× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিধ্বংসী আগুনে শাহজালালে ব্যাপক ক্ষতি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ০০:০৯ এএম

ছবি: প্রবা ফটো

ছবি: প্রবা ফটো

টঙ্গী ও মিরপুরের পর এবার কেমিক্যালের লেলিহান আগুনে পুড়ল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুরাতন কার্গো ভিলেজ। গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া ২টায় বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের গোডাউন থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আমদানিকৃত পাশের কেমিক্যাল শেডে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মুহূর্তেই আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট পর্যায়ক্রমে আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে পরে নির্বাপণ কার্যক্রমে যোগ দেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। এতে আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি। এ ঘটনায় কার্গো ভিলেজে আমদানিকৃত সব ধরনের পণ্য পুড়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে টাকার অঙ্কে তার মূল্য জানা যায়নি। তবে অসমর্থিত সূত্রমতে, এর পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। শনিবার রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

এদিকে ধারাবাহিক এসব সাম্প্রতিক আগুন লাগার ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের নাশকতা পরিকল্পনা আছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। টঙ্গী, মিরপুর ও চট্টগ্রামের ইপিজেডের পর শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনাকে অনেকেই আর নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে পারছেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব অগ্নিকাণ্ডকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও এ ঘটনা দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে ‘স্বৈরাচারের দোসরদের হাত রয়েছে’ বলে দাবি করেছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। 

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করে দেয় বিমান কর্তৃপক্ষ। বিকল্প হিসেবে ঢাকায় অবতরণকারী বিমানগুলোকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। তবে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর গতকাল রাত ৯টা থেকে এ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ফ্লাইট ওঠানামা শুরু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার দুপুর ২টা থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুরাতন কার্গো ভিলেজের ৮ নম্বর গেটের ডিএইচএল কুরিয়ার সার্ভিস থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। শনিবার বন্ধের দিন থাকায় সেখানে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। এ কারণে ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন অনুপস্থিত। স্থানীয়দের বক্তব্য, শুরুতে আগুনের তীব্রতা কম ছিল। কিন্তু ভেতরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা থাকলেও তা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এলেও নিরাপত্তা গেট পার হওয়ার অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা দেয় জটিলতা। এতে যে সময় নষ্ট হয়, তাতে আগুন পাশের একটি কেমিক্যাল কন্টেইনারে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর পর ঢাকা ও আশপাশের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট পর্যায়ক্রমে আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হওয়ায় এক পর্যায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সব ধরনের বিমান ওঠানামা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। এর আগেই প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন আনসারের ১৭ জনসহ ফায়ার সার্ভিসের অনেক সদস্য।

বাংলাদেশ বিমানের ফুড সার্ভিসে কর্মরত প্রত্যক্ষদর্শী এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিমানবন্দরের আমদানি কার্গোর (পুরাতন) ৮ নম্বর ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা কেমিক্যাল কন্টেইনারে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন গোডাউনের ভেতর ছড়িয়ে পড়লে এবং বেলা ৩টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে আগুনের কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে।

ভেতরে ঢোকার অনুমতি পেতে জটিলতা

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সোয়া ২টার দিকে আমদানি কার্গো ভিলেজে কুরিয়ার সার্ভিসের গোডাউনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসেন। তবে তারা ৮ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতে গেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিমানবাহিনীর লোকজন জানান, অনুমতি ছাড়া যাওয়া যাবে না। এ নিয়ে জটিলতা ও সময়ক্ষেপণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে গেট বি ভেঙে ভেতরে ঢুকতে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জানান, আমদানি কার্গোতে মোট চারটি গেট রয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর গেট ( গেট এ) দিয়ে কমার্শিয়াল যাবতীয় পণ্য আসে। দুই নম্বর গেট (গেট বি) দিয়ে গার্মেন্টসহ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাঁচা পণ্য (কেমি্ক্যাল) আসে। তিন নম্বর গেট (গেট সি) দিয়ে যাবতীয় মেশিনারিজ পণ্য, অ্যাকসেসরিজ বিভিন্ন পণ্য আসে। আর কুরিয়ার গেট দিয়ে তৈরি গার্মেন্ট পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের স্যাম্পল আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসে। ৮ নম্বর গেট শুধু মরদেহ, ভিআইপি অসুস্থ ব্যক্তি আসা-যাওয়া বা জরুরি সময়ে এভিয়েশনের অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়। আমদানি পণ্য খালাস করার জন্য ১ নম্বর ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতে হয়। এদের ২ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয় না।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গেট বি খুলে দিলে আগুন এত বেশি ছড়াত না। সেটি খুলে দিতে বললে সিভিল এভিয়েশনের অনুমতি লাগবে বলে জানান নিরাপত্তাকর্মীরা। এ নিয়ে সময়ক্ষেপণ হয়। এ সময় আগুন কুরিয়ার গোডাউন থেকে কেমিক্যাল গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গেট বি ভেঙে গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করলেও কেমিক্যালের আগুন আর নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা 

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মাইক্রোসিস্টেমের প্রতিনিধি মুক্তাউর রহমান কনক বলেন, তাদের এজেন্টের মাধ্যমে ভারতের কলকাতা থেকে দেড় কোটি টাকার তৈরি পোশাকের চালান গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আমদানি কার্গোতে আসে। এসব চালান রবিবার (আজ) থেকে ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। আগুনে পুরো চালান ছাই হয়ে গেছে। 

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কার্গো ভিলেজে ৩০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুক্তাউর রহমান বলেন, শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকায় ধারণা করা হচ্ছে সেখানে ২০০০ কোটি টাকার পণ্য ছিল। এমন কিছু পণ্য আছে যেগুলো ১০০ থেকে ২০০ কোটি টাকার হয়। আবার কিছু পণ্য আছে ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার। আবার ১ থেকে ২ কোটি টাকার পণ্যও থাকে। গত সপ্তাহের রবিবার থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত যেসব পণ্য এসেছে তা আজ রবিবার থেকে ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগুনে কোনো পণ্যই এখন অক্ষত নেই। 

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আলাউদ্দিন জানান, রবিবার (আজ) তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এক কোটি টাকা মূল্যের কিছু মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। এসব পণ্য গত শুক্রবার রাতে এসেছে। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গতকাল শনিবার সেগুলো ডেলিভারি দিতে পারেননি। দুপুরের পর আগুনে সব শেষ হয়ে গেল।

আমাদের সহযোগিতা করুন : শাহজালালের নির্বাহী পরিচালক

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে অডিও বার্তা দিয়েছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। এতে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা ইমার্জেন্সি হ্যান্ডেল করছি, আমাদের সহযোগিতা করুন।’ গতকাল শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুনের ঘটনায় গণমাধ্যমে পাঠানো অডিও বার্তায় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। শাহজালাল বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অগ্নিদুর্ঘটনা নিবারণের জন্য আমাদের শাহজালাল বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিসের লোক কাজ করছে। বিমানবাহিনী থেকে ফায়ার ইউনিট এসে তারা কাজ করছে। প্যারালালি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের লোকজন এসেও কাজ করছে। আমি সাংবাদিক ভাইদেরকে বলব, আমরা এখন একটা ইমার্জেন্সি হ্যান্ডেল করছি। এই সময় আপনারা ফোন দিয়ে আমাদেরকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করবেন না প্লিজ। আমাদেরকে সহযোগিতা করুন। একটা সমস্যা হয়েছে। আমরা সকলে মিলে এই সমস্যা উত্তরণের চেষ্টা করছি। আপনারা তথ্য পাবেন। সময় অনুযায়ী তথ্য পাবেন। আমাদেরকে এখন এই ইমার্জেন্সিটাকে নিরাপদে হ্যান্ডেল করার জন্য সুযোগ দিন প্লিজ। আসসালামু আলাইকুম।’


১১টি ফ্লাইট গেল চট্টগ্রাম ও সিলেটে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১টি ফ্লাইট ঢাকায় নামতে না পেরে চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটটি ও সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।


শাহজালালে কার্গো ভিলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ড সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এসেছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ প্রাণ হারায়নি বলেও নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন নিজে বিমানবন্দরে অবস্থান করে সমগ্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 


৬ ঘণ্টা পর শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা শুরু

আগুনের ঘটনায় ছয় ঘণ্টা পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা শুরু হয়েছে। শনিবার রাত ৯টা ৬ মিনিটে প্রথম ফ্লাইট ছেড়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯টা থেকে চালু হওয়ায় দ্রুততম সময়ে থেকে ‘ডাইভার্ট’ হয়ে আসা ফ্লাইটগুলো ঢাকায় ফিরে যাবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন ও মানব সম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মো. নওসাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চিফ (ফ্লাইট সেফটি)। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি থাকবেন সদস্য হিসেবে।


সরকারের বিবৃতি : নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে

অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া এক বিবৃতিতে গতকাল শনিবার বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, সরকার এ বিষয়ে গভীরভাবে অবগত। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সকল নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাইÑ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।’

বিবৃতিতে জানানো হয়, নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উস্কানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা ঐক্য, সংযম ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করব। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’


বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডে তারেক রহমানের উদ্বেগ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‌‘ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে আমার চিন্তা ও প্রার্থনায় রেখেছি। আশা করি, সবাই নিরাপদ আছেন।’ তিনি অগ্নিনির্বাপণকর্মী, সশস্ত্রবাহিনী ও অন্য উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, ‘তারা সাহসিকতা ও দ্রুততার সঙ্গে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, যা পাবলিক সার্ভিসে তাদের প্রকৃত নিষ্ঠারই প্রতিফলন।

বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ‘এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাবলির উদ্বেগজনক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের কারখানা ও মিরপুরের পোশাক কারখানার অগ্নিকাণ্ডও তারই উদাহরণ।’

এদিকে শাহজালালের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে তিনি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে অভিহিত করেছেন। গতকাল শনিবার দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড এবং আজকের বিমানবন্দরের আগুনের ঘটনাকে জনগণ একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করছে। এসব অগ্নিকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শত্রুরা এখনও সক্রিয়, যারা গণঅভ্যুত্থানের সাফল্যকে ব্যর্থ করতে চাইছে।’ বিবৃতিতে শাহজালালের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিএনপি মহাসচিব অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উদ্বেগ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে দেশের দুই স্থানেÑ রাজধানীর মিরপুরে এবং চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কি আকস্মিক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতাÑ এ ব্যাপারে আমরা সকলে উদ্বিগ্ন। বিমানবন্দরের মতো এমন একটি কৌশলগত স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিঃসন্দেহে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও নিরাপত্তা ঘাটতির এক স্পষ্ট প্রমাণ।’ তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা