প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ১২:৫৪ পিএম
ক্যাম্পেইনের বিজয়ী পাঁচ সৌভাগ্যবান শিগগিরই যাচ্ছেন পবিত্র ওমরাহ পালন করতে
একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমানের জীবনে স্বপ্ন থাকে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করার। বাংলাদেশি বাস্তবতায় অনেকের সারা জীবনের সঞ্চয় খরচ করে হজ করতে যান। এ রকম চিন্তা থেকে নগদ ইসলামিক ওমরাহ প্যাকেজ নিয়ে একটি ক্যাম্পেইন করে। যে ক্যাম্পেইনের বিজয়ী পাঁচজন সৌভাগ্যবান শিগগিরই যাচ্ছেন পবিত্র ওমরাহ পালন করতে।
নগদের এই উদ্যোগ শুধু একটি ক্যাম্পেইন না, বরং এটি ধর্মীয় অনুভূতি, প্রযুক্তির সুবিধা এবং গ্রাহক সম্পৃক্ততার এক সুন্দর সমন্বয়। ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও শরিয়াহসম্মত করতে কাজ করা নগদ ইসলামিক এবার তাদের গ্রাহকদের জন্য এমন একটি সুযোগ নিয়ে এসেছে, যা অনেকের জীবনের স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দিয়েছে।
ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ, যা মুসলমানদের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে। অনেকের কাছে এটি শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা বা অন্যান্য কারণে অনেকেই এই ইবাদত পালনের সুযোগ পান না। সেই জায়গা থেকেই নগদ ইসলামিকের এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে ওমরাহ প্যাকেজ বিজয়ী ঢাকার অটোরিকশাচালক মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘মা অসুস্থ, ওষুধপত্র কেনার জন্য নগদ ইসলামিক অ্যাপ ব্যবহার করি। আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করতে যাব, এটা একটা পরম সৌভাগ্য।’
এই ক্যাম্পেইনের ফলে নগদ ইসলামিকের গ্রাহকদের মধ্যে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহারে আগ্রহ আরও বেশি বেড়েছে, পাশাপাশি তাদের মধ্যে একটি ইতিবাচক উৎসাহও তৈরি হয়েছে। ওমরাহ প্যাকেজ বিজয়ীরা বিশ্বাসই করতে পারেননি তারা ওমরাহ প্যাকেজ বিজয়ী হয়েছেন। যেমন ঢাকার কাফরুল এলাকার ঠিকাদার মো. শাহজাহান। তার কাছে যখন উপহার পৌঁছে দিতে নগদ ইসলামিকের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা যান, তখন তিনি তার কাজ করছিলেন পাশের একটি ভবনে। এ সময় ওমরাহ প্যাকেজ বিজয়ী হওয়ার কথা শুনে তিনি কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি ছাড়াও লালমনিরহাটের মো. মানিক, খুলনার আলী আকবর শেখ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. রেদোয়ান হোসেন ওমরাহ প্যাকেজ বিজয়ী হিসেবে শিগগরিই পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফে যাচ্ছেন।
ওমরাহ প্যাকেজ বিজয়ীদের প্রসঙ্গে নগদ ইসলামিক শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচএম শহীদুল ইসলাম বারাকাতি বলেন, ‘নগদ ইসলামিকের এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে পাঁচজন মুসলমান ভাই পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করতে পারছেন, এটার জন্য আমরা অনেক আনন্দিত।’
এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি গ্রাহকদের সঙ্গে নগদের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তুলেছে। শুধু একটি আর্থিক সেবাপ্রদানকারী হিসেবে নয়, বরং একটি সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে নগদ। ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে এমন একটি ক্যাম্পেইন চালু করা বর্তমান সময়ে বেশ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত করছেন অনেকে।
ক্যাম্পেইনের বিজয়ীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া করা, মসজিদে নববীতে নামাজ আদায় করা; এই অনুভূতিগুলো ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
সব মিলিয়ে নগদ ইসলামিকের এই ক্যাম্পেইন একদিকে যেমন গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে এটি ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি নিঃসন্দেহে দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবা খাতে একটি প্রশংসনীয় সংযোজন।
নগদ ইসলামিক ওয়ালেট ব্যবহারকারী তার অ্যাকাউন্ট থেকে ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা লেনদেন করলেই এই ক্যাম্পেইনটির জন্য বিবেচিত হয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে পারসন টু পারসন (পি টু পি) লেনদেন গণ্য হবে না। অর্থাৎ পি টু পি ছাড়া অন্যান্য মাধ্যমে মোট ৩ হাজার টাকা লেনদেন করলেই গ্রাহক ক্যাম্পেইনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে পাঁচজন সৌভাগ্যবান বিজয়ী জিতে নেন নগদের ওমরাহ প্যাকেজ।
এর আগেও কয়েকবার নগদ ইসলামিকের প্যাকেজ জিতে মক্কা ও মদিনা সফর করেছেন বেশ কয়েকজন সৌভাগ্যবান।