× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইরান যুদ্ধ কি পেট্রোডলারের আধিপত্য নাড়িয়ে দেবে?

মিডল ইস্ট মনিটর

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬ ২৩:১৬ পিএম

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে গত ৪ মার্চ একটি পেট্রোল পাম্পে পেট্রোলের দাম লেখা একটি সাইনবোর্ড। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে গত ৪ মার্চ একটি পেট্রোল পাম্পে পেট্রোলের দাম লেখা একটি সাইনবোর্ড। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেল বাজারে প্রথম কম্পন অনুভূত হচ্ছে। তবে আসল ধাক্কাটা হয়তো পরে আসবে, যার অভিঘাত পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ব্যবস্থার একদম গোড়ায়।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থা একটা নীরব কিন্তু প্রচণ্ড শক্তিশালী চুক্তির ওপর টিকে আছে। সেটি হচ্ছে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য। ১৯৭০-এর দশকের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষমতাকে আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতির মূল স্তম্ভে পরিণত করতে সাহায্য করেছিল।

তবুও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এই ব্যবস্থায় অভাবনীয় চাপ তৈরি করতে পারে। তার মানে এই নয় যে ডলার এখনই ধসে পড়বে। বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের এই অস্থিরতা সেই প্রক্রিয়াগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে, যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মুদ্রার মানচিত্র বদলে দিচ্ছে।

১৯৭১ সালে ‘ব্রেটন উডস’ ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ার পর যখন যুক্তরাষ্ট্র ডলারকে স্বর্ণে রূপান্তরের সুবিধা বন্ধ করে দেয়, তখনই পেট্রোডলার ব্যবস্থার জন্ম হয়। ১৯৭৪ সালে ওয়াশিংটন ও সৌদি আরব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছায়। সেটি হলো সৌদি আরবের রপ্তানি করা তেলের দাম শুধুমাত্র ডলারে নির্ধারণ করা হবে, আর বিনিময়ে সৌদি আরবের বাড়তি তেলের টাকা আবার যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারে, বিশেষ করে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হবে। অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোও দ্রুত একই পথ অনুসরণ করে।

এই ব্যবস্থাটি একটি শক্তিশালী আর্থিক চক্র তৈরি করেছিল। বিশ্বের সবচেয়ে জরুরি পণ্য তেল কাঠামোগতভাবে ডলারের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। যে দেশগুলো জ্বালানি আমদানি করত, তাদের হাতে ডলারের রিজার্ভ রাখার প্রয়োজন দেখা দিল, যা বিশ্ববাজারে এই মুদ্রার চাহিদা সবসময় বজায় রাখল। অন্যদিকে, তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো প্রচুর ডলার জমিয়ে ফেলল, যা আবার ঘুরেফিরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে ফিরে এল। 

এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, আজও বিশ্বের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ৫৮ শতাংশই ডলার, আর বিশ্বজুড়ে তেলের লেনদেনের বড় একটা অংশ এখনও মার্কিন মুদ্রাতেই হয়। 

অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ ব্যারি আইচেনগ্রিন বলেছেন, ডলারের এই রাজত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নয়, বরং তাদের আর্থিক বাজারের গভীরতা ও বিশ্বস্ততার ওপরও দাঁড়িয়ে আছে।

কিন্তু মুদ্রাব্যবস্থা শুধু অর্থনীতি দিয়ে টিকে থাকে না। রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ রবার্ট গিলপিনের যুক্তি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার আসল কাঠামোর প্রতিফলন ঘটায়। কোনো মুদ্রার আধিপত্য সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক নেতৃত্বের পথ অনুসরণ করে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে পাউন্ড ছিল বিশ্ব অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি; আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র যখন সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের প্রধান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল, ডলার সেই জায়গা দখল করল।

তাই পেট্রোডলার ব্যবস্থা মূলত তিনটি আন্তঃসংযুক্ত স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সেগুলো হলো- উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীল জ্বালানি উৎপাদন, তেলের বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বজায় রাখা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

ইরানের সঙ্গে একটি বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধ এই তিনটি স্তম্ভকেই হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য আজও বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। পারস্য উপসাগর আর আরব সাগরকে সংযোগকারী সরু জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’র চেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ আর নেই। 

মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) মতে, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় ২০ শতাংশ—অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। সেই সঙ্গে বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশও এখান দিয়েই পার হয়। 

ইতিহাস বলে, হরমুজ প্রণালীতে সামান্য উত্তেজনাও তেলের দাম আকাশচুম্বী করে দেয়। সেখানে সরাসরি সামরিক সংঘাত হলে তা শুধু জাহাজ চলাচলের পথই বন্ধ করবে না; এটি বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থার নিরাপদ ভরসা হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর মানুষের বিশ্বাস নড়বড়ে করে দিতে পারে। 

আর এই ‘বিশ্বাস’ বা ‘আস্থা’ই হলো বিশ্ব অর্থনীতির অদৃশ্য মেরুদণ্ড। বিনিয়োগকারী, সরকারি বিনিয়োগ তহবিল এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সবকিছু আগে থেকে ধারণা করা যাবে—এমন নিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করে চলে। যখনই সেই নিশ্চয়তা দুর্বল হতে শুরু করে, পুঁজি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার জন্য অন্য কোনো বিকল্প খুঁজে নেয়।

ইতিহাস দেখায় কীভাবে এই পরিবর্তনগুলো ঘটে। সপ্তদশ শতাব্দীতে ডাচদের বাণিজ্যিক উত্থানের সময় বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র ছিল আমস্টারডাম, পরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আমলে তা লন্ডনে চলে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু আটলান্টিক পেরিয়ে নিউ ইয়র্কে চলে আসে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আধুনিক মুদ্রাব্যবস্থার সব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।

প্রতিটি পরিবর্তনই ছিল ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার পুনর্বণ্টনের প্রতিফলন। বর্তমানে আরও একটি কাঠামোগত পরিবর্তন শুরু হয়েছে; বিশ্ব জ্বালানি চাহিদার কেন্দ্র এখন পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে।

বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময়জুড়ে পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্ব তেলের প্রধান ভোক্তা ছিল। আজ সেই কেন্দ্রবিন্দু নির্ণায়কভাবে এশিয়ার দিকে সরে গেছে। চীন এখন বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ, যারা প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল কেনে। ভারতও দ্রুততম হারে জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশগুলোর একটি, আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও জ্বালানির চাহিদা বেড়েই চলেছে।

এই জ্বালানির বড় একটা অংশ এখনও আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। এই পরিবর্তন মুদ্রাব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রধান ক্রেতারা আটলান্টিক অঞ্চলের বদলে এশিয়ায় থাকে, তবে লেনদেনের মুদ্রা কী হবে সেই হিসাবও ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে।

আসলে, এই বৈচিত্র্যের প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। চীন তাদের মুদ্রা ইউয়ানকে আন্তর্জাতিক করার চেষ্টা করছে; ২০১৮ সালে সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এক্সচেঞ্জে ইউয়ান-ভিত্তিক তেলের ফিউচার মার্কেট চালু করা হয়েছে। বেশ কিছু উদীয়মান অর্থনীতি নিজেদের স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের কথা ভাবছে, আর উপসাগরীয় উৎপাদনকারীরাও মাঝে মাঝে ডলারে তেল বিক্রি না করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্বের বিশাল ডলার বাজারের তুলনায় এই পরিবর্তনগুলো এখনও ছোট। কিন্তু এগুলো সেই পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করছে, যাকে অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ অ্যাডাম টুজে ‘বিশ্ব আর্থিক মানচিত্রের ধীর পুনর্গঠন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। আধুনিক কৌশলগত লড়াই এখন যতটা না সামরিক শক্তির মাধ্যমে হয়, তার চেয়ে বেশি হয় আর্থিক হাতিয়ারের মাধ্যমে। নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংকিং বিধিনিষেধ এবং বৈশ্বিক পেমেন্ট সিস্টেম থেকে বাদ দেওয়া এখন রাষ্ট্র পরিচালনার বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরান বারবার এই চাপের সম্মুখীন হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তাদের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত ও সুইফটের মতো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার পথ বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। তবে এই আর্থিক চাপের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল আছে; যেসব দেশ এই চাপের মুখে পড়ে, তারা স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ খোঁজে।

ইরান ইতোমধ্যে পণ্য বিনিময় প্রথা (বার্টার), স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন এবং চীন ও রাশিয়ার মতো অংশীদারদের সঙ্গে আরও গভীর আর্থিক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছে। আরও বড় পরিসরে বললে, উদীয়মান অর্থনীতিগুলো বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা, আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক এবং আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল মুদ্রার কথা ভাবতে শুরু করেছে।

আর্থিক কৌশলবিদ জোল্টান পোজসারের যুক্তি, এই উন্নয়নগুলো ধীরে ধীরে বিশ্ব মুদ্রাব্যবস্থাকে খণ্ডবিখণ্ড করে দিতে পারে—যা হবে কম ডলার-কেন্দ্রিক।

তবুও, ডলারের পতন এখনই হয়ে যাবে—এমন ভবিষ্যদ্বাণী করাটা বড্ড তাড়াহুড়ো হয়ে যায়। আমেরিকার হাতে এমন কিছু সুবিধা আছে যা অন্য কোনো ব্যবস্থার পক্ষে সহজে নকল করা সম্ভব নয়। আমেরিকার আর্থিক বাজার এখনও বিশ্বের সবচেয়ে গভীর এবং সচল বাজার, আর মার্কিন সরকারি বন্ডগুলো এখনও বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ।

নেটওয়ার্ক ইফেক্টের কারণে এই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী। যেহেতু বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক লেনদেন ইতিমধ্যেই ডলারে হয়, তাই বর্তমান ব্যবস্থা থেকে সরে আসা অনেক ব্যয়বহুল।

হঠাৎ ধসে যাওয়ার চেয়ে ধীরগতির বিবর্তন হওয়াটাই অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। একটি মাত্র আধিপত্য বিস্তারকারী রিজার্ভ মুদ্রার বদলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাটি ধীরে ধীরে একটি ‘মাল্টিপোলার’ বা বহুমুখী মুদ্রাব্যবস্থার দিকে যেতে পারে, যেখানে ডলার প্রধান অবস্থানে থাকলেও আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থায়নে অন্যান্য মুদ্রাও বড় জায়গা দখল করবে।

মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য এর প্রভাব অনেক গভীর। উপসাগরীয় অঞ্চল দীর্ঘকাল ধরে বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। দুবাই, দোহা বা রিয়াদের মতো শহরগুলো বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রস্থল হতে পেরেছে কারণ ঐতিহাসিকভাবে একটি অস্থির অঞ্চলের মধ্যেও তারা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পেরেছিল।

যদি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সেই ধারণাকে নষ্ট করে দেয়, তবে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। একই সাথে, আরও বৈচিত্র্যময় একটি আর্থিক ব্যবস্থা এশিয়া, আফ্রিকা এবং সামগ্রিকভাবে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। অনেক দেশের জন্য চ্যালেঞ্জটি কেবল ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সামলানো নয়, বরং এই পরিবর্তনশীল ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের কৌশলগতভাবে টিকিয়ে রাখা।

বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থা রাতারাতি ধসে যায় না। অর্থনৈতিক ওজন এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব যখন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পুনর্বণ্টন হয়, তখন এগুলো খুব ধীরে এবং অলক্ষ্যে বদলে যায়।

ইসলামিক চিন্তাধারা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দেয়। কুরআন বারবার একটি স্থায়ী ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে ভারসাম্য এবং ন্যায়বিচারের ওপর জোর দিয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলোও, রাজনৈতিক ব্যবস্থার মতো, খুব বেশিদিন টিকে থাকে না যখন ক্ষমতা অতিরিক্ত মাত্রায় এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে ইতিহাস দেখিয়েছে যে, বাস্তব পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে বৈশ্বিক ব্যবস্থাগুলোও নিজেদের বদলে নেয়।

ইরানকে ঘিরে এই যুদ্ধের সামরিক ফলাফলের চেয়েও বড় গুরুত্ব হতে পারে বর্তমান মুদ্রাব্যবস্থার ওপর এটি যে চাপ তৈরি করছে তার জন্য। যদি এই চাপগুলো ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে আগামী কয়েক দশক হয়তো ডলারের শেষ দেখবে না, কিন্তু এটি এমন এক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে যখন বিশ্ব শান্তভাবে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের ছায়ায় গড়া আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিল। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা