কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এখন অনলাইনেই কসাই বুকিংয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রিমিয়াম, প্রফেশনাল ও মৌসুমি- বিভিন্ন ধরনের কসাই পাওয়া যাচ্ছে, আর কোরবানির সময় অনুযায়ী নির্ধারিত হচ্ছে খরচ। ঝামেলা এড়াতে অনেকেই আগেভাগে বুকিং দিচ্ছেন, ফলে সেবাটি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। বাসায় জায়গা না থাকলে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি, মাংস কাটা, প্যাকেট করা ও বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
বেশ কয়েক বছর ধরে রাজধানীবাসীকে কসাইয়ের সেবা দিয়ে আসছে বুচার শপ (Butcher Shop) নামে একটি অনলাইন সার্ভিস। প্রতিষ্ঠানটি কসাই সরবরাহ করা ছাড়াও নিজ ফার্মের গরু বিক্রি করছে। এই অনলাইনের মাধ্যমে কসাইদের সেবা নিতে হলে ঈদের দিন সকাল ১২টা পর্যন্ত গরুর দাম অনুযায়ী হাজারে ১৫০ টাকা দিতে হবে। ১২টার পর সেবা নিলে ১০০ টাকার মতো পড়বে। যারা শেয়ারে কোরবানি দিতে চান তারা ৫টি ক্যাটাগরিতে কোরবানি দিতে পারবেন। নির্দিষ্ট ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে ৫ পারসেন্ট ডিসকাউন্ট সুবিধা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. সুলাইমান হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এগারো বছর ধরে আমি বুচার শপ চালাই। আমার কাছে প্রায় ২২৫ জন দক্ষ কসাই-হেলপার আছে। আমরা ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিনের জন্য কসাই সাপ্লাই দিচ্ছি। ইশান ক্যাটেল ফার্ম নামে ফরিদপুরে আমার একটি ফার্মও আছে। অনলাইনের মাধ্যমে সেখানকার গরু বিক্রি করছি। সাথে সাথে কসাই সার্ভিসও দিচ্ছি। আমার ফার্মে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ গরুই সরকারি বিধি মেনে জবাইয়ের পর প্রসেসিং করে ক্রেতাদের বাসায় বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে।’ ০১৬১৫-১০০৫৪৪ নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে সেবা নেওয়া যাবে।
এ ছাড়া প্রফেশনাল কসাই সার্ভিস পেতে যোগাযোগ করতে পারেন অল সেবা লিমিটেড (All Sheba Limited)-এর পেইজে। এদের দক্ষ কসাই টিম সরাসরি আপনার বাসায় গিয়ে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ও দ্রুততম সময়ে মাংস কাটার দায়িত্ব পালন করবে। ০১৭৩৬-০১৬৪২২ নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে সেবা নেওয়া যাবে।
অপেশাদার কসাই দ্বারা মাংস বানাতে গিয়ে মাংসের শেইপ, সাইজ মনমতো তো হয়ই না বরং মাংস নষ্টও হয়ে যায় প্রায়ই। প্রশিক্ষিত কসাই দ্বারা বানানো মাংস হয় সাইজে ও আকৃতিতে অনন্য। এজন্য ভিজিট করুন বেঙ্গল মিটের অফিসিয়াল সাইটে : qurbani.bengalmeat.com
এ ছাড়া কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতিবছরই ঢাকার বাইরে থেকে বিপুল সংখ্যক কসাই রাজধানীতে ভিড় করেন। এদের মধ্যে পেশাদার ও মৌসুমিÑ দুই ধরনের কসাইই থাকেন। উত্তরবঙ্গ থেকে বেশি আসেন মৌসুমি কসাই, আর মেহেরপুর ও সৈয়দপুর থেকে আসেন অভিজ্ঞ পেশাদাররা। সাধারণত ঈদের এক-দুদিন আগেই তারা ঢাকায় পৌঁছে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করেন। শহরের বিভিন্ন মেস বা হোটেলে অস্থায়ীভাবে থাকেন তারা। ঈদের দিন ভোর থেকেই কোরবানি কার্যক্রমে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, এমনকি পরের দিনও অনেকের জন্য কাজ চালিয়ে যান। কাজ শেষে আবার নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান তারা।
পেশাদার মাংস শ্রমিকের চাহিদা বেশি। ওদের কাছে গেলে বেশি টাকা লাগে। তাই ‘এক দিনের কসাই’ দিয়েই কাজ করান অনেকে। ওদের দিয়ে কাজ করালে সময় লাগে বেশি। নিজেদেরও সহযোগিতা করতে হয়। দেশের চামড়া শিল্পের সবচেয়ে বড় জোগান আসে কোরবানির ঈদের পশু থেকে। কসাই দক্ষ না হলে চামড়া ছাড়ানোর সময়ে কেটে যায় এবং চামড়ার সঙ্গে মাংস রয়ে যায়। ফলে চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। কসাইয়ের কাজ যথাযথভাবে না জানার ফলে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক চামড়া নষ্ট হয়।