প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ১২:২০ পিএম
উৎসব ঘিরে কেনাকাটার লেনদেনের অন্যতম অনুষঙ্গ বিকাশ পেমেন্ট। গত কয়েক বছর ধরে ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্টে দেশের সব প্রান্তের গ্রাহকদের উৎসবের কেনাকাটায় অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছে বিকাশ পেমেন্ট। ঈদের আনন্দ আবর্তিত হয় প্রিয়জনদের নিয়ে ঘোরাঘুরি, খাওয়া-দাওয়া ও কেনাকাটার ব্যস্ততাকে ঘিরে। আর এই ব্যস্ত সময়ে ক্যাশ টাকা বহনের ঝুঁকি, কিংবা জাল ও ছেঁড়া নোটের ঝামেলা এড়াতে অনেকেই অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন ডিজিটাল লেনদেনে। সেটি বিবেচনায় নিয়েই এবারও দেশের বৃহত্তম মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’ ঈদের কেনাকাটাকে আরও নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট এবং ক্যাশব্যাক অফার নিয়ে এসেছে। কেনাকাটা বা খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি বিকাশের মাধ্যমে গ্রাহকরা ভ্রমণের টিকিট ও হোটেল বুকিং, রেমিট্যান্স গ্রহণ, সালামি পাঠানো এবং মহৎ উদ্দেশ্যে দান করার কাজগুলোও অনায়াসে করে ফেলতে পারছেন।
চলুন দেখে নেই, ঈদ উদযাপনে বিকাশ কতটা প্রাসঙ্গিক
পশুর হাটে টাকার নিরাপত্তা : পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে ভিড়ভাট্টাপূর্ণ পশুর হাটে ঘোরাঘুরি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বটে, কেননা এই সময়টায় পকেটমার-ছিনতাইকারী চক্রগুলো তৎপর হয়ে ওঠে। ক্যাশ টাকা বহনের এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে ডিজিটাল লেনদেন। পশুর হাটে যাওয়ার সময় ক্যাশ বহনের পরিবর্তে, ক্রেতারা তাদের টাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টে রাখতে পারেন ডিজিটাল উপায়ে। ক্রেতা-বিক্রেতা পশু কেনার টাকা বিকাশের মাধ্যমেই লেনদেন করতে পারেন। একইভাবে, পশু বিক্রি শেষে শহর ছাড়ার আগে বিক্রেতারাও তাদের টাকা নিরাপদে রাখতে বিকাশ অ্যাকাউন্টে ক্যাশ ইন করে রাখতে পারেন। এদিকে পশু যেভাবেই কেনা হোক না কেন, ইজারাদারদের বসানো বিকাশ কিউআর কোড স্ক্যান করে গ্রাহকরা সহজেই পশুর হাটগুলোতে হাসিল পরিশোধ করতে পারেন।
বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটা : ঈদ উৎসবে মানুষ প্রিয়জনদের জন্য কেনাকাটা করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। তাই উৎসবের কেনাকাটাকে একটু সাশ্রয়ী করতে অনেকেই কোথায় কী ছাড় দিচ্ছে, ডিসকাউন্ট বা পেমেন্ট কুপন মিলছে তার খোঁজ রাখেন। তাই প্রতি ঈদেই বিকাশও নিয়ে আসে আকর্ষণীয় সব ডিসকাউন্ট এবং ক্যাশব্যাক অফার, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা সুপারস্টোর, ব্র্যান্ডের দোকান, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, ইলেকট্রনিক্সের দোকান, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্থানে স্বাচ্ছন্দ্যে পেমেন্ট করতে পারেন। এই বছর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটায় মিলছে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং ক্যাশব্যাক।
হোটেল ও ট্রাভেল টিকিট বুকিং : পরিবার-প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে প্রতি বছর কোটি মানুষ নানা ঝক্কি পেরিয়ে বিভাগীয় শহরগুলো থেকে নিজ নিজ জেলায় যাতায়াত করেন। এই দীর্ঘ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষ যানবাহনের টিকিটের জন্য হাহাকার এবং অতিরিক্ত ভাড়াসহ নানা ভোগান্তির মুখোমুখি হন। গ্রাহকদের এই ঝামেলা বিবেচনায় নিয়ে ভ্রমণ সংক্রান্ত সব বুকিং এক স্থানে নিয়ে এসেছে বিকাশ। এখন গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপের ‘টিকিট অ্যান্ড ট্রাভেল’ আইকনে ট্যাপ করে খুব সহজেই বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা প্লেনের টিকিট কাটা থেকে শুরু হোটেল-রিসোর্ট বুক করতে পারছেন।
তাৎক্ষণিক রেমিট্যান্স গ্রহণের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম : বহু প্রবাসী বাংলাদেশি কাজের চাপে ঈদের ছুটিতে অনেক সময় দেশে থাকা প্রিয়জনের কাছে ফেরার সুযোগ পান না। তবে, তারা তাদের কষ্টার্জিত আয় দেশে পাঠানোর মাধ্যমে উৎসবের সময়গুলোয় পরিবারের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময়, প্রবাসীরা পরিবারের কাছে সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠান যাতে তারা কোরবানি দিতে পারেন। বৈধ মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়াকে সহজ ও তাৎক্ষণিক করতে বিকাশ একটি বিস্তৃত রেমিট্যান্স ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। ফলে, প্রবাসীরা ১৭০টি দেশ থেকে ১৩৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরের মাধ্যমে দেশে থাকা প্রিয়জনের কাছে মুহূর্তেই রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন। এই অর্থ ২৭টি স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের যেকোনো একটিতে নিষ্পত্তি হয়ে সরাসরি প্রাপকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে। সরকারি প্রণোদনার ২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থও সরাসরি অ্যাকাউন্টে যুক্ত হয়ে যায়।
দান-অনুদান : সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজিটাল আর্থিক প্লাটফর্মগুলো দান-অনুদানের সংস্কৃতিতে বেশ পরিবর্তন এনেছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে বিভিন্ন সংস্থা এখন সুবিধাভোগীদের কাছে আরও দ্রুত, নিরাপদে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছাতে পারছে। বর্তমানে বিকাশ অ্যাপ থেকেই গ্রাহকরা সরাসরি ৫০টিরও বেশি দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় দান-অনুদান পাঠাতে পারছেন। বিকাশ অ্যাপের ‘ডোনেশন’ আইকনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে মাত্র কয়েকটি ট্যাপেই দান-অনুদান সম্পন্ন করতে পারছেন।
ডিজিটাল লেনদেন এখন সবার জন্যই প্রাসঙ্গিক এবং এটি প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, দান-অনুদান, রেমিট্যান্স, সালামি দেওয়া বা খাবার অর্ডার করাÑ যাই হোক না কেন, বিকাশ ঈদ উদযাপনকে করেছে আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত। বর্তমানে, বিকাশের প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্ট এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার এজেন্টের বিশাল নেটওয়ার্ক গ্রাহকদের ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি একটি বিস্তৃত ডিজিটাল লেনদেন ইকোসিস্টেমও গড়ে তুলেছে, যা গ্রাহকদের ‘অ্যাড মানি’ সেবার মাধ্যমে ব্যাংক ও কার্ড থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিক টাকা আনা, প্রয়োজনের মুহূর্তে ঋণ নেওয়া এবং প্রিয়জনদের কাছে টাকা পাঠানোর সুযোগকে বিস্তৃত করেছে।