× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তদবিরবাজ পুলিশে বিব্রত মন্ত্রণালয়

নূর মোহাম্মদ মিঠু ও সৌরভ হোসেন

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩৯ এএম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি: বাসস

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি: বাসস

তদবিরবাজ পুলিশ সদস্যদের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমনকি মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। সম্প্রতি বিষয়টি চরম পর্যায়ে পৌঁছায় মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সদর দপ্তরকে জানানো হয়েছে। এরপর পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষ থেকে পুলিশ সদস্যদের মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদবির না করার জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ পুলিশের মধ্যেই চলছে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানায়, গত সরকারের সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশ এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা পদোন্নতি, বদলি কিংবা শাস্তি সংক্রান্ত নানা বিষয়ে তদবির নিয়ে সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভিড় করছেন। এ ক্ষেত্রে শুধু পদোন্নতি বঞ্চিতরাই নন, বিভিন্ন সময়ে শাস্তি ভোগ করা কর্মকর্তারাও মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাড়ছে, যা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করছে বলে অভিযোগ উঠছে।

সূত্র জানায়, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে শুরু করায় গত বছরের জুলাই মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে পুলিশের সদস্যদের অহেতুক মন্ত্রণালয়ে এসে তদবির বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের আগস্ট মাসে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় তদবির নিয়ে মন্ত্রণালয়ে না যাওয়ার জন্য দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে নির্দেশনা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। 

তবে কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে আবারও আগের মতো তদবিরের প্রবণতা দেখা দেয়। বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা আবারও অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে এসে বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করতে শুরু করেন। ফলে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে ওঠে।

এ অবস্থায় গত সোমবার পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না এবং পদোন্নতি বা অন্য কোনো বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে যেকোনো ধরনের তদবির করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের কিছু সদস্য অফিস চলাকালে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করছেন।

বিষয়টি সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে জানিয়ে নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এ ধরনের তদবিরের কারণে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিব্রত হচ্ছেন। একই সঙ্গে পুলিশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সরকারি দৈনন্দিন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এ ধরনের কার্যকলাপ নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ সদর দপ্তরের ওই নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সে কারণে গত বছরের ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি স্মারক এবং ৪ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তরের একটি নির্দেশনার মাধ্যমে বিষয়টি দেশের সব ইউনিট এবং প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের জানানো হয়। কিন্তু নির্দেশনার পরও একই ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে দেখা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে নির্দেশনা জারি করে আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। পাশাপাশি পদোন্নতি, বদলি বা অন্য কোনো বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অপ্রয়োজনীয় তদবির করা থেকেও বিরত থাকার জন্য সব সদস্যকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘অফিস চলাকালে অনুমতি ছাড়া নিজ দপ্তর ত্যাগ করে কোনো সরকারি মন্ত্রণালয় বা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অবস্থান করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতেই চিঠিটি পুনরায় জারি করা হয়েছে।’

এদিকে পুলিশের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র বলছে, ছাত্রজীবনে থাকা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত মন্ত্রণালয়ে গিয়ে নিজেদের পদোন্নতি এবং পছন্দের জায়গায় বদলির তদবির করছেন। এতে প্রশাসনের ভেতরে দলবাজির একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রটির দাবি, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর একটি পক্ষ নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে পদোন্নতি এবং পছন্দসই পোস্টিংয়ের জন্য জোর তদবির চালাচ্ছেন। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া তদবির করতে আসা কর্মকর্তাদের ভিড়ের কারণে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। সূত্রটি আরও জানায়, পুলিশের একটি অংশের এই তদবিরবাজি নিয়ে ভেতরে ভেতরে তীব্র ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও বলছেন, দায়িত্ব পালনের বদলে কেউ কেউ যেন মন্ত্রণালয়ের করিডোরকেই নিজেদের কর্মস্থল বানিয়ে ফেলেছেন। দিনভর তদবির, সুপারিশ আর লবিং এই সংস্কৃতি পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলার জন্য সরাসরি হুমকি। প্রশাসনের ভেতরে প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি বা পছন্দের পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ না হলে বাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, নিয়ম ভেঙে যারা তদবিরে মেতে উঠেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নিলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদর দপ্তর কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা