× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল

মুখোমুখি এডিসি-বেবিচক

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৮:৪২ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি নানা অনিয়মের কারণে শুরু থেকেই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। উন্নয়নের যে বুলি আওড়িয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বহু আগেই। নতুন করে জটিলতা শুরু হয়েছে কাজের বিল নিয়ে। জাপানি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) অতিরিক্ত কাজ বাবদ এক হাজার ৯২ কোটি টাকা পাওনা দাবি করছে। অপরদিকে চুক্তির চেয়ে কাজ কম হয়েছে অভিযোগ করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ৩ হাজার কোটি টাকার অধিক পাওনা দাবি করছে। যা নিয়ে অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে সংস্থা দুটি। এই জটিলতার ফলে থার্ড টার্মিনালের উদ্বোধন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। 

জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) ঋণসহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এই সভা আয়োজন করে। সভায় উভয় সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। জাইকার প্রতিনিধি সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ার কারণে পরামর্শকদের বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না। তবে সভাপতি সকল দাবির দ্রুত সমাধান করার জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন। 

ইআরডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী জাপান। একক দেশ হিসেবে তারা বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। এসব কারণে উভয় দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়ুক এমন কিছু কেউ চায় না। এটি স্পর্শকাতর ইস্যু হওয়ায় মন্তব্য করাও উচিত না। তবে এতটুকু বলব সভায় বেবিচক ও এডিসি দুই সংস্থাই তাদের দাবি তুলে ধরেছে। এটা নিয়ে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটি এই জটিলতার সমাধান করবে।’

পরিকল্পনা কমিশনের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘এডিসির বিরুদ্ধে দেশীয় ঠিকাদারের বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে। এজন্য আদালত এডিসির কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেশ ত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রকল্পটিতে চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অনুসন্ধান করছে দুদক।’ 

তিনি বলেন, ‘সব প্রকল্পেই কোনো ভ্যারিয়েশন (নতুন কাজ যুক্ত) আনলে সেটা প্রকল্প পরিচালক বা অনুমোদন প্রাপ্ত কমিটি অনুমতি দিয়ে থাকেন। কিন্তু থার্ড টার্মিনালের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০০টি ভ্যারিয়েশন অর্ডারের মধ্যে ৪৫০টি পরামর্শক অনুমোদন করেছে। তারা কোন ক্ষমতাবলে এটি করেছে সেটা জানা প্রয়োজন।’ 

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরের বছরের ডিসেম্বরে ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত করা হয় জাপানি কোম্পানি মিৎসুবিশি, স্যামসাং ও ফুজিতার সমন্বয়ে গঠিত এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামকে (এডিসি)। ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। টার্মিনালের ‌স্টিল স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের জুনে। একই বছরের অক্টোবরে টার্মিনালটি সফট ওপেনিং করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

জানা যায়, প্রকল্প চলাকালীন প্রায় ৬০০টি ভ্যারিয়েশন অর্ডার হয়েছে। জাপানি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসি এই পরিবর্তনগুলোর মূল্যায়ন প্রস্তাব করেছে এবং প্রকৌশলী তা অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৪৫০টি পরামর্শক কর্তৃক অনুমোদন করা হয়েছে। 

এদিকে পরিবর্তনের মূল্যায়ন ও দাবি নিয়ে বেবিচক এবং এডিসির মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকেই বেশ কিছু দাবি উত্থাপিত হয়েছে। বেবিচকের ৩ হাজার কোটি টাকার অধিক এবং এডিসির প্রায় এক হাজার ৯২ কোটি টাকার দাবি আছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিরোধগুলো সমাধানের জন্য নির্মাণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে একটি ডিসপুট বোর্ড গঠন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই বোর্ডের সদস্যরা প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করবেন। ডিসপুট বোর্ডের সিদ্ধান্ত ব্যতীত চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদারের আইপিএ পরিশোধ করা যাচ্ছে না। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এডিসির পাঁচ কর্মকর্তার দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নভেম্বরের মাঝামাঝিতে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসির পাঁচ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। অভিযোগ রয়েছে, এডিসি বাংলাদেশি এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করালেও চুক্তিমতো ৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি। এজন্য আদালতে মামলা করা হয়। 

৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালজালিয়াতির মাধ্যমে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রাক্কলিত প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা করা; বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থানীয়ভাবে কিনে বিদেশ থেকে কেনা দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং মাটি পরীক্ষায় অনিয়ম ও নকশা পরিবর্তন করে ৯০০ কোটি টাকা লোপাট করেন। এ ছাড়া প্রকল্পের তিনটি বড় কাজ অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে কমিশন বাণিজ্য, দরপত্রে ইউরোপীয় মানের যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামের নাম বলে চীন ও কোরিয়ার নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামাদি সংযোজন, সিলিংয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য অযৌক্তিক কাজ করে ১২ কোটি টাকা অপচয়সহ সিন্ডিকেট করে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর ফ্লোর স্পেস ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এতে রয়েছে ১১৫টি চেকইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন এবং তিনটি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক। টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে ঢাকার বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে ১০ লাখ টনে পৌঁছবে। যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গরূপে টার্মিনালটি চালুর প্রতিশ্রুতি দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তবে ঘন ঘন প্রকল্পের নেতৃত্বে পরিবর্তন, বিদেশ থেকে কিছু উপকরণ আনতে বিলম্ব এবং গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সময়সীমা পিছিয়ে যায়। মোট প্রকল্প খরচের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। বাকি অর্থ এসেছে জাইকার ঋণ থেকে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা