× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সচিবের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় অচলাবস্থা

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১০:২২ এএম

সচিবের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় অচলাবস্থা

প্রাথমিক শিক্ষা খাত দেশের সবচেয়ে বড় ও সংবেদনশীল সেক্টর। ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়, ৪ লাখ শিক্ষক আর কোটি শিক্ষার্থী ঘিরে পরিচালিত এই বিশাল ব্যবস্থাপনা এখন মারাত্মক সংকটে। দাবিদাওয়া, হাজারো মামলা, নিয়োগ-পদোন্নতি জট, স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে পুরো মন্ত্রণালয়ে বিরাজ করছে এক ধরনের অচলাবস্থা। এই পরিস্থিতির জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত সচিবকে মূলত দায়িত্বহীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলেছেন শিক্ষকরা।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ, সহকারী শিক্ষক ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে এক আবেদনে দায়িত্বরত সচিবকে অপসারণের দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির তালিকা দীর্ঘ বেতনবৈষম্য দূরীকরণ, দশম গ্রেড প্রদান, উচ্চতর স্কেল-টাইম স্কেল, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি, ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড, ১৩ থেকে ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণসহ আরও অনেক বিষয়। শিক্ষকদের অভিযোগÑ বছরের পর বছর ধরে দাবি ওঠানো হলেও সচিব বরাবর পাঠানো ফাইল কিংবা প্রস্তাবগুলো ‘সমস্যা সমাধান’ নয়, বরং ‘জট পাকানোর’ মধ্যে পড়ে থাকে। শিক্ষিকা রাহমান জানান, একজন সচিব চাই সমস্যার সমাধানকারী হিসেবে। কিন্তু এখন মনে হয় ফাইলগুলো শুধু ফেরত আসে, সমাধান আসে না।’

গত কয়েক মাসে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, এই লাঠিচার্জ দায়িত্বরত সচিবের ‘নির্দেশ ও ইঙ্গিতেই’ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা সমস্যা যখন দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকে, তখনই তারা আন্দোলনে নামেন। কিন্তু আন্দোলনে যদি তাদের মর্যাদাহানি ঘটে, তাহলে ক্ষোভ আরও তীব্র হওয়াই স্বাভাবিক। শিক্ষক নেতা এসএম জহিরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষা দিই, সমাজ গড়ি। কিন্তু আমাদের সামনে পুলিশ দাঁড় করানো হলো। এটা শুধু আমাদের নয়, সমগ্র পেশার অপমান।’

সূত্রমতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজ পরিচালনায় প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু এখন ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। সহকারী শিক্ষকরা অস্থায়ীভাবে প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, শিক্ষাদান, মাসিক সমন্বয়Ñ সবই এক শিক্ষককেই সামলাতে হচ্ছে। অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ে মামলাজটের অজুহাতে নিয়োগ বা পদায়ন দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। তবে সংগঠনগুলোর মতে, সচিব চাইলে সমাধান সম্ভব ছিল, কিন্তু তিনি উদ্যোগ নেননি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে চলমান মামলা এখন ৬ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলো বলছে, এ মামলাগুলো সমাধানের জন্য সচিব কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। আদালতের নির্দেশ প্রতিবার সময়মতো বাস্তবায়ন হয় না ফলে নতুন মামলা সৃষ্টি হচ্ছে। এটা এক মন্ত্রণালয়ের জন্য ভয়াবহ বোঝা।

এদিকে ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা, নথি রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, গেট ব্যবস্থাপনাÑ সবকিছুর জন্য দপ্তরি কাম প্রহরী প্রয়োজন। কিন্তু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২৭ হাজার। আরও ২৬ হাজার পদ শূন্য। ফলে বিদ্যালয় পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে মামলাজটের অজুহাতে এ নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। 

শিক্ষকদের অভিযোগÑ বদলি-তালিকা কিংবা পদায়নে কোনো স্বচ্ছতা নেই। শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও বদলির ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে ‘ইচ্ছামাফিক বদলি’ করা হয়। এ কারণে অনেক শিক্ষক পরিবার থেকে দূরে, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর আটকে আছেন।

ফিডিং প্রকল্পে অনিশ্চয়তা, ৪ হাজার কোটি টাকার কাজ ঝুলে আছে 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এতে প্রায় ১০ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে ঘাপলা, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে মামলাÑ এসব পুরো প্রকল্পকে ‘অনিশ্চিত অবস্থায়’ ফেলে দিয়েছে।

শিক্ষক সংগঠনগুলো বলছে, ‘৪ হাজার কোটি টাকার কাজ সচিবের অবহেলা ও দক্ষতা সংকটের কারণে থেমে গেছে।’

সচিব অপসারণেই সমাধান দেখছে শিক্ষক সংগঠনগুলো 

শিক্ষক সংগঠনগুলো জনপ্রশাসন সচিবকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দায়িত্বরত সচিব অপসারণ না হলে ৪ লাখ শিক্ষক রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন। 

সংগঠনগুলো অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের পরিচিতির ভিত্তিতে চারজন অতিরিক্ত সচিবকে বিকল্প হিসেবে প্রস্তাব করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাখাওয়াত হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আবু নূর শামসুজ্জামান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ সরকার। তাদের বিশ্বাস এদের মধ্যে যেকোনো একজন দায়িত্ব পেলে দ্রুত সংকট নিরসন সম্ভব হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা খাত দেশের ভবিষ্যতের ভিত্তি। সেখানে সংকট ও মামলার জট থাকা ঠিক না। আর শিক্ষকরা যদি কোনো কারণে নিজেদের অবহেলিত বোধ করেন, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থাই ঝুঁকিতে পড়ে। তাই এ খাতে সংকট যতই থাকুক না কেন, তা সমাধান জরুরি।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা