নতুন কমিটি
মাহরিব বিন মহসিন, ঢাবি
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৬ এএম
ছাত্রদলের লোগো। ছবি: বাসস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখায় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ‘সিলেকশন’ পদ্ধতিতে কমিটি গঠনের রেওয়াজ থাকলেও এবার খোদ দলের হাইকমান্ড থেকে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। তবে এবারও শীর্ষ পদে ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীরাই আসতে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই বছরের মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদও ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। ফলে কেন্দ্র থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়Ñ সর্বত্রই এখন বইছে নতুন নেতৃত্বের হাওয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংগঠনের ত্যাগী ও দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেতাদেরই নতুন কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন তা নির্ভর করছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের শীর্ষ দুই পদÑ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে শীর্ষ এই দুই পদে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে।
জানা যায়, ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি ঢাবির ২০০৯-২০১০ সেশন থেকে নির্বাচিত হতে পারেন। এই সেশন থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ছাত্রদলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান। তিনি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তৃণমূলের একটি অংশের কাছে বেশ জনপ্রিয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির একজন নেতা।
একই সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান। বিশেষ করে, জেন-জি প্রজন্মের ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান ও তৎপরবর্তী রাজনীতিতে তার ভূমিকা আলোচনায় উঠে এসেছে।
এ ছাড়া শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন ২০১০-২০১১ সেশনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের ঢাবি শাখা সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক। ফ্যাসিবাদী সময়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তারা সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবেই পরিচিত।
২০১১-১২ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেনÑ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, ঢাবি শাখা সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সোহেল রানা, গাজী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও রাজু আহমেদ।
ঢাবি শাখা কমিটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হয় ঢাবি শাখা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু দীর্ঘদিনের সংগ্রাম নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতিতে পারদর্শীÑ এমন নেতৃত্বই বাছাই করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে শীর্ষ দুই পদসহ অন্যান্য পদে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় মূলত ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ সেশনের নেতারা বেশি আলোচনায় রয়েছেন। তবে এর চেয়ে জুনিয়র নেতারাও কমিটিতে শীর্ষ পদ পেয়ে চমক দিতেও পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
২০১৪-১৫ সেশন থেকে বিএম কাউসার এবং সাইফ খান জোর আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়া ২০১৫-১৬ সেশন থেকে রয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। একই সেশনের মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী ও আবু হায়াত মো. জুলফিকার জিসান এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম।
আগামী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কমিটি কীভাবে গঠিত হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এবার বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে উপস্থিত থাকায় নতুন কমিটি গঠনে তার সরাসরি ভূমিকা থাকতে পারে বলেও আশা করছেন অনেক নেতাকর্মী।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘গত ১ মার্চ আমাদের দুই বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন কমিটিতে কারা থাকছেন সেই সিদ্ধান্ত আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নেবেন।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে যারা পরীক্ষিত, নির্যাতিত এবং যাদের সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা আছে, তাদের দিয়েই কমিটি হওয়া জরুরি।’