সাক্ষাৎকার: মো. জুয়েল রানা
গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ১২:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৬ ১২:৫৮ পিএম
মো. জুয়েল রানা, ম্যানেজার, ব্র্যান্ড মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন, মিনিস্টার মাইওয়ান গ্রুপ
তীব্র গরম আর ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটার আমেজে দেশের ইলেকট্রনিক্স বাজারে বেড়েছে এসি ও ফ্রিজের চাহিদা। ক্রেতাদের পছন্দ, বিক্রির প্রবণতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং বিক্রয়োত্তর সেবার নানা দিক নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন মিনিস্টার মাইওয়ান গ্রুপের ব্র্যান্ড মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন ম্যানেজার মো. জুয়েল রানা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গোলাম কিবরিয়া
প্রশ্ন : ঈদুল আজহা উপলক্ষে এসিসহ হোম অ্যাপ্লায়েন্স বাজারের সাম্প্রতিক বিক্রয় পরিস্থিতি কেমন? এসি-ফ্রিজের চাহিদা কেমন?
ঈদু আজহা উপলক্ষে বর্তমানে দেশের হোম অ্যাপ্লায়েন্স বাজারে বিক্রি বেড়েছে। তীব্র গরম ও ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটার কারণে এসি ও ফ্রিজের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ইনভার্টার এসি, এনার্জি সাশ্রয়ী ফ্রিজ এবং মাংস সংরক্ষণের জন্য ডিপ ফ্রিজের বিক্রি বেশি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ঈদ অফার, ডিসকাউন্ট ও কিস্তি সুবিধাও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রশ্ন : ঈদের বাজারে আপনারা কী কী অফার, নতুনত্ব ও উদ্ভাবন নিয়ে এসেছেন?
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার খুশিকে আরও বাড়িয়ে দিতে আমরা নিয়ে এসেছি মিনিস্টার ‘ফ্রিজ কিনুন, হাম্বা জিতুন! সিজন থ্রি!’ এই অফারে মিনিস্টার ফ্রিজ কিনে ক্রেতারা পেতে পারেন গরু, ওমরাহ হজের প্যাকেজ, একটির সঙ্গে আরেকটি ফ্রি, ওভেন, নগদ মূল্যছাড়সহ নিশ্চিত আকর্ষণীয় উপহার। এ ছাড়া কিস্তিতে পণ্য ক্রয়ের সুবিধা, ডিজিটাল পেমেন্টে ক্যাশব্যাক এবং এক্সচেঞ্জ অফার রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকার ক্রেডিট কার্ডে ০% ইন্টারেস্টে EMI সুবিধা রয়েছে। আমরা পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬-কে সামনে রেখে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ৩৭০ লিটার ধারণক্ষমতা-সম্পন্ন নতুন মডেলের মেগা ফ্রিজারসহ বেশকিছু ভিন্ন ভিন্ন ধারণক্ষমতা এবং কালারের ফ্রিজ বাজারে নিয়ে এসেছি। এই মডেলগুলোতে নতুন ফ্লোরাল ডিজাইন এবং মিরর গ্লাস ডোর ফিনিস রয়েছে। যেগুলো বর্তমানে গ্রাহকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ছাড়া প্রিমিয়াম সেগমেন্ট এর কয়েকটি নন ফ্রস্ট ফ্রিজ বাজারে নিয়ে এসেছি।
প্রশ্ন : বিক্রয়োত্তর সেবা (after-sales service) নিয়ে আপনারা কী ধরনের সুবিধা দিচ্ছেন?
গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নে আমরা বিক্রয়োত্তর সেবাকে ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করি। এজন্য সারা দেশে মিনিস্টারের সার্ভিস নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান টিম এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক কাস্টমার সাপোর্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। গ্রাহক যেন সহজে সেবা পান, সে লক্ষ্যে হটলাইন, ডিজিটাল সাপোর্ট ও দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ, জেনুইন স্পেয়ার পার্টস নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইনস্টলেশন ও সার্ভিস সম্পন্ন করার মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু পণ্য বিক্রি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহকের সঙ্গে একটি নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক তৈরি করা।
প্রশ্ন : জাতীয় বাজেটে হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পের কোন বিষয়গুলোতে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন?
হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁচামাল ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ আমদানি-নির্ভরতা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, ডলারের বিনিময় হারজনিত চাপ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্পনীতি সংক্রান্ত কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় বাজেটে নীতিগত সহায়তা, কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক সুবিধা, সহজ অর্থায়ন, স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রযুক্তি উন্নয়নে প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা পেলে দেশীয় শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে এবং আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে।