মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সচিব উপস্থিত থাকবেন। সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভা বৈঠক হওয়ায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার প্রত্যাশা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ পর্যালোচনা করে সেটি অনুমোদনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হতে পারে। প্রচলিত রীতিতে নতুন সরকারের নীতি-অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সংস্কার কর্মসূচির সারসংক্ষেপ রাষ্ট্রপতির ভাষণে প্রতিফলিত হয়। ফলে ভাষণটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকের সূচনায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি ও দায়িত্ব বণ্টন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও উত্থাপিত হতে পারে। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে কাজের সমন্বয়, সচিব পর্যায়ে দাপ্তরিক প্রস্তুতি ও চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
সূত্রের ভাষ্য, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কৌশল নিয়ে নীতিগত আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ নিয়েও প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনার আভাস মিলেছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে অনির্ধারিত এক বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানা গেছে। সেখানে সরকার পরিচালনার নীতিগত অবস্থান, দলীয় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কৌশল ও গণমুখী উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক মূলত দিকনির্দেশনামূলক হয়। এ বৈঠকে সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করা ও মন্ত্রীদের কাজের পরিধি স্পষ্ট করার মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়া হয়Ñ সরকার দ্রুত কার্যকর হতে চায়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনাও নিশ্চিত হবে।
সব মিলিয়ে আজকের বৈঠক নতুন সরকারের নীতি ও কর্মপন্থার রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাÑ প্রথম বৈঠক থেকেই কার্যকর সিদ্ধান্ত ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলবে।