ঈদবাজার
কাউসার আহমেদ
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬ ১৩:৫০ পিএম
ঈদের বাজারে চাহিদা বেড়েছে চামড়ার জুতার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর জুতার বাজারে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে আরাম ও আভিজাত্যের সংমিশ্রণে হরেক রকমের ডিজাইনের দাপট দেখা যাচ্ছে। ফলে চামড়ার জুতার নতুন নতুন কালেকশন ও বিভিন্ন ধরনের ছাড়ে জমে উঠেছে হাজারীবাগের লেদার মার্কেট। ঈদের আর মাত্র ১০ দিন বাকি থাকায় ইফতারের পর থেকেই বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা জানান, নতুন কালেকশনের জুতার দাম কিছুটা বেশি হলেও পুরনো স্টকের জুতায় দেওয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় ছাড়। ফলে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে দিন দিন।
রাজধানীর হাজারীবাগের লেদার মার্কেটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিকালের
দিকে বাজার তুলনামূলক ফাঁকা থাকলেও ইফতারের পর থেকেই জমে ওঠে বেচাকেনা। ক্রেতারা এক
দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে খুঁজছেন পছন্দের জুতা। দোকানিদের ব্যস্ততা বেড়েছে ক্রেতাদের
পছন্দ জোগাতে। পুরুষদের লোফার, ক্যাজুয়াল, সাইকেল শু, বেল্ট জুতা, ফরমাল ও হাফ শুসহ
বিভিন্ন নতুন ডিজাইন বাজারে এসেছে। তবে তুলনামূলকভাবে নারীদের জুতার কালেকশন কিছুটা
কম।
দোকানিরা জানান, ঈদ উপলক্ষে নতুন ডিজাইনের জুতার পাশাপাশি আগের স্টকের
জুতায় ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে মাঝারি আয়ের ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে জুতা কিনতে পারছেন।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের জুতার দাম শুরু হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে, আর উন্নত
মানের চামড়ার জুতার দাম ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এ ছাড়া বাজারে সাধারণ মানের বা
স্থানীয় ব্র্যান্ডের ক্যাজুয়াল জুতা ও স্যান্ডেলের দাম সাধারণত ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০
টাকার মধ্যে। তবে পরিচিত ব্র্যান্ডের ফরমাল চামড়ার জুতা কিনতে চাইলে বাজেট রাখতে হচ্ছে
২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্পোর্টস শুর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
ভালো মানের কেডস বা স্পোর্টস শুর দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে
বিভিন্ন এক্সপোর্ট কোয়ালিটি দোকানে প্রিমিয়াম মানের চামড়ার জুতার দাম ৩ হাজার থেকে
শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ফলে লোকাল মার্কেট থেকে শুরু করে বড় শপিং মল
পর্যন্ত দামের পার্থক্য স্পষ্ট।
হাজারীবাগের আর আর লেদার কিরণ সুজের মালিক হীবন আহমেদ বলেন, ‘ঈদ সামনে
থাকায় ক্রেতার চাপ বাড়ছে। আমাদের দোকানে ৯০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৮০০ টাকার
মধ্যে বেশিরভাগ জুতা বিক্রি হচ্ছে।’ এসপি লেদার শু’র ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন,
‘বেচাকেনা মোটামুটি ভালো। ক্রেতারা একটু ভিন্ন ডিজাইনের জুতা খুঁজছেন। অনেকে আবার টেকসই
ও আরামদায়ক জুতা কিনতে আগ্রহী।’
ঈদ উপলক্ষে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে লেদার
বিলাসের মালিক তওহীদুর রহমান জানান, ‘আমাদের এখানে আমদানিকৃত জুতার দাম প্রায় ৮ হাজার
টাকা পর্যন্ত। আর দেশি জুতার দাম শুরু হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে। স্লিপার,
হাফ শুসহ বিভিন্ন ধরনের জুতা ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।’
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্রেতা দাম ও মান যাচাই করে জুতা কিনছেন।
কেউ কেউ কয়েকটি দোকান ঘুরে পছন্দের জুতা বেছে নিচ্ছেন। হাজারীবাগের লেদার মার্কেটে
জুতা কিনতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘এখানে চামড়ার
আসল জুতা পাওয়া যায়। অন্য জায়গা থেকে কিনলে অনেক সময় প্রতারণার শিকার হতে হয়। এখানে
দামও কম, আবার মানও ভালো।’ একই মার্কেটে জুতা কিনতে আসা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অনেক দোকান
ঘুরে দেখেছি। পছন্দ হচ্ছিল না। পরে লেদার ভিলেজে এসে ভালো একটা জুতা পেলাম। ৫০ শতাংশ
ছাড়ে পেয়েছি।’
ক্রেতাদের অনেকেই ইফতারের পর বাজারে আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
শাহনাজ বেগম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ইফতারের আগে বাজারে আসা কষ্টকর। তাই নামাজ পড়ে
ইফতারের পর এসেছি। ছেলের জন্য এক জোড়া জুতা নেওয়া দরকার। এখানে ভালো কালেকশন আছে, তাই
এলাম।’ বাজারে বিভিন্ন বয়সের ক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।