× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তাওয়াফ করার সঠিক পদ্ধতি

মাওলানা মুফতী রেজাউল করীম

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ১৫:২৭ পিএম

তাওয়াফ হলো কাবাঘরের চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করা   ছবি : সংগৃহীত

তাওয়াফ হলো কাবাঘরের চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করা ছবি : সংগৃহীত

তাওয়াফ হলো কাবাঘরের চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করা। হজ বা ওমরাহকারী তাওয়াফ করার নিয়ত করলে প্রথমেই মসজিদুল হারামে ডান পা দিয়ে প্রবেশের দোয়া পড়বেন। এরপর তাওয়াফ শুরু করার জন্য হাজরে আসওয়াদের দিকে এগিয়ে যাবেন।

তাওয়াফ শুরু করার আগেই ‘তালবিয়াহ’ পাঠ বন্ধ করে দেবেন। এরপর মনে মনে তাওয়াফের নিয়ত করবেন। প্রথমে ‘হাজরে আসওয়াদ’-এর কাছে যাবেন। এরপর ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে তাওয়াফ শুরু করবেন।

ভিড় দেখলে ধাক্কাধাক্কি না করে পাথর চুমু দেওয়া ছাড়াই ‘হাজরে আসওয়াদ’ থেকে তাওয়াফ শুরু করে দেবেন।

কাবাঘরের ‘হাজরে আসওয়াদ’-এর কোণ থেকে মসজিদে হারামের দেয়াল ঘেঁষে সবুজ বাতি দেওয়া আছে। এ রেখা বরাবর থেকে তাওয়াফ শুরু করে আবার এখানে চলে এলে তাওয়াফের এক চক্র (চক্কর) শেষ হবে। এভাবে সাত চক্র (চক্কর) পূর্ণ করতে হবে।

ভিড়ের পরিমাণ যদি আরও বেশি দেখতে পান এবং গ্রাউন্ড ফ্লোরে তাওয়াফ করা কঠিন মনে করেন তা হলে দোতলা বা ছাদের ওপর দিয়েও তাওয়াফ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সময় একটু বেশি লাগলেও ভিড়ের চাপ থেকে রেহাই পাবেন। ছাদের ওপর তাওয়াফ করলে দিনের প্রখর রৌদ্রতাপ ও প্রচণ্ড গরমে না গিয়ে রাতের বেলায় তাওয়াফ করবেন। স্মরণীয় যে, কাবাঘরকে বাঁপাশে রেখে তাওয়াফ করতে হয়।

প্রথম তিন চক্রে (প্রদক্ষিণে) পুরুষরা ছোট ছোট পদক্ষেপে দৌড়ের ভঙ্গিতে সামান্য একটু দ্রুতগতিতে চলতে চেষ্টা করবেন। আরবিতে এটাকে ‘রমল’ বলা হয়। বাকি চার চক্র সাধারণ হাঁটার গতিতে চলবেন। 

মক্কায় প্রবেশ করে প্রথম যে তাওয়াফটি করতে হয় শুধু এটাতেই প্রথম তিন চক্রের সময় রমলের এই বিধান। এরপর যতবার তাওয়াফ করবেন সেগুলোতে আর ‘রমল’ করতে হবে না। নারীদের রমল করতে হয় না।

তাওয়াফ শুরু করার সময় শরীরের ওপরাংশে পরিহিত চাদরের ডান অংশকে ডান বগলের নিচে দিয়ে নিয়ে বাঁ কাঁধের ওপর রেখে দেবেন। এটাকে ‘ইজতেবা’ বলা হয়। ‘ইজতেবা’ আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো ‘কাঁধ খোলা রাখা’। ইসলামে হজ ও ওমরাহর সময় তাওয়াফে এটি একটি বিশেষ সুন্নত আমল। ইজতেবা পালনের মাধ্যমে পুরুষরা ইহরামের চাদর এমনভাবে পরিধান করেন, যাতে ডান কাঁধ প্রকাশিত থাকে এবং বাঁ কাঁধ ঢেকে রাখা হয়। এটি মূলত তাওয়াফের সময় পালন করা হয়।

অনুরূপভাবে যে তাওয়াফের পর সাঈ নেই, সে তাওয়াফেও ইজতেবা করবেন না। নফল তাওয়াফের পর যেহেতু সাঈ নেই, তাই নফল তাওয়াফেও ইজতেবা হবে না। (ফতোয়া হিন্দিয়া ১/২২৫; আলমুগনি, ইবনে কুদামা ৫/২১৭)

কাবাঘরের চারটি কোণের মধ্যে একটি কোণের নাম হলো ‘রুকনে ইয়ামানি’। হাজরে আসওয়াদের কোণটিকে প্রথম কোণ ধরে তাওয়াফ শুরু করে এলে ‘রুকনে ইয়ামানি’ হবে চতুর্থ কোণ। এ ‘রুকনে ইয়ামানি’র পাশে এসে পৌঁছলে ভিড় না হলে এ কোণকে ডান হাত দিয়ে ছুঁতে চেষ্টা করবেন। কিন্তু সাবধান, এ রুকনে ইয়ামানিকে চুমু দেবেন না, এর পাশে এসে হাত উঠিয়ে ইশারাও করবেন না এবং সেখানে ‘আল্লাহু আকবার’ও বলবেন না। ‘আল্লাহু আকবার’ বলবেন হাজরে আসওয়াদে পৌঁছে। তাওয়াফ শুরু করবেন হাজরে আসওয়াদ থেকে এবং শেষও করবেন সেখানে গিয়েই।

রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে ‘রাব্বানা আতিনা ফিদদুন-ইয়া হাসানাহ...’ দোয়াটি পড়া মুস্তাহাব।

তাওয়াফের প্রতিটি চক্রেই হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা ও চুমু দেওয়া উত্তম। কিন্তু প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে এটি সম্ভব না হলে প্রতি চক্রেই হাজরে আসওয়াদের পাশে এসে এর দিকে মুখ করে ডান হাত উঠিয়ে ইশারা করবেন। ইশারাকৃত এ হাত চুম্বন করবেন না। ইশারা করার সময় একবার বলবেন ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’।

তাওয়াফরত অবস্থায় খুব বেশি বেশি জিকির, যেকোনো দোয়া ও তাওবা করতে থাকবেন। তাওয়াফের সাত চক্র শেষ হলে দুই কাঁধ ও বাহু ইহরামের কাপড় দিয়ে আবার ঢেকে ফেলবেন। অতঃপর মাকামে ইবরাহিমের পেছনে এসে দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন। সুন্নত হলো এ সালাতে সুরা ফাতিহা পড়ার পর প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়া।

এরপর জমজমের পানি পান করতে যাওয়া মুস্তাহাব। পান শেষে জমজমের কিছু পানি মাথার ওপর ঢেলে দেওয়া সুন্নত।

তাওয়াফ করার সময় যদি জামাতের ইকামত দিয়ে দেয় তখন সঙ্গে সঙ্গে তাওয়াফ বন্ধ করে দিয়ে নামাজের জামাতে শরিক হবেন এবং ডান কাঁধ ও বাহু চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলবেন। সালাত শেষে তাওয়াফের বাকি অংশ পূর্ণ করবেন।

লেখক : নায়েবে মুহতামিম, কালুপাড়া মাদরাসা, মাগুরা

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা