রেজাউল করিম, গাজীপুর
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ১১:০৪ এএম
গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার হাইওয়েতে ভাসমান দোকান, রাস্তা দখল, গাড়ি পার্কিং করে যানজট তৈরি করা হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে যানজটের ভোগান্তি কমাতে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ হতে নেওয়া হচ্ছে নানামুখী পরিকল্পনা। যেকোনো মূল্য ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে চান তারা। তবে এসব বাস্তবায়নে এখনও জোরালো কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি নাওজোর হাইওয়ে পুলিশকে। এখনও মহাসড়কের ভাসমান দোকান ও অবৈধ স্থাপানা মহাসড়কের পাশ থেকে সরানো হয়নি।
গত বুধবার সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চন্দ্রাকেন্দ্রিক সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় আসেন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস-উত্তর) মো. রফিকুল হাসান গণি। এ সময় তিনি হাইওয়েতে ভাসমান দোকান, রাস্তা দখল, গাড়ি পার্কিং ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেন। তবে তার নির্দেশনার পরেও তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় হয়ে উত্তরবঙ্গের প্রায় ১৯-২০টি জেলার মানুষ ঘরে ফেরেন। ঈদ মৌসুমে এই মহাসড়কের কোনাবাড়ি, মৌচাক, সফিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় গাড়ির লম্বা সারি। এ ছাড়াও এই এলাকায় মহাসড়কে বসানো হয়েছে অবৈধ দোকানপাট। এদের কারণেই বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাড়ির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল বাড়তে থাকলে চন্দ্রাকেন্দ্রিক এই যানজট দেখা দেয় কয়েক কিলোমিটার জুড়ে। এতে প্রতিবছর ঈদযাত্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিড়ম্বনায় পড়েন ঘরমুখো মানুষ।
যাত্রী ও চালকরা বলছেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ গাড়ি পার্কিং, এলোমেলো হয়ে জটলা সৃষ্টি, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার পাশাপাশি ট্রাফিক আইন না মানার কারণে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানজট লেগে থাকে। এ ছাড়া মহাসড়কে বেপরোয়া অটোরিকশা চলাচল, ত্রুটিপূর্ণ লেনের কারণে গাড়ির গতি মন্থর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাসিক অর্থের বিনিময়ে ভাসমান দোকান বসানোর ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, গাজীপুরে ছোটবড় প্রায় ৫ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, এর মধ্যে দুই হাজারের অধিক পোশাক কারখানা। ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ও যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে এসব কারখানা একসঙ্গে ছুটি হওয়া। প্রতিবছরের একসঙ্গে ছুটি হওয়ায় লাখো শ্রমজীবী মানুষেরা ছোটেন গাঁয়ের পথে। ফলে মহাসড়কে তৈরি হয় অতিরিক্ত মানুষের চাপ, বাড়ে ভোগান্তি, গুনতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া। এবারের ঈদেও অধিকাংশ কারখানা ছুটি হবে ১৮ মার্চ।
সরেজমিন দেখা যায়, গত কয়েক দিনের তুলনায় শনিবার থেকে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে কোনাবাড়ি, সফিপুর, মৌচাক, পল্লীবিদুৎ, চন্দ্রা এলাকায় হাজার হাজার ভাসমান দোকান বসেছে। এসব দোকান থাকায় মহাসড়কের আয়তন কমে সরু লেন হয়ে গেছে। এসব দোকান হতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা নেওয়া হয় বলে জানান দোকানদারেরা।
এ বিষয়ে নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শওগাতুল আলম বলেন, আমরা উচ্ছেদ করব নাÑ এটা তো বলিনি। জনবল কম রয়েছে, আমরা শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।