× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সফলতার গল্প

একটি গাভী দিয়ে শুরু, এখন একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৪ ঘণ্টা আগে

সফল উদ্যোক্তা মাকছুদুল আলম

সফল উদ্যোক্তা মাকছুদুল আলম

করতেন বায়িং হাউসে মার্চেন্ডাইজিং বিভাগে চাকরি। বেতনও ছিল সম্মানজনক। মাসে বেতন পেতেন প্রায় এক হাজার ডলার। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার। সব সময় মাথায় কাজ করত- চাকরি করব না, অন্যকে দেব চাকরি। সেই চিন্তাভাবনা থেকে ২০১৬ সালের শেষদিকে সিদ্ধান্ত নেন- চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হবেন।

এরপর চাকরি ছেড়ে ২০১৭ সালে গড়ে তোলেন ব্রয়লার মুরগির খামার। মুরগি লালন-পালনের পাশাপাশি ২০১৮ সালে শুরু করেন গাভী লালন-পালন। প্রথমে মাত্র একটি গাভী দিয়ে শুরু হয় তার গরুর খামার। এরপর ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন গাভী। বর্তমানে তার খামারে আছে ৩৫টি গাভী। এই সফল উদ্যোক্তার নাম মো. মাকছুদুল আলম। চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মাকছুদুল আলম কর্মজীবন শুরু করেন ২০০৩ সালে। এরপর প্রায় ১৩ বছর কাজ করেন গার্মেন্টস বায়িং হাউসের মার্চেন্ডাইজিং সেক্টরে। চাকরি ছেড়ে ২০১৭ সালে নগরীর দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার সাগরপাড় এলাকায় গড়ে তোলেন ওমর ওসমান অ্যাগ্রো। বর্তমানে তিনি এই খাতের একজন সফল উদ্যোক্তা। 

তার ব্যবসা এখন শুধু খামারে সীমাবদ্ধ নয়, গড়ে তুলেছেন একটি সমন্বিত কৃষি ও ব্যবসা নেটওয়ার্ক। এখন তার রয়েছে সাইলেজ ও গো-খাদ্য ব্যবসা, পশুপাখির ওষুধ বিক্রি ও ভেট ফার্মেসি। আছে একটি মিনি সুপারশপ, একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। একসময় যিনি চাকরি করতেন, তার প্রতিষ্ঠানেই এখন কাজ করছে ১৮ জন মানুষ। 

দক্ষিণ কাট্টলী সাগরপাড় এলাকায় তার ডেইরি ফার্মে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেখানে খামারে গাভীর পাশাপাশি ছাগল-ভেড়াও লালন-পালন করা হচ্ছে। সেখানে রাখালরা গাভীগুলোকে পরিচর্যা করছেন। তার পাশে আছে সাইলেজ ও গো-খাদ্য তৈরির কারখানা। কয়েকজন শ্রমিক সেখানে সাইলেজ তৈরির কাজ করছেন।

উদ্যোক্তা হওয়ার নেপথ্যের গল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে মাকছুদুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘পড়ালেখা শেষ করে ২০০৩ সালে যখন চাকরি শুরু করি, তখন থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন মনের মধ্যে ছিল। কিন্তু চাকরির কারণে সেটি হয়ে উঠছিল না। এরপর ২০১৭ সালে একটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হলে চাকরি স্থায়ীভাবে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২০১৭ সালে ব্রয়লার মুরগি লালন-পালন দিয়ে শুরু করি খামার ব্যবসা।

তিনি আরও বলেন, তখন হাতে খুব বেশি পুঁজি ছিল না। মাত্র তিন থেকে চার লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা দিয়েই খামার ব্যবসায় নেমে যাই। ২০১৭ সালে ব্রয়লার মুরগি লালন-পালন শুরু করার পর ২০১৮ সালে গরুর ডেইরি খামার গড়ে তোলার কাজ শুরু করি। ডেইরি খামার প্রথমে একটি গাভী দিয়ে শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে খামারে গাভীর সংখ্যা বাড়াতে শুরু করি। বর্তমানে আমার খামারে ৩৫টি গাভী আছে। নিজস্ব ও সংগ্রহকৃত দুধ মিলিয়ে এখন প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ লিটার দুধ চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে সরবরাহ করছি।

ব্যবসা এখন শুধু খামারে সীমাবদ্ধ রাখেননি জানিয়ে তিনি বলেন, খামারের পাশাপাশি এখন আমি সাইলেজ ও গো-খাদ্য ব্যবসা শুরু করেছি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন খামারিরা এসে আমাদের কাছ থেকে সাইলেজ ও গো-খাদ্য সরবরাহ নিচ্ছেন। পশুপাখির ওষুধ বিক্রি ও ভেট ফার্মেসি আছে। পাইকারি ও খুচরা পশুখাদ্য সরবরাহ করছি। খামারের বাইরে বর্তমানে ফইল্লাতলী বাজারে আমার একটি একটি মিনি সুপারশপ আছে। আমার এখন ছাগল ও ভেড়ার খামারও আছে। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিয়ের জন্য অনেকে আমাদের খামার থেকে ছাগল-ভেড়া কিনে নিয়ে যান।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা