দীপক দেব
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:২২ এএম
লঞ্চমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থারর দাবি, পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে ঈদযাত্রা নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঈদে ঘরমুখো নৌপথের যাত্রীদের জন্য লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার। এরই মধ্যে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদে ঢাকা থেকে বরিশালগামী লঞ্চগুলোর প্রায় শতভাগ টিকিট বুকিং হয়ে গেছে। তবে ১৬ থেকে ১৮ মার্চের প্রায় সব টিকিট শেষ হয়ে গেলেও এখনও রয়ে গেছে ১৯ তারিখের কিছু টিকিট। এদিকে নৌপথে ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। টিকিট বিক্রির পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে নির্বিঘ্নে যাত্রার প্রতিশ্রুতির কথা শোনানো হয়েছে। তবে লঞ্চমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থা বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে ঈদযাত্রা নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আজ রবিবারের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে তারা ঈদ সামনে রেখে স্পেশাল ট্রিপ চালাতে পারবে না। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এতে নৌপথে ঘরমুখী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়বেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নৌযান মালিকদের সংগঠন থেকে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী এবং বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানকে পৃথকভাবে অবহিত করা হয়েছে। এজন্য দাপ্তরিকভাবে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পরও গত সাত দিনে সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। গত ঈদ মৌসুমের জরিপ অনুযায়ী এবারও কমপক্ষে ১৫ লাখ মানুষ নৌপথে ঢাকা ছেড়ে যাবে। বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও ঈদ স্পেশাল ট্রিপ শুরু হবে ১৭ মার্চ থেকে। কিন্তু ঈদ স্পেশাল ট্রিপ শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে লঞ্চমালিক সমিতির পক্ষ থেকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তুলে ধরে হয়েছে সংকট ও নিশ্চয়তার কথা। জানা গেছে, জ্বালানির অভাবে গত শুক্রবার তিনটি বড় লঞ্চ সদরঘাট থেকে দক্ষিণবঙ্গের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারেনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা নদীবন্দর হতে বর্তমানে ৩৮টি নৌপথে ৬০-৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। এই সংখ্যা পবিত্র ঈদুল ফিতরে দ্বিগুণ হয়। লঞ্চগুলোতে প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। জানা যায়, ঢাকা-বরিশাল অভিমুখী প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৭ হাজার লিটার, পটুয়াখালী অভিমুখী লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার, বেতুয়া অভিমুখে গড়ে ৬ হাজার লিটার জ্বালানি প্রয়োজন। এমনিভাবে ৩৮টি নৌপথে ১৪০টি লঞ্চের জন্য প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। এই হিসাব শুধু ঢাকা থেকে চলাচলরত লঞ্চের জন্য। এছাড়া বরিশাল, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, আরিচা, সিলেট-ভৈরব, নরসিংদী, রাঙামাটি, মাওয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও তেলের স্বল্পতা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, ঢাকা নদীবন্দর হতে চলাচলরত লঞ্চগুলোতে কয়েকটি কোম্পানি তাদের মিনি ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করে। কিন্তু লঞ্চমালিকদের পক্ষ হতে বলা হয়, এই কোম্পানিগুলো ডিপো (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) হতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। অন্যদিকে ডিপোগুলোর পক্ষ হতে জানানো হয়েছে সদরঘাটে লঞ্চ পরিচালনার জন্য তাদের কোনো কোটা নেই। জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (প্ল্যানিং এবং অপারেশন) সাজেদুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয় থেকে দেখা হচ্ছে। সেখান থেকে আমাদের জানানো হয়েছে জ্বলানি নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। আশা করছি, সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বছিলা ও শিমুলিয়া ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। যাত্রীচাপ কমাতে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের পাশাপাশি বিকল্প ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা নদীবন্দরে অতিরিক্ত চাপ কমাতে বছিলা ব্রিজ-সংলগ্ন লঞ্চঘাট এবং কাঞ্চন ব্রিজ-সংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ চলাচল করবে। ১৭ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বছিলা লঞ্চঘাট থেকে ৬টি এবং শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে ৩টি লঞ্চ বিভিন্ন নৌপথে যাত্রী পরিবহন করবে। এছাড়া ঈদযাত্রায় যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সদরঘাট এলাকায় প্রবীণ ও নারী যাত্রীদের মালামাল বহনে ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১২ দিন টার্মিনাল থেকে লঞ্চ পর্যন্ত বিনামূল্যে কুলি বা পোর্টার সেবা দেওয়া হবে। একই সময় অসুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য সদরঘাট ও বরিশাল নদীবন্দরে হুইলচেয়ার সেবার ব্যবস্থাও থাকবে। বিআইডব্লিউটিএ আশা করছে, এসব উদ্যোগের ফলে এবারের ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।