× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাছাই কমিটি হচ্ছে দুদক গঠনে

দীপক দেব

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:২২ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশন। ছবি: বাসস

দুর্নীতি দমন কমিশন। ছবি: বাসস

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের সাত দিন হতে চলল; কিন্তু সংস্থাটির নতুন কমিশন গঠনের জন্য বাছাই কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। এ প্রক্রিয়া শুরুর জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজসংকেতের অপেক্ষা করছে। কারণ দুদক আইন, ২০০৪-এর ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। এই কমিটি কমিশনার পদে নিয়োগের যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করে থাকে। 

এদিকে নিয়ম অনুযায়ী নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ বা নতুন কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত দুদকের অনেক কাজই করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে এ অবস্থায় দুদক নতুন করে কোনো বিষয়ে অনুসন্ধানের কাজ শুরু করতে পারবে না; মামলা করতে পারবে নাÑ এমনকি চার্জশিটও দিতে পারবে না। এই অবস্থায় নতুন কমিশন গঠনে বিলম্ব হওয়ায় সাংবিধানিক এই সংস্থাটি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদেও পরিবর্তন আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন, কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও নতুন কমিশন গঠনের দৃশ্যমান কোনো প্রক্রিয়া শুরু হতে দেখা যায়নি।

আইনে যা আছে…

দুদক আইন অনুযায়ী, কমিশনার নিয়োগের জন্য গঠিত বাছাই কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে যে তালিকা সুপারিশ করে, সেটি থেকে রাষ্ট্রপতি তিনজন কমিশনার ও তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই আইনের পরিবর্তন এনে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী দুদককে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে কমিশনের সদস্য সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করা এবং কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর নির্ধারণ করা হয়। এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার এবং অন্তত একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কমিশনার থাকতে হবে। কমিশনের সদস্যদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন। আইনের ৭ নম্বর ধারা সংশোধন করে সার্চ কমিটির পরিবর্তে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠনের বিধান করা হয়েছে। এ কমিটিতেও এসেছে কাঠামোগত পরিবর্তন। এই পরিবর্তন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হবেনÑ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান। এ ছাড়া সরকারি ও বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে স্পিকার কর্তৃক মনোনীত দুজন সংসদ সদস্য (একজন সরকারি ও একজন বিরোধী দলীয়) সদস্য থাকবেন। তবে জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় বাছাই কমিটি গঠনের প্রয়োজন হলে সংসদ সদস্যদের ছাড়াই কমিটি গঠন করা যাবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বর্তমান দুদক আইন, ২০০৪-এর ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠিত হবে, যথা : (ক) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ১ (এক) জন জ্যেষ্ঠ বিচারক, যিনি কমিটির সভাপতিও হবেন; (খ) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১ (এক) জন বিচারক; (গ) বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক; (ঘ) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান; (ঙ) সরকারি দল এবং প্রধান বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন সংসদ সদস্য, যাদের মধ্যে ১ (এক) জন সরকারদলীয় এবং অন্যজন বিরোধীদলীয়; (চ) সুশাসন বা দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম বা দুর্নীতি সংক্রান্ত বিচার পরিচালনায় ন্যূনতম ১৫ (পনেরো) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাংলাদেশের একজন নাগরিক, যিনি কমিটির সভাপতি কর্তৃক মনোনীত হবেন। তবে জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় বাছাই কমিটি গঠনের প্রয়োজন হলে দফা (ঙ)-তে উল্লিখিত ব্যক্তিরা ছাড়াই বাছাই কমিটি গঠন করা যাবে। 

এই আইন অনুযায়ী, বাছাই কমিটি কমিশনারের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে ২ (দুই) জন ব্যক্তির নামের তালিকা প্রণয়ন করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ আকারে পাঠাবে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাছাই কমিটির কার্যসম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।

প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে

এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার বাছাই কমিটি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজসংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের পক্ষ থেকে সংকেত এলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাছাই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে বলেও জানায় সূত্রটি। 

জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “এ অবস্থায় কিছু করার নেই। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন কমিশন গঠন করতে হবে। কমিশনারদের নিয়োগ দিতে হবে। যতদিন পাারবে না ততদিন কমিশনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে থাকবে। দুদকের আইন অনুযায়ী, সকল সিদ্ধান্তে কমিশনের অনুমোদন লাগে।

“বিশেষ করে মামলা, মামলা পরিচালনা, তদন্ত হবে কি হবে নাÑ এসব বিষয়ে কমিশনের অনুমোদন লাগে। তাই যেসব মামলা চলমান, সেগুলো চললেও শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে ঘাটতির কারণে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হবে না। তাই নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত অনেক কিছুই স্থবির হয়ে থাকবে।”

তিনি বলেন, “সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকলে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেরি হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে সরকার তার পছন্দের মানুষ বসাতে চায় বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। এজন্যই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এজন্যই হয়তো সময় লাগছে।”

চলতি সপ্তাহের মধ্যেই অনেক কিছু পরিষ্কার হতে শুরু করবে

এদিকে আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য অনেক কিছুতেই অপেক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকার যদি দুদক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বা ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে জারি করা অধ্যাদেশের ভিত্তিতে বাছাই কমিটি করে নতুন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া করতে চায়, তাহলে তা সংসদে পাস করতে হবে। দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার কারা হতে পারে তা নিয়ে সরকারি মহলেও জোর আলোচনা চলছে। সরকার কোনদিকে হাঁটবে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এর অনেক কিছুই পরিষ্কার হতে শুরু করবে বলেও জানায় সূত্রটি। 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে প্রধান করে আট সদস্যের দুদক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের প্রতিবেদন দেয়, যা গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে দুদককে স্বাধীন ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়াসহ ৪৭টি সুপারিশ করা হয়েছিল। গত বছরের ২৮ নভেম্বর টিআইবি এক বিবৃতিতে এ কথাও জানিয়েছিল, অধ্যাদেশে সংস্কার কমিশনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়ায় তারা হতাশ। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা