× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার

‘মানুষ পড়বে, আনন্দ পাবে, চিত্তের বিকাশ হবে’

মোহাম্মদ আলম

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ ১৭:১৬ পিএম

দন্ত্যস রওশন। ছবি: ফেসবুক থেকে

দন্ত্যস রওশন। ছবি: ফেসবুক থেকে

দন্ত্যস রওশন। একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংগঠক। প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বমহিমায় উজ্জ্বল। জন্ম ও বেড়ে উঠা ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বকচর গ্রামে। সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। কবিতা, উপন্যাস, ছড়া, প্রবন্ধ, ছোটগল্প বা অনুকাব্য দু-হাতে লিখে যাচ্ছেন। বাংলা সাহিত্যে অনুকাব্যের জনক বলা হয় তাঁকে। লিখেছেন প্রায় ৯০টির অধিক বই। সাহিত্য নিয়ে অকপট বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। বাংলা একাডেমির বই মেলা ও স্বীয় সাহিত্য চর্চা নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে মেলা প্রঙ্গনে হাটতে হাটতেই কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলম-

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: প্রথম বই প্রকাশের স্মৃতি মনে আছে? সংখ্যার দিক থেকে প্রকাশনা কতদূর?  

দন্ত্যস রওশন: হ্যাঁ, একদম প্রথম বই হচ্ছে কবিতার বই। যদিও ওই বইটাকে স্বীকার করতে একটু লজ্জা করে। তার কারণ হচ্ছে বইটা বই হয়ে ওঠেনি, ভালো কবিতা হয়নি। মানে এখন যদি পড়ি আর কি, না এটা আসলে হয়নি। জিনিসটা হয়নি। এই অনুভূতি হয়। যদিও আমার লেখা। 

তবে প্রথম বই প্রকাশের আগের স্মৃতি এখনো বেশ মনে পরে। অনেকটা সব লেখকেরই যেমন হয়। প্রথম বই  আজকে দেয়, কালকে দেয় করে আর দেয় না। ধ্রুব এষের পেছনে ঘুরি! দাদা তার ঘরের ভেতরে ছবি আঁকছে, বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা মারি। একজনরে দিয়ে খবর দেই যে আসছি, কবে হবে ? অনেকক্ষন পর ধ্রুব দা বাইরে আইসা আশ্বস্ত করেন- ‘‘হয়ে যাবে, দিয়ে দেবোনে, অসুবিধা নেই, দিয়ে দেবোনে।’’ তারপর সেই যে উৎকণ্ঠা, কবে ধ্রুব এষ প্রচ্ছদ দিবে। ২০১১ সালের কথা। এই যে কম্পোজ করছে, কারেকশন করছে...। সেখান থেকে হাটি হাটি পা পা করে এতদিনে কবিতা, উপন্যাস, ছড়া, প্রবন্ধ, ছোটগল্প বা অনুকাব্য সব মিলে প্রায় ৯০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। 

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত শিশু সাহিত্যের উপর আপনার বই আসছে। এটা কি পরিকল্পিত?  

দন্ত্যস রওশন: লিখতে লিখতে একসময় মনে হলো শিশুসাহিত্য বা ছোটদের লেখায় যেনও একটু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। হ্যাঁ একটু লিখতে পারছি। তখন মনে হলো এটাকে একটু বেশি বেশি লিখি। তখন থেকেই এটা... ঐ অর্থে পরিকল্পিত বলা যেতে পারে, পরিকল্পনার তাড়নাটা ছোটদের ভিতর থেকেই । তবে আমার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে গল্প। গল্প, উপন্যাস।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: নিজের লেখা প্রিয় বই? 

দন্ত্যস রওশন: আমার গল্পের বইয়ের মধ্যে আমাকে যদি বলা হয়, তাহলে ‘ফটাস’ নামে একটা গল্পের বই আছে বাচ্চাদের, ওটা পাঞ্জেরী প্রকাশ করেছে। এটাকে আমার প্রিয় বলা যায়।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: পথ চলতে হঠাৎ কখনো পাড় ভক্ত পাঠকের সামনাসামনি হয়েছেন? 

দন্ত্যস রওশন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজনের সাথে দেখা হলো, মাস্টার্সে পড়ে। সে আমাকে বলল যে, আপনার বইটা এখনো আমার আছে, আমার বাড়িতে আছে। আমার আব্বা আমাকে আপনার বই কিনে দিয়েছিল সেই অনেক বছর আমি যখন কলেজে ভর্তি হবো তখন। আর যে আমার সাথে কথা বলছে তখন সে মাস্টার্সে। সে আবার বলছে যে, আমি কাহিনীটা বলি। সে কাহিনীটা গড়গড় করে বলে দিল। তাতে মনে হলো যে না, জিনিসটা ভালো ছিল আর কি। এত আগে পড়েছে আবার তার ভালো লাগা এবং ভালো লাগার সাথে সাথেই স্মৃতির মধ্যে আছে এতদিন পরেও।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: বই মেলার প্রসঙ্গে আসি, ডিজিটালের ভিড়ে ছাপা বইয়ের চাহিদা কি কমছে বলে মনে হয়?  

দন্ত্যস রওশন: পাঠক সংখ্যা কম বা বেশি এটার আল্টিমেটলি কিন্তু জরিপ ওই অর্থে নাই। এ বছরও মেলায় প্রায় ৬০০ প্রকাশক আছে। এটাই তাদের পেশা, এরা বই প্রকাশ করে। তাহলে এই বইগুলো কোথায় যায়? এই বইগুলো কি পাঠক কেনে না? মানুষ পড়ে না? তাহলে তারা(প্রকাশক) জীবিকা অর্জন করে কী দিয়ে? কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে বইয়ের থেকে নজরটা কম। প্রচুর পাঠক আছে। কিন্তু পাঠকদের কী আশেপাশের জিনিসগুলো প্রভাবিত করে সময়টা কেড়ে নিচ্ছে। ও যখন হয়তো পড়তে বসেছে, ওর একটা ফোন রিং হচ্ছে, ওর আশেপাশে বাবা-মা। মানে পাঠের পরিবেশটা নষ্ট হয়েছে। সেই কারণে ওই পাঠক সংখ্যা কমাটা আমরা বলতে পারি। 

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: সম্প্রতি সাংবাদিকতা পেশা থেকে ছুটি নিয়েছেন। লেখালেখিতে কি ফুল টাইম.. কি পরিকল্পনা? 

দন্ত্যস রওশন:  অফুরন্ত সময় থাকলেই মানুষ অফুরন্ত বই পড়বে অথবা লেখকরা অফুরন্ত সময় থাকলেই ২৪ ঘণ্টা লিখবে এটা বাস্তব দিক থেকে সম্ভব না। কেউ কেউ করে, একদম ফুল-টাইম প্রফেশনাল। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেটা হয় না। আমার লেখার, চিন্তা করার, ঘুরে বেড়ানোর, ইচ্ছামতো কাজ করার স্বাধীনতা তৈরি হয়েছে। যেটা যেকোনো মানুষের জীবনে বাধা। আমাকে আটকে রাখা হয়েছে, আমাকে এই জায়গায় যেতে দেওয়া হয় নাই, আমি ওই ব্যাঙ্গালোরে যেতে পারব না, এদিকে যেতে পারব না, আমার ক্ষেত্রে এরকম না।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: এবারের মেলায় উল্লেখযোগ্য বই? 

দন্ত্যস রওশন: কিন্ডার বুকসে একটা সিরিজ বের হচ্ছে। এটা হচ্ছে স্বরবর্ণ সিরিজ, বাংলা স্বরবর্ণ সিরিজের। এর মধ্যে দুইটা প্রকাশিত হয়েছে আর তিনটা বের হবে সামনে। এবং এই সিরিজে আরও বেশ কিছু বই আসবে। ‘অ’ কার যাচ্ছে মায়ের কাছে, তারপর হচ্ছে ‘এ’ কার থাকে সবার পাশে। পাঞ্জেরি থেকে আসছে- নির্বাচিত কিশোর উপন্যাস, তালগাছ একপায়ে দাড়িয়ে ও ছোটদের অনুকাব্য। 

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: পাঠক তার চাহিদা মাফিক বা মনের মত বই কি পাচ্ছে? 

দন্ত্যস রওশন: মানুষের সমাজে যেমন- পোশাকের ওপর একটা ছাপ পড়ে, প্রভাব পড়ে সময়ের; চিন্তার মধ্যে, খাবারের মধ্যে, চলার মধ্যে, ভাষার মধ্যে প্রভাব পড়ে সেইক্ষেত্রে পাঠকদের মধ্যেও এক ধরনের প্রভাব পড়ে। পাঠকরা হুমায়ূন আহমেদকে চিনেছে, তুমুলভাবে পড়লো। এখন আবার সে নতুন কিছু খুঁজছে। হুমায়ূন আহমেদ পরবর্তী নতুন কিছু খুঁজছে। এটা আমাদের বিশেষ করে শিশু এবং কিশোরদের ক্ষেত্রে হয়, তারা একটু সিরিয়াস পাঠক যারা মূলত বই পড়ে। তাদের সামনে তো এখন বিশ্বসাহিত্য খোলা তো! সে পিডিএফে পাচ্ছে, নানাভাবে পাচ্ছে, সিনেমা দেখছে, হ্যারি পটার অনুবাদ হচ্ছে, অন্যান্য ভাষার বই অনুবাদ হচ্ছে, ইংরেজি বই পড়ছে। সেই ক্ষেত্রে পাঠকদের মধ্যে এক বিশ্ব পাঠক হয়ে ওঠার এক ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কাজেই একটা গতানুগতিক ধারার থেকে বাইরে এসে অবস্থান করছে এই পাঠক গোষ্ঠীটি। এবং তারা হয়ে উঠছে। সেই ক্ষেত্রে লেখকদের ওপর একটা প্রভাব পড়ছে, তারা যদি খুব ভালো না লিখে, সিরিয়াস কিছু না লিখে তাহলে পাঠক ওটা নেয় না। সে শিশু পাঠক হোক আর বড় পাঠক হোক।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: আচ্ছা এই যে শিশু-কিশোরদের নিয়ে আপনি লিখছেন, শিশু-কিশোর বয়সটা হচ্ছে অনেকটা কাদা মাটির মতো। তাদেরকে বাবা-মা যেমন তার ইচ্ছে মতো গড়ে তুলতে পারে, লেখক হিসেবে পরবর্তি প্রজন্মের জন্য...

দন্ত্যস রওশন: বাচ্চাদের শিশুদের বাবা-মা গড়ে তুলতে পারে না। এটা হচ্ছে ভুল কথা। কীভাবে গড়ে তুলবে? আমাদের শিশুটা আসে আমাদের মাধ্যমে, কিন্তু শিশুর একটা জগৎ থাকে। ওটা তাদের জগৎ। আমরা বাবা-মায়েরা হয়তো প্রভাব বিস্তার করতে চাই, প্রভাবিত করি, চাপ প্রয়োগ করি। ওই চাপের মধ্য থেকে হয়তো কিছু সে নেয়, বাকিটা সে নিজের মতোই তৈরি হয়। মোটামুটি একটা গাইডলাইন বাবা-মায়ের থাকে সেটাতো অস্বীকার করার কিছু নেই। 

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: আপনি শিশু-কিশোরদের স্পেসিফিকভাবে কোন মেসেজ দিতে চাচ্ছেন। নাকি আপনার নিজের ভেতর থেকে...

দন্ত্যস রওশন: আমি কোনো মেসেজ দিতে চাচ্ছি না। জোর করে মেসেজ দেওয়া যায় না। আমি দিতে চাচ্ছি আনন্দ। মানুষ পড়বে, আনন্দ পাবে, তার একটা চিত্তের বিকাশ হবে। সে মানুষ হিসাবে বড় হয়ে উঠবে। বড় হয়ে ওঠা মানে ক্ষুদ্র গন্ডির মধ্য থেকে কুয়া থেকে বেরিয়ে একদম সাগর পর্যন্ত যাবে। বই পড়ার মধ্য দিয়ে ওটা সম্ভব। এটিই চাওয়া, এটিই মেসেজ। 

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: প্রতিদিনের বাংলাদেশের জন্য সময় দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ। 

দন্ত্যস রওশন: প্রতিদিনের বাংলাদেশ পরিবারসহ পাঠকদেরও ধন্যবাদ।  


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা