ কমে আসে। যদিও সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম পথিকৃৎ দেশ ইউনাইটেড কিংডমেও ফার্স্ট লেডির বিষয়টি কমবেশি প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় অধিকাংশ সময়েই প্রধানমন্ত্রী নারী হওয়ার কারণে ফার্স্ট লেডির বিষয়টি আর আলোচনায় আসেনি। জনমনেও এ নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার নাম ফার্স্ট লেডি। স্বামীর সঙ্গে তারা হোয়াইট হাউসে বাস করেন এবং রাষ্ট্রপতি পদে সুচারুভাবে দায়িত্ব পালনে স্বামীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সহধর্মিণীকে বিশেষ কোনো নামে ডাকা হতো না। ওই সময়ে নিজস্ব দক্ষতা, যোগ্যতা, সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের লেডি, মিসেস প্রেসিডেন্ট, মিসেস প্রেসিডেন্ট্রেস বা কুইন অব দ্য হোয়াইট হাউস নামে ডাকা হতো। যেমনÑ প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের স্ত্রীর পদবি ছিল লেডি ওয়াশিংটন।

১৮৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফার্স্ট লেডি পদবির প্রচলন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট জ্যাকারি টেইলরের স্ত্রী ছিলেন ডলি মেডিসন। প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক উদযাপনের সময় তিনি স্বলিখিত ও উচ্চ-প্রশংসাযুক্ত কবিতায় তাকে ‘ফার্স্ট লেডি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ১৮৬৩ সালের একটি প্রকাশনাতে সর্বপ্রথম লিখিতভাবে ফার্স্ট লেডি শব্দটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বিশেষত এ সময় থেকেই ফার্স্ট লেডি শব্দের প্রচলন শুরু হয়। এরও অনেক পরে হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে ফার্স্ট লেডি পদ প্রবর্তন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ফার্স্ট লেডি পদে প্রেসিডেন্টকন্যাও মায়ের অনিচ্ছা ও অক্ষমতাজনিত কারণে শূন্যস্থান পূরণে তার বিকল্প হিসেবে ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট বিপত্নীক বা কুমার হলে হোয়াইট হাউসে বসবাসরত অন্য নারী এ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বের কিছু দেশে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নারীরা এগিয়ে রয়েছেন। সেক্ষেত্রে তাদের স্বামী অর্থাৎ পুরুষদের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈপরীত্য হিসেবে ‘ফার্স্ট জেন্টেলম্যান’ উপাধি দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখনও কেউ ফার্স্ট জেন্টেলম্যান হিসেবে আবির্ভূত হননি। কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকার সময় তার স্বামীকে ‘সেকেন্ড জেন্টেলম্যান হিসেবে অভিহিত করা হতো।

অনেকে বলে থাকেন, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বাংলাদেশের প্রথম ফার্স্ট লেডি। কিন্তু এর কোনো আইনগত কিংবা আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের স্ত্রীদের ফার্স্ট লেডি হিসেবে আখ্যায়িত করলে পর্যায়ক্রমে যাদের নাম আসে তারা হলেনÑ সৈয়দা নাফিসা ইসলাম (রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্ত্রী), বেগম খুরশিদ চৌধুরী (রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর স্ত্রী), আমেনা বেগম (রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের স্ত্রী), খোদেজা বেগম (রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের স্ত্রী), বেগম খালেদা জিয়া        (শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী), হামিদা চৌধুরী (রাষ্ট্রপতি আ ফ ম আহসানউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী), রওশন এরশাদ (রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী), আনোয়ারা বেগম (রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের স্ত্রী), হোসনে আরা রহমান (রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের স্ত্রী), হাসিনা ওয়ারদা চৌধুরী (রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর স্ত্রী), নূর আক্তার (সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সাবেক জাতীয় সংসদ স্পিকার ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী জমির উদ্দিন সরকারের স্ত্রী) ড. আনোয়ারা বেগম (রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী), রাশিদা হামিদ (রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের স্ত্রী) ও রেবেকা সুলতানা (রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্ত্রী)।

বাংলাদেশে বর্তমান ফার্স্ট লেডি কেÑ এ প্রশ্নের যেমন মীমাংসিত উত্তর নেই, তেমনি আইনগত ভিত্তিও নেই। তবে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারার কারণে সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রক্ষমতার প্রধান ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কারণে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ক্ষমতা বলয়ে অনেক গুরুত্ব পেয়ে থাকেন। ক্ষমতার ও সামাজিক বলয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের স্ত্রী রেবেকা সুলতানার সক্রিয়তা ও গুরুত্ব সে বিবেচনায় নেই বললেই চলে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে ভিভিআইপি গ্যালারির প্রথম সিটটি সংরক্ষিত ছিল ডা. জুবাইদা রহমানের সংরক্ষিত। অবশ্য জাতীয় সংসদে প্রেসিডেন্টের জন্য প্রেসিডেন্ট বক্স রয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ফার্স্ট লেডি প্রত্যয়টির একটি আইনসিদ্ধ ব্যাখ্যা ও গুরুত্ব ক্রমশই অনিবার্য হয়ে উঠছে। আনুষ্ঠানিকভাবে আইনগতভাবে কে ফার্স্ট লেডি হবেন, তার ভূমিকাই বা কী হবেÑ এ প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক মীমাংসা থাকলে তিনি রাষ্ট্রীয় কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি সামাজিক দায়দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, ‘তারেক রহমান যেভাবে তার বাবার মতো জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন, তাতে আমার মনে হয় না এমন বিষয় তার মাথায় রয়েছে। আজকেও আমরা দেখেছি পিতার মতোই তিনি খাল খননে নেমে পড়েছেন এবং কাদামাখা শরীর নিয়েই সভামঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান বিভিন্ন পরিসরে সামাজিক কাজ করছেন, এটা ভালো একটি দিক। কিন্তু একেবারেই আনুষ্ঠানিকভাবে এরশাদের মতো করে তাকে ফার্স্ট লেডি ঘোষণা করা হবে... প্রধানমন্ত্রী এ রকম করবেন বলে আমার মনে হয় না।’

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা