গল্প
ধ্রুব এষ
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ১৪:৪৮ পিএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৬ ১৫:১০ পিএম
অলংকরণ: শতাব্দী জাহিদ
পাখির নাম পান-বিড়ি-সিগ্রেট।
পাখির নাম শেখ ফরিদ।
ভব উরফে ন্যাট জিও এই তথ্য উত্থাপন করল।
ঠাকুর হিংস্রভাবে বলল, ‘স্টিক-জয়েন্ট-কলকি নামে পাখি নাই।’
আমি বললাম ‘খুব থাকা উচিত।’
ভব বলল, ‘লন ওস্তাদ।’
আমি বললাম, ‘কই লব ভব?’
ভব বলল, ‘বস?’
ঠাকুর বলল, ‘দেখা দরকার। একটা পাখির নাম পান-বিড়ি-সিগ্রেট, সেই পাখিটার নামই শেখ ফরিদ, সেই পাখিটাই কালো তিতির, তার বিচরণ দেখা দরকার।’
আমি বললাম, ‘কালো তিতিরে-।’
ঠাকুর বলল, ‘আহ্!’
কিন্তু আমার কথা শেষ হয় নাই, ‘- র মাংস কি খাওয়া যায়?’
‘পান-বিড়ি-সিগ্রেট বলেন ওস্তাদ। শেখ ফরিদ বলেন। কালো তিতির বললে সেই ভাইবটা কি আসে?’ ভব বলল বা অযুক্তি দিল। অকাট্য অযুক্তি। কিন্তু এই রাত গভীরে তারা কালো তিতির প্রকাশ পানি-বিড়ি-সিগ্রেট বা শেখ ফরিদ পাখির বিচরণ দেখতে যাবে। আমাকেও সঙ্গে নিয়ে যাবে? তারা রাত ছাড়া সময় পায় না। আসল কথা হলো ‘পান-বিড়ি-সিক্রেট’ নামে একটা ভিডিও ফিকশন বানাচ্ছে ঠাকুর- তার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য তারা কালো তিতিরের ডাক রেকর্ড করে আনবে। আমার ঘাড়ে কয়টা মাথা যে আমি তাদের সঙ্গে না যাই? ঠাকুর পূর্বজন্মে নিশ্চয় অ্যাসিরীয় ছিল- অসুরের জাত- কথার অবাধ্য হলে যেভাবে তাকায়? ভব পূর্বজন্মে আন্ডারটেকার ছিল।
আমি কি এই দুজনকে ভয় পাই?
শতকরা ৮৯ ভাগ ভয় পাই।
রাত ১২টার কিছু আগে পরে হবে- ফ্যাশন টিভিতে ‘লঝেঁরি’ দেখছি, হামলা দিল দুই ডাকাত। শুটিং ইউনিটের গাড়ি নিয়ে তারা এসেছে। তাদের গাড়ির ড্রাইভার সকেট। একে আমার এলিয়েন মনে হয়। মতি গড্ডলের মতো এ দেখতে। মতি গড্ডল এলিয়েন আমি শিওর। তবে এখানে সেসব কথায় না যাই।
কোথায় যাও?
ঠাকুরগাঁও।
ঠাকুরগাঁওয়ে শেখ ফরিদ থাকে। মীর সাবু থাকে। শেখ ফরিদ থাকে ঝোপেঝাড়ে, মীর সাবু থাকে আশ্রম পাড়ায়। বহুদিন পর মীর সাবুকে দেখবÑতারা শেখ ফরিদের ডাক রেকর্ড করুক, আমি মীর সাবুর ডাক রেকর্ড করব। আমার ধারণা মীর সাবু এতদিনে পাখি হয়ে গেছে এবং ডাকে।
: ব্রাদার বট, ঢাকা থেকে শেখ ফরিদ ও মীর সাবুর ঠাকুরগাঁও কতদূর?
বিনীত চ্যাট জিপিটি বলল : ৪৪০-৪৮০ কিলোমিটার।
: গাড়িতে যেতে কতক্ষণ লাগে?
: প্রাইভেটকারে সময় লাগে সাধারণত ৮.৫ থেকে ১১ ঘণ্টা।
আমাদের ১৩ ঘণ্টা লাগল। যখন খুশি গাড়ি থামিয়েছে ঠাকুর। চা ‘টেনেছে’, জয়েন্ট ‘খেয়েছে।’ ভাত খেয়েছি বিরগঞ্জের মকবুল হাইওয়ে হোটেলের ভিআইপি সেকশনে বসে। কড়াই বিফ, ডাল। ওয়েটার ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, শেখ ফরিদের ভুনা পাওয়া যায় কিনা, ওয়েটার ভাই দুঃখিতভাবে বলেছেন, ‘স্যার, আমার নাম শেখ ফরিদ।’-দুঃখের কথা আনডাউটেডলি।
দুপুর তিনটায় আমাদের বহনকারী গাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে ঢুকল। তিনটা বাইশ মিনিটে আশ্রমপাড়া ঢুকল।
‘তৈয়ব ডাক্তারের বাসা কোনটা, ভাই?’
মীর সাবু তৈয়ব ডাক্তারের ছেলে। কিন্তু মীর সাবু বহুদিন ঠাকুরগাঁওয়ে নাই। দেশান্তরী হয়েছে। এটা তথ্যপ্রবাহের যুগ। আশ্রমপাড়ার এক তরুণ তথ্য দিল, ‘মশা ভাই এখন সৈয়দপুরে থাকে।’
মশা ভাই মানে মীর সাবু। তার আরেকটা নাম আছে মোশারফ। এলাকার মানুষজন ডাকে ‘মশা’। তরুণ তার পরিচয় বিবৃত করল, ‘আমি উমাইর ফিদা। আমি একজন কবি। দুই হাজার তেইশের বইমেলায় আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিলÑ “অথবা নক্ষত্র বিরুদ্ধ জিরাফ”। ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।’
খুব ভালো কথা। আমরা তার প্রকাশকের নাম নিলাম এবং বললাম তার বই আমরা কিনব।Ñ অবশ্যই কিনব হয়তো পড়ব, হয়তো পড়ব না। সেটা অন্য ব্যাপার। তরুণ কবিদের বই কিনে তাদের উৎসাহিত করা দরকার।
ঠাকুর বলল, ‘কবিবর শোনো, মশা ভাই নাই, শেখ ফরিদ ভাইকে কি পাবো মনে করো?’
বিপুল সহযোগিতা করল উমাইর ফিদা। ঝোপঝাড়ে আমরা বেশ কিছু কালো তিতির পাখি দেখলাম। বা পান-বিড়ি-সিগ্রেট পাখি। বা শেখ ফরিদ পাখি। ভূচর এই পাখিরা। উমাইর ফিদা নারী পাখি ও পুরুষ পাখি চিহ্নিত করে দেখাল। পুরুষ তিতিরের পিঠ ঘন কালো, মধ্যে মধ্যে সাদাও মেটে তিলা। নারী তিতিরের পিঠ ফিকে বাদামী ও মেটে। ডাক রেকর্ড করল ঠাকুর ও ভব।
: চিক... চিক... চিক... ক্রেকেক!
মনে হলো ডাকল- শেখ ফরিদ!
মনে হলো- পান-বিড়ি-সিগ্রেট!
এবং মনে হলো অবশ্যই পান-বিড়ি-সিক্রেট!
সন্তুষ্ট ঠাকুর ঘোষণা দিল- সে পরের জন্মে শেখ ফরিদ পাখি হয়ে জন্মাবে।
‘তুমি কী হয়ে জন্মাবে বাবা ভব?’
‘পরের জন্মে ওস্তাদ? গরীব মানুষ, কী আর করব, পান-বিড়ি-সিগ্রেট পাখি হয়ে জন্মাব।’
খুব ভালো কথা। আমি আবার আমি হয়েই জন্মাব। ঠাকুরগাঁও যাব, মীর সাবুকে পাব না এবং দুইটা শেখ ফরিদ ধরে আনব। ভুনা বানিয়ে রুটি সহযোগে খাব।
যত্ন করে তারা আমাকে জমা রেখে গেল আমার ডেরায়। তাদের আমি শতকরা ৮৯ ভাগ ভয় পাই। দুই মাকাল। তারা মনে করে বসে আছে কী, আমি তাদের সঙ্গে গিয়েছিলাম?
: চিক... চিক... চিক... ক্রেকেক!