× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাঠজুড়ে গভীর কূপ এখন মৃত্যুফাঁদ

মেহেদী হাসান শিয়াম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০৬ পিএম

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৫ পিএম

মাঠজুড়ে গভীর কূপ এখন মৃত্যুফাঁদ

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর কূপে পড়ে শিশু সাজিদের মৃত্যুতে নড়েচড়ে বসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে জেলার নাচোল উপজেলায় ৩২টি বিপজ্জনক পরিত্যক্ত গভীর কূপ শনাক্ত করে সেগুলো স্থায়ীভাবে সিলগালা করা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের এই তৎপরতার মধ্যে কাটেনি স্থানীয়দের উৎকণ্ঠা। জেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে খনন করা অগণিত গভীর কূপের কোনো তথ্য প্রশাসনের কাছে না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে ‘মৃত্যুফাঁদ’ আতঙ্ক।

নাচোল বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, তানোরে শিশু মৃত্যুর ঘটনার পরপরই আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। তদন্তে আমাদের আওতাধীন ৩২টি গভীর কূপ পরিত্যক্ত ও বিপজ্জনক অবস্থায় পাওয়া যায়। সেগুলো দ্রুত সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

তবে বিএমডিএ কর্মকর্তাদের একটি বক্তব্য স্থানীয়দের মনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। উপজেলার বিএমডিএ প্রকৌশলীরা দাবি করেন, তারা শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় খনন করা গভীর কূপগুলোর দেখভাল করেন। কোনো ব্যক্তি যদি নিজ উদ্যোগে পানির সন্ধানে গভীর কূপ করে থাকে, তবে তার কোনো তথ্য বিএমডিএর কাছে নেই। কর্মকর্তাদের এমন দায়সারা অবস্থানে প্রশ্ন উঠেছে যে, ব্যক্তিমালিকানাধীন এই মৃত্যুফাঁদগুলো শনাক্ত করব কে?

বিএমডিএর এমন অবস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নাচোলের নেজামপুরের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার তো শুধু নিজের গর্তগুলো বন্ধ করেই খালাস। কিন্তু আমাদের এই মাঠে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে গর্ত করেছেন। পানি না পেয়ে গর্তের মুখে শুধু খড় আর মাটি দিয়ে রেখেছেন। এগুলো ওপর থেকে চেনা যায় না। আমরা এখন ছোট বাচ্চাদের নিয়ে মাঠে নামতে ভয় পাই। কখন কে গর্তে ঢুকে যাবে। সেই চিন্তায় কলিজা শুকিয়ে আসে।

ওই এলাকরাই গৃহবধূ হালিমা খাতুন বলেন, ঘরের পাশে বা খেলার মাঠের পাশে এমন কয়টা গর্ত যে হা করে আছে, তা আল্লাহই জানে। আমাদের বুক কাঁপে বাচ্চাদের একা মাঠে ছাড়তে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সেচের পানির তীব্র সংকটে গত এক বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলস্তরের প্রচুর কূপ খনন করা হয়েছে। সরকারি নথিতে জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৬১২টি গভীর নলকূপ থাকলেও ব্যক্তিগত কূপের সংখ্যার সঠিক কোনো তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। সচেতন মহলের দাবি, বিএমডিএ বা জেলা প্রশাসনকে কেবল সরকারি তালিকার দোহাই না দিয়ে ব্যক্তিগত গভীর কূপলোকেও কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে তানোরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

নাচোল উপজেলা ইউএনও গোলাম রাব্বানি সরকার বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পরপরই আমরা মাঠে নামি। দ্রুত সময়ে ৩২টি বোরহোল (কূপ) সিলগালা নিশ্চিত করেছি। যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে।

কিন্তু ব্যক্তিগত বোরহোলের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুনুর রশীদ দায় চাপালেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের ওপর। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কূপের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। এগুলো দেখভালের দায়িত্ব স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের। তবে সবাই সচেতন হলে এই আতঙ্ক থাকবে না।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাকিব হাসান তরফদার বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের চাওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছিলাম। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নাচোলেই কিছু বোরহোল (গভীর কূপ) পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সেগুলো স্থায়ীভাবে সিল করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে খনন করা গভীর কূপ শনাক্ত ও দেখভালের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা