× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আসিয়ান ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার দুয়ার

দীপক দেব

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৫২ এএম

গ্রাফিক্স প্রবা

গ্রাফিক্স প্রবা

রোহিঙ্গা সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির বলয় তৈরির কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ‘অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসে’ (আসিয়ান) যুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা চলছিল। বর্তমানে ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়ে উঠেছে। অনেকেরই ধারণা, সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের মামলা জয় ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানপ্রচেষ্টার কূটনৈতিক তৎপরতার অভিজ্ঞতা আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার বেলায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। 

পররাষ্ট্রীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও প্রসারিত করার পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মাত্রাকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে অন্তর্বর্তী সরকার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকে সবিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ব্যাপারে গত সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের একটি গণমাধ্যমে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের গবেষক ইশরাত হোসেন মন্তব্য করেন, আসিয়ানে যোগদানের ব্যাপারে বাংলাদেশের পরিকল্পনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ভারতকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি’ থেকে দূরে সরে গিয়ে পূর্বদিকের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

তবে বাংলাদেশের আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার এই প্রচেষ্টা একেবারে নতুন নয়। নতুন শতাব্দীর শুরুর দশক থেকেই দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকরা মনে করে আসছেন, আসিয়ান জোট বিশেষ করে অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিসহ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করতে পারে। দেশের সাম্প্রতিক নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সম্ভাবনার ওপর তারা বাস্তব কারণেই আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, প্রক্রিয়া জটিল হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ফলে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগানো উচিত। 

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গত ৪ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফরকালে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে বাংলাদেশের জন্যে মালয়েশিয়ার সমর্থন চেয়েছেন।

যুক্ত হওয়ার চিন্তাভাবনার শুরু যেভাবে

২০১৪ সালে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার চিন্তা আসে। এ ব্যাপারে ওই বছরের ১ মার্চে তৎকালীন বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ একটি গণমাধ্যমকে জানান, আসিয়ানের সদস্য হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তারা মনে করছেন, এই সংস্থার সদস্য হতে পারলে বাংলাদেশের জন্য তা ইতিবাচকই হবে। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আসিয়ানে যুক্ত হলে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার দিকগুলো খতিয়ে দেখার কার্যক্রমও পরিচালনা করে। এ ঘটনার মাত্র কয়েক বছর পর ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সমস্যার প্রেক্ষাপটে আসিয়ান বাংলাদেশের কাছে গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে। মিয়ানমার আসিয়ানভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই জোটের অন্য সদস্য দেশগুলোর সমর্থন বাংলাদেশের জন্যে জরুরি হয়ে ওঠে। এ কারণে তখন থেকে আসিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারেও মনোযোগী হয়ে ওঠেন কূটনীতিকরা।

২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশ আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার তৎপরতা আরও জোরদার করে। এ সময় বাংলাদেশ আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) সদস্য হয় এবং পাশাপাশি এই জোটে যুক্ত হওয়ার প্রথম স্তর সেক্টরাল ডায়লগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টা 

বাংলাদেশের জন্য পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতায় আসিয়ানে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আগামী বছর মালয়েশিয়া এই অর্থনৈতিক জোটটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেবে। এরই মধ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনার হাজনাহ মো. হাশিমের সঙ্গে বৈঠকের সময় আসিয়ানের সদস্য হতে মালয়েশিয়ার সমর্থন চান প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। পরে গত ৪ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফরের সময়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও আসিয়ানের সদস্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন তিনি। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ‘আমরা ২০২৫ সালে আসিয়ানের আসন্ন সভাপতি পদে মালয়েশিয়াকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি।’ এ ছাড়া এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে আসিয়ানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। 

অন্যদিকে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আসিয়ানের একটি সেক্টরাল সংলাপ অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবের বিষয়ে শিগগিরই বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করবেন। তবে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ইতোমধ্যে প্রতিদিনের বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও সুনির্দিষ্টভাবে কাজ শুরু করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট ডেস্কের এক কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা আসিয়ানের বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে এই বিষয়ে এখনও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব পররাষ্ট্র দপ্তরে এসেছে বলে মনে হয় না। এটা নিয়ে আমাদের কৌশল কী হবে, সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এখনও আমাদের কোনো কিছু জানাননি। তবে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে পররাষ্ট্র সচিব দেশে ফিরে আসার পর হয়তো এসব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হতে পারে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভরসা আসিয়ান

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে শুরু থেকেই ঢাকা আসিয়ানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। যদিও এ ব্যাপারে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনও ঘটেনি। তা ছাড়া মিয়ানমার এ জোটের সদস্য দেশ হলেও ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখানে অভ্যুত্থানের পর থেকে আসিয়ানের মধ্যেও সেখানকার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এ জোটের সদস্য রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর একদিকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কড়া সমালোচক। অন্যদিকে সরাসরি জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাইছে থাইল্যান্ড। তবে কোনো কোনো কূটনীতিকের ধারণা এ বিষয়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে বড় ধরনের সহযোগিতা করতে পারে। পাশাপাশি বিষয়টি সমাধানে আসিয়ানভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতির এম হুমায়ুন কবির।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘে ৭৯তম অধিবেশনের মধ্যে বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া রোহিঙ্গা সংকটে আঞ্চলিক সদস্যদের কাছ থেকে আরও সমর্থন পেতে বাংলাদেশকে আসিয়ানের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে এই বিশাল দায়িত্ব একা নিতে দিতে পারে না।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ফেয়ার ব্যাংক সেন্টার ফর চাইনিজ স্টাডিজের অনাবাসিক ফেলো অণু আনোয়ারের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আসিয়ানের সদস্য পদ পেতে ঢাকার প্রত্যাশার ভিত্তিকে জোরালো করে তুলেছে। তিনি জানিয়েছেন, ইটলস-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আসিয়ান সদস্যদের মূল্যবান দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ করতে পারে। অণু আনোয়ার বলেন, তাই, কৌশলগত অবস্থান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের কারণে আসিয়ানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব। এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই আসিয়ানের স্বার্থ ও চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং চ্যালেঞ্জ মিলে যাওয়াও সদস্য পদ পাওয়ার জন্য ঢাকা আগ্রহকে ন্যায্যতা দিতে পারে। 

সদস্য কি হতে পারবে বাংলাদেশ 

১৯৬৭ সালে গঠিত আসিয়ান জোট ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুরো বিশ্বে ইউরোপীয় জোটের পরেই এই জোট গুরুত্ব বহন করে। এই অর্থনৈতিক জোটের বাজার তিন ট্রিলিয়নের ওপর। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্রসীমা নিয়ে সালিশের অভিজ্ঞতা ও এই অঞ্চলের সঙ্গে বিরাজিত সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য এই জোটে যোগদানের পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করতে পারে। কারণ আসিয়ানের সদস্য দেশ মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।

তবে আপাতত বাংলাদেশের এই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, দেশের বিরাজমান অস্থির পরিস্থিতিতে বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূসের বিশ্বব্যাপী যে ভাবমূর্তি রয়েছে সেটিকে কাজে লাগিয়ে এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের অনেকের সঙ্গে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূত্রে বাংলাদেশ লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ার প্যাসিফিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান উপদেষ্টা ওহ ই সান সম্প্রতি মন্তব্য করেন, ‘বিরাজমান রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ আসিয়ান দেশ বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং দেশটির উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছে। তবে এই আঞ্চলিক গোষ্ঠীর সদস্য পদ পেতে আবেদনের আগে বাংলাদেশকে অবশ্যই রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিকভাবে স্থিতিশীল হতে হবে।’ 

এ ছাড়া আসিয়ানের সামনে মিয়ানমার সংকটের মতো বেশ কিছু ‘মাথা ঘামানোর’ বিষয় থাকায় বাংলাদেশের সদস্য পদ পাওয়া এখনই সহজ হবে না বলে মনে করেন সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ফেলো ওহ ই সান। তার মতে, ‘মিয়ানমার সংকট এখনও চলছে। এ অবস্থায় আসিয়ান নিশ্চয়ই নতুন কোনো সদস্য নিতে চাইবে না, যারা নিজেরাই এখনও অনেক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। তাড়াহুড়োর তো প্রশ্নই আসে না।’

এ ব্যাপারে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি এম হুমায়ুন কবির গত মঙ্গলবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি এর তিনটা কারণ উল্লেখ করব। প্রথমত, আসিয়ান আমাদের প্রতিবেশী। নাফ নদী পার হলেই আসিয়ানের সীমানা শুরু। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিকভাবেও আসিয়ান খুব গুরুত্বপূর্ণ। আসিয়ানের অর্থনীতি ভারতের থেকেও বড় অর্থনীতি। আসিয়ানের অর্থনীতি ভারতের চেয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এটি ভারতের থেকেও বড় বাজার। এখানে সম্পৃক্ত হতে পারলে আমরা ভারতের থেকে বেশি সুবিধা পাব। তৃতীয়ত, চীনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে আসিয়ানের এ জোটকে আমরা কাজে লাগাতে পারব। অর্থনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত সুযোগ তৈরি হবে। যেমন, রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) হলো বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য চুক্তি। এটি আসিয়ান সদস্য দেশগুলোসহ মোট ১৫টি দেশের একটি ফ্রি ট্রেড সংস্থা। এদের রয়েছে ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কেট। এখানেও আমাদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে।’ 

আসিয়ানে সংযুক্তির জন্য এ প্রচেষ্টাকে নিছক কূটনৈতিক রুটিনওয়ার্ক হিসেবে না নিয়ে এটিকে বিশেষ মিশন হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে এই সাবেক রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এখানে শুধু রুটিন ডিপ্লোমেসি করা হবে না। সিরিয়াস ডিপ্লোমেসি করতে হবে। কারণ আপনি চাইছেন ডায়লগ পার্টনার হতে চাইছেন। আর অনেক দেশই ডায়লগ পার্টনার হওয়ার জন্য এই জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। আমাদের এই কাজটা করতে হবে একটা মিশন হিসেবে। দরকার হলে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে স্পেশাল কনভয় নিয়োগ করে এ কাজটা করতে হবে। তবেই এ উদ্যোগ সফলতার দিকে যাবে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা