ফারুক আহমাদ আরিফ
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৯:০৭ এএম
গ্রাফিক্স : প্রবা
খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার বুড়িরডাবর বাজারে সম্প্রতি ধান বিক্রি করেন কৃষক সুরুজিত পাল। ৯০ শতক জমিতে ধান চাষ করে তিনি ফলন পেয়েছেন ৬০ মণ। অল্প কিছু ধান রেখে বাকিটা বিক্রি করে দিয়েছেন তরমুজ চাষের পুঁজি সংগ্রহ করতে। খোলাবাজারে বিক্রি করে তিনি প্রতিমণ ধানের দাম পেয়েছেন এক হাজার ৪৩০ টাকা।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশে ধান সংগ্রহ অভিযান চলছে। এ অবস্থায় সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করেননি কেনÑ এমন প্রশ্নে এই কৃষক তুলে ধরলেন নানা প্রতিবন্ধকতা। তিনি বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্য খোলাবাজারের চেয়ে কম। আবার ধান নিজ উদ্যোগে গুদামে দিয়ে আসতে হয়। আরও নানা নিয়ম-কানুন মানতে হয়। এসব বাধা ও আইন সহজ না করলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করা কৃষকদের জন্য কঠিন।’
সরকার ঘোষিত ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলাকালে সারা দেশের চিত্র মোটামুটি একই। এর পেছনে কৃষক সুরুজিতের উল্লেখ করা সমস্যাগুলোর পাশাপাশি রয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে চরম অবহেলা। করপোরেট কোম্পানি, চাতাল, অটো রাইস মিল ও ফড়িয়া অথবা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মাঠ পর্যায় থেকে ধান কিনে নিচ্ছেন। আর খাদ্য কর্মকর্তারা পা গুটিয়ে অফিসে বসে থাকছেন। এ অবস্থায় সরকারকে কৃষকের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ধান কিনতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ও কৃষকরা। সব অজুহাত অগ্রাহ্য করে মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে কঠোর হওয়ার পরামর্শ তাদের।
দাকোপ উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা অনিন্দ্য কুমার বলেন, ‘আমরা সাধারণত ধান কিনতে পারি না। কেননা গুদামের অবস্থান উপজেলা বাজারে। সেখান থেকে স্থানীয় বাজারগুলো অনেক দূরে। এতে করে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। আমাদের এখানে খাদ্য গুদামে চালের ধারণক্ষমতা দুই হাজার টন। তা ছাড়া সরকারি দামের চেয়ে বাজারে প্রতিমণে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দরে ধান বিক্রি হয়। তাতে করে কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রির চেয়ে খোলাবাজারে বিক্রিকেই প্রাধান্য দেয়।’
সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে হলে খাদ্য কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের লোকদের ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর ইউনিয়নের কৃষক মো. ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি ৭ থেকে ৮ বিঘা জমিতে আমন ও বোরো ধান চাষ করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিনা ১৭ জাতের ধান চাষ হয়, যা বিঘায় ২৮-৩০ মণ ফলন হয়। জিরা ধানের ফলন হয় বিঘায় ২৪-২৫ মণ।’
তিনি বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমে ১২০ মণের মতো ধান পেয়েছি ও গত বোরো মৌসুমে ১৮০ মণের বেশি ধান পেয়েছিলাম। আমরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারি না। কেননা সরকারকে ধান দিতে চাইলে এখানকার খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের ঘুষ দিতে হয়। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লটারিতে নাম ওঠার পর স্থানীয় নেতারা প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ নিতেন। আবার তারাই আমাদের ধানগুলো সরকারি গুদামে বিক্রি করে লাভটা পকেটে তুলতেন।’
এ ছাড়া সরকারি গুদামে ধান দিতে হলে অনেক শিডিউল মানতে হয়। এসব কারণে আমরা ধান খোলাবাজারে বিক্রি করে দেই, যোগ করেন এই কৃষক।
চলতি আমন মৌসুমে বগুড়া জেলায় সরকারের ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১২ হাজার টন। অথচ এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৮১ টন। তিন হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে দুই হাজার ৪০০ টন এবং ৩২ হাজার টন সিদ্ধ চালের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে এক হাজার ৮৫০ টন।
বগুড়ায় সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহ এত কম কেন জানতে চাইলে জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. রিয়াজুর রহমান রাজু বলেন, ‘খোলাবাজারে তুলনামূলক দাম বেশি। তাই কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান দেওয়ার চেয়ে খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রি করে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘কোনো কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে চাইলে তাকে প্রথমে কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে আবেদন করতে হবে। একবার নিবন্ধন করলে পরবর্তীতে প্রতিবার আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর অনলাইনে লটারি হয়। লটারিতে নাম এলেই কেবল সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট কৃষক।
কৃষকের সংখ্যা কম থাকলে গুদামে ধান নিয়ে এলে যারা আগে আসবেন তাদের থেকে পর্যায়ক্রমে ধান কেনা হয়ে থাকে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
ধান সংগ্রহে কচ্ছপ গতি
চলতি আমন মৌসুমে খাদ্য মন্ত্রণালয় কৃষক ও মিলারদের কাছ থেকে ১০ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ধান ও সিদ্ধ চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে গত ১৭ নভেম্বর, যা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ মৌসুমে ৩৩ টাকা দরে সাড়ে তিন লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ১১৪ টন। এটা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক হিসাব করলে দেখা যায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহী বিভাগে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার ৩৫৯ টন, সংগ্রহ হয়েছে ৩৯৫ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। রংপুরে ৭৫ হাজার ৯৪০ টন লক্ষ্যমাত্রার স্থলে সংগ্রহ হয়েছে ৩ হাজার ৬৫৫ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।
ঢাকায় ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩১ হাজার ৭৬০ টন। সেখানে সরকারি গুদামে জমা পড়েছে ৯৮৪ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। ময়মনসিংহে ৩৬ হাজার ৯৫২ টনের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এক ছটাকও সংগ্রহ হয়নি।
খুলনায় ৫১ হাজার ৯৭৩ টন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ২৯৬ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ। চট্টগ্রামে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩৮ হাজার ১৭০ টনের। সেখানে সংগ্রহ হয়েছে এক হাজার ৮৪৩ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
সিলেটে ২২ হাজার ৪১২ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ৪ হাজার ৭১৬ টন। এটা লক্ষ্যমাত্রার ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ। বরিশালে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৬ হাজার ৪৩৪ টন, আর সংগ্রহ হয়েছে ৫ হাজার ২২৫ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
চাল সংগ্রহের চিত্র
সরকার বর্তমান সময়ে ৪৭ টাকা কেজি দরে সাড়ে ৫ লাখ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। এসব চাল মিলারদের কাছ থেকে কেনা হয়ে থাকে। কেননা সরকারের কাছে সরাসরি চাল বিক্রির সুযোগ কৃষকদের নেই। বর্তমানে খোলাবাজারে মোটা চালের দাম ৬০-৬২ টাকা কেজি।
এ ছাড়া ৪৬ টাকা দরে এক লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও ধরা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ৯০ টাকার কমে কোনো আতপ চাল নেই। মধ্যম মানের আতপ চালের দামও ১৩৫ থেকে ১৫০ টাকা কেজি।
সাড়ে ৫ লাখ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৮০ টন সংগ্রহ হয়েছে। এটা লক্ষ্যমাত্রার ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আতপ চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে ১৭ নভেম্বর। তা চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আতপ চালে এক লাখ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৫৯ হাজার ৫০০ টন। অর্থাৎ চাহিদার ৫৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।
লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ধান সংগ্রহের পরিমাণ কম হওয়ার নেপথ্য কারণ সম্পর্কে জানতে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল খালেকের কার্যালয়ে গেলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।
খাদ্য সচিব মো. মাসুদ হাসানের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
সরকারি গুদামে কৃষকের ধান বিক্রিতে প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কৃষকরা খোলাবাজারে বেশি দামে ধান বিক্রি করতে পারে। তারা কেন কম দামে সরকারকে ধান দেবে? আমাদের মনে হয় সরকার ভালো দাম দিলে কৃষকরা অবশ্যই সরকারি গুদামে ধান দেবে। আগেও দেখেছি যখন বাজারের দামের চেয়ে সরকার মণে ২০-৩০ টাকা বেশি দিয়েছে তখন কৃষকরা ধান দিয়ে গেছে। তাই যতটা পারা যায় দাম বাড়াতে হবে।
কৃষকের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ধান কিনতে হবে
ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক এবং ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘সরকারকে কৃষকের ঘরে ঘরে বা দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ধান কিনতে হবে। বর্তমানে কৃষককে উপজেলা বা সরকারি গুদামে ধান নিয়ে আসতে হয়। এখানে ধান আনতে তাদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে দূরত্বটা অনেক বড় বিষয়। উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে হয়। এত সময় কৃষকের নেই।’
ড. জাহাঙ্গীর বলেন, আমাদের দেশে কৃষকরা এখন জমির পাশে খোলা করে ধান মাড়াই করে সেখান থেকেই বিক্রি করে দেন। করপোরেট কোম্পানি, চাতাল, অটো রাইস মিল ও ফড়িয়া অথবা স্থানীয়রা যারা ধানের ব্যবসা করেন তারা নিজেরা বা প্রতিনিধির মাধ্যমে সেখান থেকে ধান কিনে নেন। আর সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে হলে যেতে হয় গুদামে। অথচ সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তা পা গুটিয়ে অফিসে বসে থাকেন। এটার পরিবর্তন করতে হবে।
এই কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন স্থানে সে দেশের সরকারের এজেন্ট রয়েছে। তারা কৃষকের ঘরে ঘরে গিয়ে ধান সংগ্রহ করে থাকে। পাকিস্তান আমলে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ৩-৪ বছর সরকারি ইন্সপেক্টররা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ধান কিনতেন। পরে তা সরকারের খোলায় শুকানো হতো। তা ছাড়া রাইস হাস্কিং মিলে টাকা দিয়ে শুকিয়ে নেওয়া হতো।
ময়েশ্চার কন্টেন্ট আরেকটি সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ময়েশ্চার সামান্য এদিক-সেদিক হলে সরকার ধান নেয় না। কৃষক গুদামে ধান নিয়ে গেল আর সামান্য সমস্যার কারণে ধান নিল না এক্ষেত্রে আবার গাড়ি ভাড়া দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়। এখানে যদি সরকার ধান কিনে নিয়ে নিজেরা কিছুটা শুকিয়ে নেয় তাহলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু তারা তা করবে না। কৃষকের ঝাড়াইয়ের বিষয় আছে। যাতায়াত খরচও আছে। আবার টাকাটা নগদ পায় না। চেক দেওয়া হয়। সেই টাকা তুলতে ব্যাংকে ঘুরতে হয়। এসব কারণে সরকারকে ধান দিতে কৃষক আগ্রহ দেখায় না।
ড. জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘সরকারিভাবে দামটা স্থির না রেখে সময় ও স্থান অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। যখন খোলাবাজারে দাম বেশি হবে তখন সরকারকেও বেশি দামে কিনতে হবে। তা ছাড়া মোটা ও সরু ধানের দামে পার্থক্য থাকতে হবে। মোটা ধানের চেয়ে সরু ধানের দাম কেজিতে ২-৫ টাকা বেশি দিতে হবে।
মিলারদের কাছ থেকে চাল না কিনে কৃষকের থেকে ধান নেওয়াটা সরকারের জন্য লাভজনক কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ধান কেনাটা বেশি লাভজনক। এতে মিলারদের ওপর নির্ভরতাও কমে আসবে। আর মিলাররা যখন সরকারকে চাল দেয় ততদিনে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে যায়। সরকার কৃষকের কাছ থেকে বেশি বেশি ধান ও মিলারদের কাছ থেকে কম করে চাল সংগ্রহ করলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।’