× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিগনেচার স্টাইলে হত্যা ও একজন ‘মার্ডার সোহেল’

আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:০১ এএম

এই সেই মার্ডার সোহেল। প্রবা ফটো

এই সেই মার্ডার সোহেল। প্রবা ফটো

পাওনা টাকা উদ্ধার করতে মো. সোহেল নামে একজনের মোটরসাইকেল আটকে রাখা হয় হালিশহরের চুনা ফ্যাক্টরি মোড়সংলগ্ন মাইজপাড়া এলাকায়। সেই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে গেলে সোহেলকেও আটকে রাখেন ওই এলাকার মারুফ ও তার বড় ভাই আকবর। পরে সোহেলকে উদ্ধার করতে তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়-সাত জনকে নিয়ে আসেন সোহেলের মামা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মীর কাসিম। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির সময় আকবরের বুকের বামপাশে ছুরি বসিয়ে দেন সোহেল। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এটি সোহেলের তৃতীয় হত্যাকাণ্ড। এর আগে ২০১৪ সালে একটি এবং ২০১৬ সালে একটি হত্যার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সোহেল। দুজনকেই বুকের বামপাশে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। চট্টগ্রামের হালিশহরের বি-ব্লকের বিহারি কলোনির মুখে ট্রেড স্কুল এলাকায় সোহেল পরিচিত ‘মার্ডার’ সোহেল নামে। বুকের বামপাশে ছুরিকাঘাত করে হত্যা যেন তার সিগনেচার স্টাইল।

পুলিশের খাতায় এই সোহেলের নামে তিনটি হত্যাসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে। যার বেশিরভাগই অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকের। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ দফায় গ্রেপ্তার হয়েছে এই সোহেল। ২০২৪ সালের আগস্টের পরই শুধু গ্রেপ্তার হয়েছে দুবার। সর্বশেষ গত ২৪ মার্চ হালিশহরের বি-ব্লক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কয়েকদিন আগে জামিনে মুক্ত হন সোহেল। বি-ব্লকের বাসিন্দা মহির হোসেনের ছেলে সোহেলের স্থায়ী ঠিকানা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকপুর কাশেম মেম্বারের বাড়ি। তবে বর্তমান অবস্থান নিয়ে পুলিশকে ধোঁয়াশার মধ্যেই রেখেছেন সোহেল। পুলিশের খাতায় তার সম্ভাব্য বর্তমান ঠিকানা হিসেবে অন্তত ৫টি বাসার তথ্য রয়েছে।

এবারে সোহেলের হাতে যে আকবরের মৃত্যু হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও অন্তত দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি মাদকের, অন্যটি মারামারি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, একসময় ট্রেড স্কুল ঘিরে মীর কাসিম ও তার ভাই মনার নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা করতেন সোহেল। মীর কাসিম স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগর কমিটির সদস্য এবং মনা যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ৫ আগস্টের পর মনা এলাকাছাড়া হয়ে গেলে ট্রেড স্কুল এলাকায় সোহেল আধিপত্য হারান। পরে হালিশহর থানার পেছনে উত্তরা আবাসিক এলাকায় নতুন আখড়া গড়েন মীর কাসিম ও সোহেল। সোহেলের সঙ্গে মাদক ব্যবসা-সংক্রান্ত বিষয়ে মারুফ ও আকবরদের পক্ষটির দ্বন্দ্ব চলছিল। 

হালিশহর থানায় করা মামলায় আকবরের স্ত্রী নাহিদা বেগম উল্লেখ করেছেন, তার স্বামী সরাইপাড়া লোহারপুল এলাকায় একটি লোহার দোকানের কর্মচারী। তার দেবর মারুফ সুদে টাকা দেন। সোহেল তার থেকে টাকা নিয়েছিলেন। সেই টাকা নিয়ে সোহেল মারুফের ঝগড়া হলে আকবর থামাতে যান। অন্যদিকে সোহেল খবর দিলে মীর কাসিম কয়েকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এর মধ্যেই সোহেল আকবরের বুকের বামপাশে ছুরি মেরে তাকে হত্যা করেন।

সোহেলের বিরুদ্ধে থাকা ১২টির মধ্যে যে দুটি হত্যা মামলা রয়েছে, তার একটি ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর এবং অন্যটি ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে হালিশহরের বি-ব্লক এলাকায় ট্রেড স্কুলের সামনে ছুরিকাঘাতে খুন হন সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। তার বুকের বামপাশে ছুরির একটি ঘাই মেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় পরদিন হওয়া মামলায় মীর কাসিমকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলার দ্বিতীয় আসামি কাসিমের ভাই মনা। ৪ নম্বর আসামি তাদের ভাগনে সোহেল।

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী কথাকাটাকাটির এক ফাঁকে সোহেলই মান্নার বুকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন। এর দুই বছর বাদে একই এলাকায় ফয়সাল ইসলাম বাঘাকে হত্যা করা হয় ছুরিকাঘাতে। তার বুকের বামপাশে ছিল গভীর ক্ষতের চিহ্ন। ওই ঘটনায় সোহেলকে প্রধান আসামি করে আরও চারজনের বিরুদ্ধে পরদিন থানায় মামলা করেন বাঘার পিতা মো. ফেরদৌস। ওই মামলার বাকি তিন আসাশি হলেন জুয়েল, মনা ও আলাউদ্দিন। 

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, তিনটি মার্ডারেই সোহেল আসামি এবং হত্যার ধরন একই। পাশাপাশি মীর কাসিম ও মনার নামও জড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিটি ঘটনায়। 

সর্বশেষ আকবর হত্যার ঘটনায় সোহেলকে প্রধান আসামি ও মীর কাসিমসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আকবরের স্ত্রী নাহিদা।

এই ঘটনায় মিনহাজুল ইসলাম আরমান ও সোহেল নামে দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সোহেল আর প্রধান আসামি সোহেল আলাদা ব্যক্তি। গ্রেপ্তারকৃত সোহেল মামলার ৫ নম্বর আসামি। তিনি হাতিয়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হত্যার পর দ্বিতীয় দফায় মিনহাজ ও সোহেল যান মার্ডার সোহেলের মোটরসাইকেল আনতে। সেখান থেকে আকবরের স্বজনরা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন। 

জানতে চাইলে হালিশহর থানার ওসি নুরুল আবছার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এজাহারভুক্ত দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে নাম আসার পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের ৫ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে।  এখনও শুনানি হয়নি। মামলাটি তদন্তাধীন।’ 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা