× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ওয়াসা এমডির পদত্যাগ, বাকি ৩ প্রতিষ্ঠানেও আসছে পরিবর্তন!

আসাদুজ্জামান সম্রাট

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ১২:৩০ পিএম

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬ ১২:৩১ পিএম

ওয়াসা এমডির পদত্যাগ, বাকি ৩ প্রতিষ্ঠানেও আসছে পরিবর্তনের সম্ভাবনা। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ওয়াসা এমডির পদত্যাগ, বাকি ৩ প্রতিষ্ঠানেও আসছে পরিবর্তনের সম্ভাবনা। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুস সালাম রবিবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শুভ্র তার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চারটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছিলেন; যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে এ নিয়োগগুলো পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। এর মধ্যে ‘বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়া’ ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদত্যাগ করলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর, এলজিইডি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীদের বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। শিগগিরই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। 

বিতর্ক, শর্ত বদল ও অনিয়মে ওয়াসার এমডি নিয়োগ; পাঁচ মাসের মাথায় পদত্যাগ

সকল অনিয়মের রেকর্ড গড়ে ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সালাম ব্যাপারীকে গত বছরের ১১ নভেম্বর ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ওইদিন স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ অনুবিভাগ থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে আগামী তিন বছরের জন্য আবদুস সালামকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অবিলম্বে জারিকৃত এ আদেশ কার্যকর হবে। অথচ ওইদিন এই আদেশ জারির আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের পাস-২ শাখা থেকে আরেকটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হলো।

এদিকে আবদুস সালামকে নিয়োগের এ সিদ্ধান্তে ওয়াসার ভেতরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এমডির চেয়ারে বসানোর জন্য আট মাস ধরে ধাপে ধাপে নিয়ম ভেঙে পথ তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় গত বছরের ২১ মার্চ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিজ্ঞ প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা শিথিলযোগ্য হবে, অর্থাৎ ৬০ বছরের বেশি হলেও আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের ন্যূনতম তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা হতে হবে। কিন্তু সেই সময় আবদুস সালাম ছিলেন চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা, অর্থাৎ তিনি আবেদন করার যোগ্য ছিলেন না।

মাত্র তিন দিনের মাথায় ২৩ মার্চ ওয়াসা আবার নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে বয়সসীমা শিথিলের বিধান বাদ দিয়ে বলা হয়, আবেদনকারীর বয়স ৬০ বছরের বেশি হলে আবেদন করা যাবে না। ওয়াসার অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষ্য, এই পরিবর্তন আনা হয় একমাত্র আবদুস সালামকে সুবিধা দেওয়ার জন্য। কারণ বয়স শিথিলযোগ্য থাকলে তার চেয়ে যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থী অনেকেই আবেদন করতেন। এরপর নিয়োগের প্রক্রিয়া হঠাৎ স্থগিত রাখা হয়। এরই মধ্যে আবদুস সালাম ব্যাপারীকে দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করা হয় এবং তাকে প্রধান প্রকৌশলীর (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হয়। এরপর তৃতীয়বারের মতো নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় একই বছরের ১৫ জুলাই। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যোগ্য প্রার্থীর সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে সাক্ষাৎকারের জন্য আহ্বান জানানো হবে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, এমডি পদে ৩৭ জন আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পানিসম্পদ বিষয়ে পিএইচডিধারী অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলীসহ অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। কিন্তু ওয়াসা তাদের কাউকেই সাক্ষাৎকারে ডাকেনি। এর পরিবর্তে ওয়াসার ‘কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটি’ সরাসরি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ওই তালিকায় আবদুস সালামকে রাখা হয় প্রথমে, ঢাকা ওয়াসার সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানকে দ্বিতীয় ও এলজিইডির সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হককে তৃতীয় স্থানে। পরে মন্ত্রণালয় সেই তালিকাই হুবহু প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠায়। দুর্নীতির অভিযোগে চার বছর বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) থাকা আবদুস সালামকে অবশেষে এমডি করা হয়।

গত ৩ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে কানাডার ‘বেগমপাড়ায়’ আবদুস সালামের স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল বাড়ি থাকা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই রিপোর্ট দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওইদিন ঢাকা ওয়াসার একটি অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকলেও আবদুস সালামকে সেখানে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়। গতকাল রবিবার দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে আবদুস সালাম পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রটি ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

পাঁচজনকে ডিঙিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে খালেকুজ্জামান

গত বছরের ২৮ অক্টোবর হঠাৎই সকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাসনিম ফারহানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে সরিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয় গণপূর্ত মেট্টো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে। পাঁচজনকে ডিঙিয়ে (সুপারসিড) প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার এক দিন পর তাকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

গণপূর্ত ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা খালেকুজ্জামানের চাকরিজীবনের বড় সময় কেটেছে অস্ট্রেলিয়ায়। স্ত্রী-সন্তান অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় সেখানে তিনি বহুবার যাতায়াত করেন। তবে ভুয়া স্কলারশিপ দেখিয়ে উচ্চতর শিক্ষাছুটির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর যেখানে তার চাকরিই থাকার কথা নয়, সেখানে তাকে লঘুদণ্ড দেয় মন্ত্রণালয়। তার বেতন স্কেলও এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এরপর বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা হিসেবে তৎকালীন প্রভাবশালী দুদক কমিশনার মোজ্জাম্মেল হক খানের মাধ্যমে জোরালো তদবির শুরু করেন খালেকুজ্জামান চৌধুরী। একপর্যায়ে একটি আবেদন করেন তিনি। তৎকালীন সচিব এ বিষয়ে জনপ্রশাসনের মতামত চান। জনপ্রশাসন তাদের মতামতে তার জ্যেষ্ঠতা স্থগিত রাখার সুপারিশ করে। কিন্তু দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খানের চাপে সাবেক সচিব ও গোপালগঞ্জের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি শহীদ উল্লা খন্দকার তাকে পদোন্নতি দেন। একপর্যায়ে খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী করা হয়। বিগত সরকারের আস্থাভাজন হওয়ায় গোপালগঞ্জের উন্নয়ন প্রকল্প দেখভাল করার জন্য তাকে গোপালগঞ্জ জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীও করা হয়েছিল।

১৫তম বিসিএসে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১৪ জন প্রকৌশলী যোগ দেন। যার মধ্যে মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর অবস্থান ১৩তম। ইতোমধ্যে অনেকেই অবসরে গেছেন। কয়েকজন চলে গেছেন ক্যাডার পরিবর্তন করে। তার নিয়োগের সময়ে মাত্র ৭ জন কর্মকর্তা ছিলেন ১৫ ব্যাচের। এর মধ্যে ষষ্ঠতম হলেন খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তাকেই প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর আগে ছিলেন মো. আশরাফুল আলম, ড. মো. মঈনুল ইসলাম, মো. শামছুদ্দোহা, মো. আবুল খায়ের ও শামীম আখতার। এরই মধ্যে অনেকেই অবসরে গেছেন, আর কোনো কারণ ছাড়াই ড. মঈনুলকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

২০২৪ সালের শুরুতে রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে কঙ্কালসার হয়ে যায় গ্রিন কোজি কটেজ। সাততলার এই বাণিজ্যিক ভবনে ওই বছর প্রাণ হারান ৪৬ জন; দগ্ধ ও আহত হন আরও ১৩ জন। তখন ভবনের নকশা নিয়ে নানা বিতর্ক হয়। রাজউকের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে এই ভবনের নকশার অনুমোদনে কাজ করেছিলেন এই খালেকুজ্জামান চৌধুরী। অপ্রশস্ত সিঁড়ি, জরুরি চলাচল নির্গমনের ব্যবস্থা না রেখেই বিপুল অর্থের বিনিময়ে এই নকশা অনুমোদনে কাজ করা খালেকুজ্জামান চৌধুরীই দেশের সবচেয়ে পুরনো প্রকৌশল সংস্থার প্রধান হলেন। এর আগে তাকে গণপূর্তের টাকার খনি হিসেবে পরিচিত মেট্টো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদায়ন করা হয়েছিল।

তিনজনকে ডিঙিয়ে জনস্বাস্থ্যে আউয়াল

গত বছরের ১৭ নভেম্বর মো. আব্দুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলী পদের রুটিন দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এতে তিনজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়। প্রকৌশলী আউয়াল জ্যেষ্ঠতার তালিকায় বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে চতুর্থ। এছাড়া প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে স্থানীয় এমপির সঙ্গে যোগসাজশে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোসহ সিন্ডিকেট দুর্নীতিরও অভিযোগ রয়েছে। জনস্বাস্থ্যে প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত মে মাসে যেসব কর্মকর্তার বিষয়ে ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই)-এর মূল্যায়ন প্রতিবেদন চাওয়া হয়, তার মধ্যে মো. আব্দুল আউয়ালের নাম ছিল না। প্রথম নাম ছিল প্রকৌশলী মীর আব্দুস সাহিদের। এনএসআইর ওই মূল্যায়ন প্রতিবেদন আসার পর মীর আব্দুস সাহিদকেই প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্বে) করা হয়। চাকরির বয়স শেষে গত ১১ নভেম্বর মীর আব্দুস সাহিদ অবসরে যান। ওই তালিকার আরও একজন অবসরে গেছেন ইতোমধ্যে। অর্থাৎ তালিকার এখনও তিনজন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। এই তিন কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে মো. আব্দুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্বে) করা হয়। যদিও প্রকৌশলী আউয়ালের অতীত কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কোনো মূল্যায়ন প্রতিবেদন চাওয়া হয়নি বা নেওয়া হয়নি এখন পর্যন্ত।

অভিযোগের পরও এলজিইডিতে প্রধান প্রকৌশলী বেলাল

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) অনিয়মের মাধ্যমে কয়েকজনকে ডিঙিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় মো. বেলাল হোসেনকে। সে সময় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে পদোন্নতি পাওয়া মো. বেলাল হোসেনকেই চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি নেওয়া মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সাবেক এক মন্ত্রীর নির্দেশে বেলাল হোসেনের প্রায় ৪০টি উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ওঠে। প্রকল্পগুলো কাগজে-কলমে সম্পন্ন হলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে অনেক উন্নয়নকাজ ও নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সুপারিশে প্রায় ১ হাজার ১২৫ জনকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এলজিইডিতে নিয়োগ, সার্ভেয়ার থেকে উপসহকারী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব প্রদান, ভারপ্রাপ্ত বা অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানÑ এমনকি কার্য সহকারীকেও উপসহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তার সময়কালে ৪১২ জনকে অবৈধভাবে পদোন্নতি প্রদানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সদ্য নিয়োগ পাওয়া সচিব মো. শহীদুল হাসান অবহিত হয়েছেন এবং শিগগিরই তার বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এলজিইডির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আসতে পারে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা